জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইন্টারনেট শাটডাউন ও হত্যাযজ্ঞের বিচার: জয়-পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ২১: ২৩
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।

বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাঁর জবানবন্দি ও আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন হয়।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ ও গাজী এম এইচ তামিম।

জবানবন্দিতে তানভীর হাসান জোহা ইন্টারনেট বন্ধের প্রক্রিয়া এবং সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণের প্রযুক্তিগত ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন। জবানবন্দি শেষে তিনি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার মুখে পড়েন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো এবং পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম তাঁকে জেরা করেন।

জেরার জবাবে জোহা জানান, সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কল রেকর্ড জব্দ করা হয়েছে, যেখানে অপর প্রান্তের ব্যক্তি হিসেবে পলকের কণ্ঠস্বর রয়েছে। এ মামলার সব অডিওর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) তাদের নিজস্ব সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ড সরবরাহ করেছে। জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

আদালত শেষে তানভীর হাসান জোহা সাংবাদিকদের জানান, এলাকাভিত্তিক ইন্টারনেট শাটডাউন কীভাবে কার্যকর হয়েছিল, তা লাইভ সিস্টেমের লগের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ সুনির্দিষ্ট এলাকায় ধাপে ধাপে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। এমনকি ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ ও গুগল বন্ধের নির্দেশ ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, এনটিএমসি থেকে জব্দ করা ‘গ্যাং অব ফোর’-এর অডিও রেকর্ড এবং ভয়েস ডেটার অডিট লগ আদালতে পেশ করা হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা তখন দেশের বাইরে থাকায় যোগাযোগ মূলত অনলাইনে হয়েছে। জব্দ করা ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে এবং কিছু টেক্সট ও ভয়েস মেসেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। জোহার মতে, উচ্চপর্যায়ের কমান্ড স্ট্রাকচার ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ২১ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আহত ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন সাক্ষীর তালিকা জমা দিয়েছে।

সম্পর্কিত