জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ১২

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৩০
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গ্রেপ্তারদের একাংশ

সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় আজ সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. রাসেল। সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশসহ সাড়ে ৩ হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন এবং এতে বেশ কয়েকটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (৯ মার্চ) বেলা সকাল ১১টার দিকে অভিযান থেকে ফিরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের জানান, অভিযান বিকেল পর্যন্ত চলবে।

পাহাড়ি ও দুর্গম এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অবৈধ অস্ত্র মজুত এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তার মধ্যে র‌্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব ভূঁইয়া হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই মামলার অন্যতম আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন ও তাঁর সহযোগীরা।

জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান
জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান

সূত্র জানায়, অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। আরেকটি দল পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগে থেকেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান শুরুর খবর পেয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে যেতে না পারে।

অভিযান প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।

অভিযানে অংশ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য
অভিযানে অংশ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য

তিনি আরও বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কটির আশপাশে সেনাবাহিনী বেশ কয়েকটি সাজোয়া যান অবস্থান করছে। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশমুখে অবস্থান রয়েছে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘এখন থেকে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি ক্যাম্প থাকবে। যাতে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করতে না পারে।’

সম্পর্কিত