ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শিশু গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৩৬
ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ। সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টসের ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসা কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক শিশু গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার এনায়েত নগর শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে ফতুল্লা থানা।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন ইমরান (১১), এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩) ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক (৪০)। তাদের মধ্যে শিশু ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাকিবকেও ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে বলে সন্ধ্যায় জানান তাঁর বাবার।

স্থানীয়রা জানান, চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার সঙ্গে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর থেকে ঝুটের ব্যবসা করছিলেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী সালাম। তবে সম্প্রতি কারখানাটির ঝুট কেনা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে যুবদলের অভি-মনির গ্রুপের। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি ফারুক মন্ডলের নেতৃত্বে একদল অনুসারী সেখানে হামলা চালায়। এতে বিরোধে জড়ান আরেক ঝুট ব্যবসায়ী ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল মাহমুদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে অভি গ্রুপের কয়েকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় ওয়ার্ড বিএনপির নেতার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ একই এলাকায় ঢুকে গুলি ছুড়লে শিশু ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এনায়েতনগর ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জানান, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী চাঁদনী হাউজিং এলাকায় পৌঁছান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অভি, মনির, সুমন, জসিমসহ ২০-৩০ জন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান, কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তিনি জানান।

চাঁদনী হাউজিং এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ রাকিব বলেন, ‘আমি ইটের ব্যাবসা করি, আমি সেখানে ইট নামাচ্ছিলাম। এসময় মশিউর রহমান রনি, আরিফ, অভিসহ কয়েকজন আমাকে গুলি করে, মাথায় কোপ দিয়েছে।’

রাকিবের বাবা ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সাংগঠনিক সম্পাদক খোকা বলেন, ‘পাগলা হামিদ, অভি ও মশিউর রহমান রনির লোকজন পিস্তল দিয়ে আমাকে গুলি করতে চেয়েছিল। সেই গুলি আমার ছেলের গায়ে লাগে। তাকে কোপ দিয়েছে। আমার ভাগিনা দুই নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও কৃষকদলের নেতা, তাকেও মারধর করেছে।’

জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম না। সেখানে যাইনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে জড়িয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে।’

ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘আমি গেছি দুই পক্ষের মধ্যেকার ঝামেলা কথা বলে শেষ করতে। গুলি ছোড়ার অভিযোগ মিথ্যা।’

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। ঝুট নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সম্পর্কিত