সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা সরকারের নীতি নয়: তথ্যমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৪০
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি: পিআইডি
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি: পিআইডি

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বাধাবিঘ্ন হোক– সরকারের তরফ থেকে এমন মানসিকতা নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেন, কনসার্ট বাতিল মানেই সরকার সহযোগিতা করল না, তা নয়। হয়তো নিরাপত্তা ইস্যু ছিল। বাংলাদেশে অনেক কনসার্ট হচ্ছে। বড় বড় কনসার্ট হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় এই বিষয়ে ‘ড্রামাটিক্যালি’ উন্নতি হয়েছে। তবে দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না, সে কথা তিনি অস্বীকার করেননি।

কোথাও কোথাও কনসার্ট বন্ধ করা নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের তরফ থেকে এই ধরনের মানসিকতা নেই যে, কালচারাল কোনো ব্যাপারে বাধাবিঘ্ন হয়, এমন কিছু। এ ধরনের চিন্তা শেয়ার করি না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনাকে সরকারের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা থাকলে অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিল হতে পারে। তবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কোনো নীতিগত অবস্থান সরকারের নেই।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে বসবাস করবে, সেটি সমাজই নির্ধারণ করবে। কিছু মানুষ মাঝে মাঝে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তবে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

এ সময় ডা. জাহেদ বলেন, আমরা একমত সবাই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ধরনের ঘটনা যত ঘটেছে, তার তুলনায় কিছুই হচ্ছে না এখন। অ্যাম আই রং? আমি যদি তুলনা করি, ৫ আগস্ট–পরবর্তী বাংলাদেশ যে জায়গায় চলে গিয়েছিল, এই সরকারের সময় সিগনিফিকেন্টলি বললে কম বলা হবে, ড্রামাটিক্যালি ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। তবে দু–একটা ঘটনা যে ঘটছে না, তা নয়।

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার

সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকার চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক একটা রিয়েল এক্সপেরিয়েন্স আছে কমব্যাট সিচুয়েশনে। ভারত-পাকিস্তানে যখন যুদ্ধ হচ্ছে, ভারতের ডেসল রাফাল ডাউন হয়েছিল, সেটা করেছিল চাইনিজ জে-১০। এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং চায়নার তৈরি একটা মাল্টিরোল ফাইটার, এখন রাফালকে বলা হয় ৪.৫ জেনারেশনের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটারগুলোর একটা। তার সঙ্গে কমব্যাট সিচুয়েশনে খুবই ভালো করেছে। সো, বাংলাদেশ সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং আশা করা যায়, আমরা এই পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: পিআইডি
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: পিআইডি

ইউরোপিয়ানের তুলনায় চীনের তৈরি যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলক কম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একটি কথা বলে রাখা ভালো– সিমিলার কোয়ালিটির রাফাল বলি বা ইউরো ফাইটার টাইফুন বলি, ইউরোপিয়ান ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় চাইনিজ ফাইটারগুলোর দাম তুলনামূলক অনেক কম।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমাদের সরকার জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সব রকম পদক্ষেপ নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত