সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনা: ভেতরে থাকা অর্ধেক শ্রমিকের খোঁজ নেই

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের একটি জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে প্রাণ গেছে ৯ শ্রমিকের। স্ট্রিম ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে প্রাণ গেছে ৯ শ্রমিকের। অসুস্থ ছয়জনকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। তবে ওই জাহাজে থাকা আরও ১৫ শ্রমিকের খোঁজ মিলছে না।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে স্ট্রিমকে জানান, কারখানা, প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ওই দুর্ঘটনার সময় জাহাজের ভেতর ছিলেন ৩০ জন। তাঁদের ১৫ জন হতাহত। বাকিদের অবস্থানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাচ্ছেন না।

তবে সবাই নিখোঁজ– এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, তারা নিরাপদে কারখানার বাইরে বের হয়ে যেতে পারেন। উদ্ধার অভিযান চলছে। যদিও জাহাজের ভেতরে ঢোকা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এর আগে দুর্ঘটনার পর ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, শ্রমিকরা কাজ করার সময় ইয়ার্ডের নিরাপত্তা দলের সদস্যরা একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজের খবর দেন। পরে গ্যাসের উৎস পরীক্ষা করতে গেলে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার শোনা যায়। পরে অসুস্থ কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গ্যাসের তীব্র গন্ধ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল জানিয়ে এক বাসিন্দা বলেন, সকালে দুটি নৌকা সাগর থেকে মাছ ধরে উপকূলে ফিরছিল। তবে গ্যাসের তীব্র গন্ধের কারণে তাঁরা কারখানার পাশের খালে ঢুকতে পারেননি। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়াতে হয়।

এদিকে, জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা কারখানাটিতে ঢুকে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুরের পর সেখানে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের একটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ধার কাজে সহায়তা করবেন।

কী ছিল জাহাজে

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেই জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি আগে এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করার নিয়ম। কিন্তু জাহাজটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়েই এখন মূল প্রশ্ন।

তিনি আরও জানান, এই ধরনের জাহাজের কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকতে পারে। এসব গ্যাসের উপস্থিতি থাকলে জাহাজের ভেতরে ঢোকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তৌফিকুল ইসলামের ভাষ্য, কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও দুর্বল ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত