আম পেড়ে খাওয়ায় শিক্ষার্থীদের গলায় জুতার মালা: সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১২: ৫৬
চুরির অপবাদে শিক্ষার্থীদের শাস্তির প্রতীকী দৃশ্য। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি

বগুড়ায় বিদ্যালয়ের গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ায় তিন শিক্ষার্থীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে বিদ্যালয়ে ঘোরানোর ঘটনায় সেই শিক্ষিকা গোল সাহানারা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

বুধবার (৬ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌসের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জারির দিন থেকেই বরখাস্ত কার্যকর হবে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকা একটি আমগাছ থেকে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী এবং চতুর্থ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী দুটি করে আম পেড়ে খায়। এ ঘটনার পরদিন ২৯ এপ্রিল প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারা ওই তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। একই সঙ্গে তাদের পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় ঘোরানো হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় গত ৩ মে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরদিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ১২ (১) অনুযায়ী জনস্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ নিয়ে তদন্ত করে জেলায় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে তা বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, এটি প্রাথমিক ব্যবস্থা। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত