খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যায় চার ছাত্রসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
স্ট্রিম সংবাদদাতাখুলনা

খুলনা নগরের একটি ছাত্রমেসে ‘ভাত চুরি’ করে খাওয়ার অপবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত মো. আজমুল হোসেনের (২১) বাবা মো. কুতুব উদ্দিন গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনার হরিণটানা থানায় হত্যা মামলাটি করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রাতেই ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা মেসে এই ঘটনা ঘটে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনের ওই মেসের ছাদে আজমুলকে মারধরের পরে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
আজমুল হোসেন (২১) খুলনা নগরীর বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিন ও আসমা বেগমের ছেলে। দুই ছেলের মধ্যে তিনি বড়। মেসে আজমুলের পাশের কক্ষে থাকেন গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও মেসের ম্যানেজার মেহেদী।
ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, আজমুল যে মেসভবনে থাকতেন, সেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে আজমুলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। বিভিন্ন সময় অনেকের জামা, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তবে আজমুলের হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবারের ঘটনায় মেস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়রা বলেন, খাবারের জন্য মিল না দিয়েও শুক্রবার রাতে মেসের একজনের ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। পরে তার বিরুদ্ধে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগতরা তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন। পরে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে গিয়ে গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন।
এদিকে আহত অবস্থায় আজমুলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান মেসের ছাত্ররা। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করলে জরুরি বিভাগের সামনে থেকে ওই ছাত্ররা দ্রুত চলে যান বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন গতকাল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাত একটার দিকে কয়েকজন ছেলে কল করে তাকে বলে— আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে, এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে। এরপর তিনি খুলনা এসে প্রথমে মেসে যান। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান।
.png)






