leadT1ad

জাতিসংঘের প্রতিবেদন

দাবদাহে বছরের ৯ মাসই কৃষিকাজ অসম্ভব হতে পারে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৮: ১৫
ঢাকায় এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত তাপপ্রবাহ ঘটে বেশি। স্ট্রিম গ্রাফিক

তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিখাত ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে, ভবিষ্যতে বছরের ২৫০ দিন (প্রায় ৯ মাস) পর্যন্ত কৃষকদের পক্ষে মাঠে কাজ করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।

সম্প্রতি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে ‘চরম তাপ ও কৃষি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলবায়ু পূর্বাভাস ফোরাম (আশিয়ানকফ) ২০২৬ সালের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বুলেটিনও প্রকাশ করা হয়।

উভয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এখন কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং মানুষের জীবন-জীবিকা এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।

এফএও সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, বিশেষ করে কৃষকদের জন্য ভবিষ্যতে কায়িক শ্রম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়।

পশুপালন ও মৎস্যখাতে বাড়ছে চাপ

প্রতিবেদনে বলা হয়, তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেই গবাদিপশুর মধ্যে ‘হিট স্ট্রেস’ শুরু হয়। বিশেষ করে মুরগির মতো প্রাণী, যারা ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা করতে পারে না। অতিরিক্ত গরমে তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

ধান ও গমের মতো প্রধান ফসলের ক্ষেত্রে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা উৎপাদনশীলতার জন্য বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। ফলে ফলন দ্রুত কমে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, যা মাছের বৃদ্ধির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে দুর্যোগ

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র ‘এল নিনো’ এই পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে আবহাওয়া আরও শুষ্ক এবং উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এতে আকস্মিক খরা, দাবানল, ফসলের রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের আক্রমণও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় করণীয়

সংকট মোকাবিলায় ডব্লিউএমও ও এফএও কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে– উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, চাষাবাদের সময়সূচি পরিবর্তন এবং গরমের সময় কাজের চাপ কমানো। এছাড়া কৃষকদের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) শক্তিশালী করা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস সহজলভ্য করা এবং শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট কাজের সময় নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষায় বীমা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ডব্লিউএমও মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ‘চরম তাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি আমাদের নতুন বাস্তবতা। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে জলবায়ুর এই পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত