জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সীতাকুণ্ডে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গলা কাটে প্রতিবেশী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ২২: ৫৮
আটক বাবু শেখ। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গলা কাটা অবস্থায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া কন্যাশিশুটি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গেছে। ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিবেশী বাবু শেখ তাকে গলা কেটে হত্যা করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুটিকে মৃত ভেবে পাহাড়ের খাদে ফেলে রেখে যান তিনি। পরে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন ওই ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও অভিযুক্ত বাবু শেখের পরিবার পাশাপাশি বসবাস করত এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই সূত্র ধরে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের ধারণা।

এর আগে রোববার চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিয়ে যান বাবু শেখ। সেখানে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটির চিৎকারে ব্যর্থ হয়ে ছুরি দিয়ে তার শ্বাসনালি কেটে দেওয়া হয়। পরে তাকে মৃত ভেবে পাহাড়ের খাদে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

সেদিন সকালে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার সহস্রধারা ঝরনার উত্তরে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন শিশুটির মা অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। পুলিশ জানায়, ইকোপার্ক ও চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজের সূত্র ধরে মঙ্গলবার সকালে কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির জুতা, সালোয়ার ও চকলেটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির শ্বাসনালি কাটা ছিল। অস্ত্রোপচারের পর সাময়িকভাবে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে তা অবনতি ঘটে। তাকে নাক-কান-গলা ওয়ার্ড থেকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে নেওয়া হয়। শারীরিক দুর্বলতার কারণে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ পুরোপুরি সম্ভব হয়নি, তবে সম্ভাব্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তখন রক্তক্ষরণ হয়। আর তার ক্ষতটা অনেক গভীরে ছিল। ভোকাল কর্ড কেটে ফেলছে। রাতে শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মারা যায়।

সম্পর্কিত