স্ট্রিম সংবাদদাতা

ঢাকার দোহার উপজেলার নুরুল্লাহপুরে চার শতাধিক বছরের পুরোনো গ্রামীণ মেলা নিরাপত্তার অজুহাতে অনুমতি দেয়নি জেলা প্রশাসন। এতে দূর-দূরদূরান্ত থেকে পণ্যের পসরা নিয়ে মেলার প্রাঙ্গণে আসার পরও ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে। অনেকে মেলার মাঠে নিজেদের জিনিসপত্র গুটিয়ে রেখেছেন, অনুমিত না পাওয়ায় সেগুলো বিক্রির জন্য স্টল সাজাতে পারছেন না।
মেলা বসতে না দেওয়ায় আর্থিক ভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দোহারের করিমগঞ্জ এলাকার একজন ক্ষুদ ব্যবসায়ী মো. দুলাল বলেন, ‘শিশু খেলনা ও সাজসজ্জার জিনিস নিয়ে গত দুদিন আগে মেলার মাঠে এসেছি, কিন্তু মেলার আয়োজক কমিটির অনুমতি না পাওয়ায় মালামাল নিয়ে মাঠে অবস্থান করছি। যদি অনুমতি না মিলে কিস্তি নিয়ে জিনিসপত্র কিনেছি, সেই কিস্তির দায় নিবে কে?’
ঢাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ জেলার ব্যবসায়ীরা আসেন নুরুল্লাহপুরের মেলায়। শরীয়তপুর থেকে দ–বঁটি নিয়ে মেলা এলাকায় আসা জমসেদ আলী জানান, ‘এখানে আসতে গাড়ি ভাড়া লেগেছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রতিদিন খাবার বাবদ আরও খরচ হচ্ছে। এখন যদি মেলা না করতে পারি, তাহলে বেচাবিক্রি না করেই আবার ফিরে যেতে হবে আমাদের।’ তিনি বলেন, ‘আমার আরও এক মাস আগে থেকে মেলার প্রস্তুতি শেষ করেছি। এখন মেলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, এবার মেলায় কোনো ধরনের দোকান বসানোর অনুমতি নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও পীরের ভক্তানুরাগীরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর মাঘী পূর্ণিমার দিনে উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া গ্রামের নুরুল্লাহপুরে হযরত শালাল শাহ্ দরবারে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশ থেকে তাঁর ভক্ত অনুরাগীরা আসেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রোববার (৩১ জানুয়ারি) ৪১৮তম ওরস হওয়া কথা। শালাল শাহ ছাড়াও তাঁর বংশে সাতজন দরবার প্রতিষ্ঠা করে ওরস করে থাকেন। একে কেন্দ্র করে ১০-১৫ দিন ধরে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে গ্রামীণ মেলা বসে।
মেলার আয়োজক সাতটি দরবারের একটির অভিভাবক নাম না প্রকাশের শর্তে স্ট্রিমকে জানান, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর তাঁরা ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে দেখা করে ওরস ও মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে ছিলেন। তবে ডিসি তাঁদের ওরসের করতে বললেও মেলার আয়োজনের মানা করেন।
ওই আয়োজক বলেন, কয়েকশ বছরের মেলার ধারাবাহিকতায় তাঁরা মনে করেছিলেন, ওরসের আগে মেলার অনুমতি পাওয়া যাবে। তবে সম্প্রতি দোহার থানা কর্তৃপক্ষ থেকে মেলা বসতে প্রশাসনিক বাধার কথা জানায়। এখন মেলার মাঠ এলাকায় পুলিশ পাহারাও বসানো হয়েছে।
নুরুল্লাহপুর মেলা মাঠে আসা কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, সাতটি দরবারে ধামাইল উৎসব কেন্দ্র করে ওই এলাকায় প্রায় ১০-১৫ দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলা বসে। মেলা উপলক্ষে এক-দুই মাস আগেই থেকেই প্রস্তুতি নেন আশপাশের জেলা-উপজেলার ক্ষুদ্র মনিহারী, বিন্নি-বাতাসা, নিমকি-চানাচুর, মিষ্টি, কাপড়, মৃৎ শিল্প, বাঁশ-বেতের তৈজস, আসবাবসহ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এ জন্য ধামাইলের প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে মেলার নানা অনুষঙ্গ নিয়ে নুরুল্লাহপুরে আসেন তাঁরা। এখানে বিক্রির আয় থেকে বছরের প্রায় ৬ মাসের খাবারের জোগাড় করে থাকেন।
মেলার মাঠে কথা হয় কার্তিকপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুবায়দুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলায় মাঠে কোনো ধরনের দোকান না বসানোর জন্য বলা হয়েছে। সেই মোতাবেক আমরা কাজ করছি।’
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘মেলার অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসক। নির্বাচনের কারণে এ বছর মেলার অনুমতি দেয়নি। তবে নুরুল্লাহপুরের যে ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, সেটি ঠিকঠাক মতো করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা থাকবে।’
ধর্মীয় অধিকার ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর আঘাত
গ্রামীণ মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক উদয় শংকর বিশ্বাস স্ট্রিমকে বলেন, ‘দেশের একটা অংশ অনেক দিন ধরেই চায় না মানুষের দেখা হোক, বিভিন্ন কিছু নিয়ে কথাবার্তা হোক। তারা একটা নতুন এক ধরনের কথাবার্তা বলছে যে অধিকাংশ মেলার সাথে ধর্মকৃত্য যুক্ত। কোনো একটা তিথি, নক্ষত্র ধরে মেলাগুলো হয়ে আসছে। যার ফলে এই জায়গাগুলো বোঝানো সহজ হচ্ছে, “তোমরা যদি এই মেলায় অংশ নাও, তাহলে এই মনোভাবাপন্ন তৈরি হবে।”’
মেলার সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে উদয় শংকর বলেন, ‘আমরা মেলা সার্ভে করে দেখেছি, আমাদের গ্রামীণ মেলাগুলো যত জায়গাজুড়ে হতো, সেই জায়গাটা কিন্তু এখন আর নেই। যারা ব্যবসায়ী মেলাকেন্দ্র করে তাদের একটা প্রস্তুতি থাকে সারা বছরের। তারা কোথায় কোথায় মেলা করবেন, এটার মধ্যদিয়ে তাদের সংসার নির্ভরের একটা বিষয় থাকে। উপার্জন যখন সে করতে পারছে না, তখন কিন্তু সে আর এগোতে পারছে না। দেখবেন বাংলাদেশের মেলার একটা বড় মৃৎশিল্প। খুব দ্রুত আমাদের বাংলাদেশ থেকে এরকম একটা ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা কিন্তু হারিয়ে যাবে চোখের নিমিষেই।’
ওরস ও গ্রামীণ মেলা একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে কবি ও চিন্তক মোহাম্মদ রোমেল বলেন, ‘প্রথমত বাংলাদেশে যে কালচার, কোনো অলি-আউলিয়ার মাজারে তাঁর ভক্তরা প্রতি বছর একটা বিশেষ দিনে ওরস করে। যেটা তাঁর রিলিজিয়াস রাইটস, তাঁর জন্য এটা ফেস্টিভ্যাল, স্মৃতি রক্ষা, জ্ঞান রক্ষার অংশ। যেটা দীর্ঘদিন ধরে এই দেশের ঐতিহ্য। দ্বিতীয়ত মেলার সঙ্গে ভক্তদের বা ওই গ্রামের আশপাশের প্রচুর লোকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এটা যুক্ত। কারণ, এই ওরসগুলো কেন্দ্র করে ছোট ছোট মেলা হয়, ছোট ছোট দোকান হয়। ওরস আর এই মেলা একটা আরেকটার সাথে যুক্ত।’
মাজার রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে মোহাম্মদ রোমেল বলেন, ‘মেলার সাথে গরীব মানুষের যে উপার্জন, গ্রামের যে অর্থনীতি, সেটারও সারভাইভাল কোশ্চেন। যদি প্রশাসন এইটা না বোঝে, তাহলে এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমি মনে করি, এটা গ্রামীণ অর্থনীতির ওপরে আঘাত শুধু না, এইটা আসলে ইনডিরেক্টলি ওরসের ওপরও আঘাত। ওরসের উপর আঘাত মানে আপনার ভিন্ন মত, ভিন্ন চিন্তা বা ভিন্ন ধর্ম, সারা পৃথিবীতে স্বীকৃত যে ধর্মীয় অধিকার তার প্রতিও এক ধরনের বাধা তৈরি করা। এইটা কাম্য নয়।’

ঢাকার দোহার উপজেলার নুরুল্লাহপুরে চার শতাধিক বছরের পুরোনো গ্রামীণ মেলা নিরাপত্তার অজুহাতে অনুমতি দেয়নি জেলা প্রশাসন। এতে দূর-দূরদূরান্ত থেকে পণ্যের পসরা নিয়ে মেলার প্রাঙ্গণে আসার পরও ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে। অনেকে মেলার মাঠে নিজেদের জিনিসপত্র গুটিয়ে রেখেছেন, অনুমিত না পাওয়ায় সেগুলো বিক্রির জন্য স্টল সাজাতে পারছেন না।
মেলা বসতে না দেওয়ায় আর্থিক ভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দোহারের করিমগঞ্জ এলাকার একজন ক্ষুদ ব্যবসায়ী মো. দুলাল বলেন, ‘শিশু খেলনা ও সাজসজ্জার জিনিস নিয়ে গত দুদিন আগে মেলার মাঠে এসেছি, কিন্তু মেলার আয়োজক কমিটির অনুমতি না পাওয়ায় মালামাল নিয়ে মাঠে অবস্থান করছি। যদি অনুমতি না মিলে কিস্তি নিয়ে জিনিসপত্র কিনেছি, সেই কিস্তির দায় নিবে কে?’
ঢাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ জেলার ব্যবসায়ীরা আসেন নুরুল্লাহপুরের মেলায়। শরীয়তপুর থেকে দ–বঁটি নিয়ে মেলা এলাকায় আসা জমসেদ আলী জানান, ‘এখানে আসতে গাড়ি ভাড়া লেগেছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। প্রতিদিন খাবার বাবদ আরও খরচ হচ্ছে। এখন যদি মেলা না করতে পারি, তাহলে বেচাবিক্রি না করেই আবার ফিরে যেতে হবে আমাদের।’ তিনি বলেন, ‘আমার আরও এক মাস আগে থেকে মেলার প্রস্তুতি শেষ করেছি। এখন মেলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, এবার মেলায় কোনো ধরনের দোকান বসানোর অনুমতি নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও পীরের ভক্তানুরাগীরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর মাঘী পূর্ণিমার দিনে উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া গ্রামের নুরুল্লাহপুরে হযরত শালাল শাহ্ দরবারে ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশ থেকে তাঁর ভক্ত অনুরাগীরা আসেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রোববার (৩১ জানুয়ারি) ৪১৮তম ওরস হওয়া কথা। শালাল শাহ ছাড়াও তাঁর বংশে সাতজন দরবার প্রতিষ্ঠা করে ওরস করে থাকেন। একে কেন্দ্র করে ১০-১৫ দিন ধরে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে গ্রামীণ মেলা বসে।
মেলার আয়োজক সাতটি দরবারের একটির অভিভাবক নাম না প্রকাশের শর্তে স্ট্রিমকে জানান, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর তাঁরা ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে দেখা করে ওরস ও মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে ছিলেন। তবে ডিসি তাঁদের ওরসের করতে বললেও মেলার আয়োজনের মানা করেন।
ওই আয়োজক বলেন, কয়েকশ বছরের মেলার ধারাবাহিকতায় তাঁরা মনে করেছিলেন, ওরসের আগে মেলার অনুমতি পাওয়া যাবে। তবে সম্প্রতি দোহার থানা কর্তৃপক্ষ থেকে মেলা বসতে প্রশাসনিক বাধার কথা জানায়। এখন মেলার মাঠ এলাকায় পুলিশ পাহারাও বসানো হয়েছে।
নুরুল্লাহপুর মেলা মাঠে আসা কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, সাতটি দরবারে ধামাইল উৎসব কেন্দ্র করে ওই এলাকায় প্রায় ১০-১৫ দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলা বসে। মেলা উপলক্ষে এক-দুই মাস আগেই থেকেই প্রস্তুতি নেন আশপাশের জেলা-উপজেলার ক্ষুদ্র মনিহারী, বিন্নি-বাতাসা, নিমকি-চানাচুর, মিষ্টি, কাপড়, মৃৎ শিল্প, বাঁশ-বেতের তৈজস, আসবাবসহ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এ জন্য ধামাইলের প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে মেলার নানা অনুষঙ্গ নিয়ে নুরুল্লাহপুরে আসেন তাঁরা। এখানে বিক্রির আয় থেকে বছরের প্রায় ৬ মাসের খাবারের জোগাড় করে থাকেন।
মেলার মাঠে কথা হয় কার্তিকপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুবায়দুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলায় মাঠে কোনো ধরনের দোকান না বসানোর জন্য বলা হয়েছে। সেই মোতাবেক আমরা কাজ করছি।’
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘মেলার অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসক। নির্বাচনের কারণে এ বছর মেলার অনুমতি দেয়নি। তবে নুরুল্লাহপুরের যে ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, সেটি ঠিকঠাক মতো করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা থাকবে।’
ধর্মীয় অধিকার ও গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর আঘাত
গ্রামীণ মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক উদয় শংকর বিশ্বাস স্ট্রিমকে বলেন, ‘দেশের একটা অংশ অনেক দিন ধরেই চায় না মানুষের দেখা হোক, বিভিন্ন কিছু নিয়ে কথাবার্তা হোক। তারা একটা নতুন এক ধরনের কথাবার্তা বলছে যে অধিকাংশ মেলার সাথে ধর্মকৃত্য যুক্ত। কোনো একটা তিথি, নক্ষত্র ধরে মেলাগুলো হয়ে আসছে। যার ফলে এই জায়গাগুলো বোঝানো সহজ হচ্ছে, “তোমরা যদি এই মেলায় অংশ নাও, তাহলে এই মনোভাবাপন্ন তৈরি হবে।”’
মেলার সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে উদয় শংকর বলেন, ‘আমরা মেলা সার্ভে করে দেখেছি, আমাদের গ্রামীণ মেলাগুলো যত জায়গাজুড়ে হতো, সেই জায়গাটা কিন্তু এখন আর নেই। যারা ব্যবসায়ী মেলাকেন্দ্র করে তাদের একটা প্রস্তুতি থাকে সারা বছরের। তারা কোথায় কোথায় মেলা করবেন, এটার মধ্যদিয়ে তাদের সংসার নির্ভরের একটা বিষয় থাকে। উপার্জন যখন সে করতে পারছে না, তখন কিন্তু সে আর এগোতে পারছে না। দেখবেন বাংলাদেশের মেলার একটা বড় মৃৎশিল্প। খুব দ্রুত আমাদের বাংলাদেশ থেকে এরকম একটা ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা কিন্তু হারিয়ে যাবে চোখের নিমিষেই।’
ওরস ও গ্রামীণ মেলা একটা আরেকটার সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে কবি ও চিন্তক মোহাম্মদ রোমেল বলেন, ‘প্রথমত বাংলাদেশে যে কালচার, কোনো অলি-আউলিয়ার মাজারে তাঁর ভক্তরা প্রতি বছর একটা বিশেষ দিনে ওরস করে। যেটা তাঁর রিলিজিয়াস রাইটস, তাঁর জন্য এটা ফেস্টিভ্যাল, স্মৃতি রক্ষা, জ্ঞান রক্ষার অংশ। যেটা দীর্ঘদিন ধরে এই দেশের ঐতিহ্য। দ্বিতীয়ত মেলার সঙ্গে ভক্তদের বা ওই গ্রামের আশপাশের প্রচুর লোকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এটা যুক্ত। কারণ, এই ওরসগুলো কেন্দ্র করে ছোট ছোট মেলা হয়, ছোট ছোট দোকান হয়। ওরস আর এই মেলা একটা আরেকটার সাথে যুক্ত।’
মাজার রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে মোহাম্মদ রোমেল বলেন, ‘মেলার সাথে গরীব মানুষের যে উপার্জন, গ্রামের যে অর্থনীতি, সেটারও সারভাইভাল কোশ্চেন। যদি প্রশাসন এইটা না বোঝে, তাহলে এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমি মনে করি, এটা গ্রামীণ অর্থনীতির ওপরে আঘাত শুধু না, এইটা আসলে ইনডিরেক্টলি ওরসের ওপরও আঘাত। ওরসের উপর আঘাত মানে আপনার ভিন্ন মত, ভিন্ন চিন্তা বা ভিন্ন ধর্ম, সারা পৃথিবীতে স্বীকৃত যে ধর্মীয় অধিকার তার প্রতিও এক ধরনের বাধা তৈরি করা। এইটা কাম্য নয়।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে সাংবাদিকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন চালু করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে এ পদ্ধতি থেকে সরে আসে ইসি। কিন্তু এরমধ্যে নিবন্ধন করা প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর পূর্ব রামপুরা থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় হাসান ভূঁইয়া (৪৩) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি অভিন্ন ও স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছিল, সরকার তা উপেক্ষা করেছে। পরিবর্তে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি পৃথক কমিশন গঠনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যার প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে সরকারি কর্তৃত্বাধীন।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিকটন গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে জাহাজ।
৩ ঘণ্টা আগে