leadT1ad

প্রশাসনিক ভবনে তালা: জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্বেগ, জাকসুর পাল্টা প্রতিবাদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১: ১৩
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা। সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে ফোরামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জাবি’ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি প্রদান করে সংগঠনটি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদদাতা শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দ্রুত সময়ে বিচার নিশ্চিতের দাবিতে গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নেতারা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকার্য নিষ্পত্তি না করা হলে প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীনের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সংকটে পড়ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশেষভাবে আমরা উল্লেখ করতে চাই, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনায় যখন পুরো ক্যাম্পাস হতবিহ্বল ও শোকাহত, তখন সেই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনাকে পুঁজি করে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস পালনে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিবৃতি
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিবৃতি

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তালার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। একই সঙ্গে, এই তালা দেওয়ার ফলে চলমান সুষ্ঠু বিচার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হবে। বলপ্রয়োগ ও চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার এই ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদেরকে ফ্যাসিবাদী আমলের ফরমায়েশি রায় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।’

জাকসুর পাল্টা প্রতিবাদ

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতির প্রতিবাদে আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে জাকসু ভবনে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে, জুলাই হামলায় অভিযুক্তদের সুকৌশলে বাঁচাতে শিক্ষক ফোরাম বিবৃতি দিয়েছে বলে দাবি করেন জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু। তিনি বলেন, ‘আমাদের ২৭৯ জন শিক্ষার্থী যেমন প্রাতিষ্ঠানিক বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন, আমরা চাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তার বিচার এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, আমরা চাই সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিচারটি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়।’

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শরিফ ওসমান বিন হাদি ভাইয়ের ঘটনাটাকে পুঁজি করার যে ব্যাপারটা বলা হয়েছে এটিও আমরা মনে করছি দুঃখজনক শব্দচয়ন। এই বিবৃতির মাধ্যমে যদি স্পষ্ট হয়, এই জায়গাটা যে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিচারের জন্য তাদের কোনো প্রকার নমনীয়তা রয়েছে, এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা কিন্তু সেটা কোনোভাবে মেনে নেবে না।’

মধ্যরাতে সংবাদ সম্মেলনে জাকসু নেতারা। স্ট্রিম ছবি
মধ্যরাতে সংবাদ সম্মেলনে জাকসু নেতারা। স্ট্রিম ছবি

জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবীব বলেন, ‘তারা এখানে ফ্রেমিং করার চেষ্টা করেছে যে আমরা বিজয় দিবস এবং বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এটা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা না, বরং এগুলোকে আমরা ওউন করি। আমরাও চাই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং মহান বিজয় দিবসকে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করব। তারা (জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম) আরো একটি বিষয় উল্লেখ করেছে যে জোর জবরদস্তি করে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিচার চাওয়াটা মূলত একটা বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করা এবং জোর জবরদস্তি করা। কিন্তু আমরা যদি পেছনে ফিরে তাকাই যে আমরা যখন ফ্যাসিবাদী আমলে আন্দোলন সংগ্রাম করতাম, কোনো দাবি নিয়ে যখন আমরা ভয়েস রেইজ করতাম; আমাদের সঙ্গে শিক্ষকরা থাকতো এবং আজকের বিবৃতিতে যে দুজন শিক্ষকের সই আছে—সেলিম স্যার এবং জামালউদ্দীন স্যার, তারাও আমাদের সঙ্গে এসে প্রশাসনিকভাবে তালা ঝুলিয়েছেনি। আমাদের বর্তমান উপাচার্য স্যার, বর্তমান প্রো-ভিসি সোহেল আহমেদ স্যার তারাও এসে তালা ঝুলিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচারের জন্য একটা মেজর স্টেপে যাওয়া কোনোভাবে বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং বিচার তরান্বিত করে। বিচারকে নিশ্চিত করার জন্যই আমাদের এই পদক্ষেপ। আশা করছি, তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝবেন। তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, তাঁরা যেন এই বিচার চেয়ে আমরা যে এখন তালা ঝুলিয়েছি তারা যেন এটাকে অন্য কোনো খাতে প্রবাহিত না করেন। বিচারকে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না করেন।’

এছাড়া, বিচার বাস্তবায়নের কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের একাত্মতা পোষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাকসু নেতারা।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত