দৌলতদিয়ায় বাসডুবি
স্ট্রিম সংবাদদাতা

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বড় মেয়ে নওয়ারা আক্তারের আবদারে চিপস কিনতে তাকে নিয়ে বাস নেমে গিয়েছিলেন চিকিৎসক মো. নুরুজ্জামান। এর কয়েক মিনিট পড়েই সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ঘাট পেরিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে। চিপস কেনা তাঁর ও চার বছরের মেয়ের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এলেও, বাস ডুবি কেড়ে নিয়েছে পরিবারের বাকি সদস্যদের। গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে চোখের সামনেই স্ত্রী আশেয়া আক্তার ও সাত মাসের ছেলে আরশানকে হারিয়েছেন তিনি।
নুরুজ্জামান ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়ায় গ্রামের মো. কামরুজ্জামানের ছেলে। তাঁর স্ত্রী আশেয়া আক্তারের পৈতৃক বাড়ি সাভারের নয়ারহাটে। তাঁরা দুজনেই পেশায় চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে নুরুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শুনশান নিরবতা। তাঁর মা বেঁচে নেই। বাবা কামরুজ্জামান রওনা হচ্ছেন পুত্রবধূ ও নাতির দাফনের জন্য। পুত্রবধূর বাবার ইচ্ছায় সাভার নয়ারহাটে তাঁর বাড়ি এলাকায় দাফন হবে।
কামরুজ্জামান জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে নুরুজ্জামান সেজো। তাঁর এক ভাই কানাডা প্রবাসী, আরেক ভাই প্রকৌশলী। নুরুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা ঢাকার সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) থেকে ৬ বছর আগে ফিজিওথেরাপিস্ট বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করেন। পরে সাভার ও মিরপুর সিআরপি হাসপাতালে যোগ দেন তাঁরা। চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসার আলো করে আসে দুই সন্তান।
পরিবার সূত্র জানা গেছে, ঈদের চার দিন আগে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন নুরুজ্জামান। ঈদের ছুটি শেষে গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে পার্শ্ববর্তী জেলা কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কাউন্টার থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তাঁরা। তবে বিকালে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস থেকে নেমে চিপস কিনতে নেমে বেঁচে যান নুরুজ্জামান ও তাঁর মেয়ে নওয়ারা। চোখের সামনে বাসে বসে থাকে স্ত্রীকে শিশুপুত্রসহ পদ্মায় তলিয়ে যেতে দেখলেন তিনি।
কামরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নুরুজ্জামান তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ কুমারখালী থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকেলে হঠাৎ নুরুজ্জামান তাঁকে ফোন করে বলেন, ‘আব্বা আমার সব শেষ। আপনার বউমা ও আরশান বাস সহ ফেরিঘাটে পদ্মায় তলিয়ে গেছে।’ এরপর রাত তিনটার দিকে বাসের মধ্যে তাদের মরদেহ পাওয়া যায় বলে জানান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে নুরুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প বসত। এবার বাড়ি এসে শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়নি। শুধু গল্প হয়েছে মানুষের মৃত্যু নিয়ে।
নুরুজ্জামানের বাড়িতে কথা হয় কুমারখালীর পান্টি গ্রামের বাসিন্দা মামা সম্পর্কের বুলবুল আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ও তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পান্টি বাজারে দীর্ঘ সময় কথা হয় নুরুজ্জামানের। এরপর বলেন— ভাগনে, আগামীকাল চলে যাচ্ছি আর দেখা হবে না। এরপর বুধবার বিকালে শোনেন হৃদয়-বিদারক ঘটনার কথা।
নুরুজ্জামানের ভাতিজা মোবাশ্বির আহমেদ জায়েদ বলেন, তাঁর চাচা-চাচি দুজনই অভিজ্ঞ চিকিৎসক। প্রতি বছর ঈদে বাড়িতে এসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেন। গ্রামের সবাই প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসে তাদের দেখাতেন, ভুল চিকিৎসা হচ্ছে কিনা। তাঁরা দুজনে খুব মানবিক ছিলেন।
প্রতিবেশী সাফুরা খাতুন বলেন, বাস দুর্ঘটনার খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর আয়েশা আক্তারের শ্বশুরবাড়ি শৈলকুপার খন্দকবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ‘সে আমাদের গ্রামের বউমা। কোলে সাত মাসের সন্তান, সেই সন্তানসহ মারা গেছে।’
দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া নুরুজ্জামান ফোনে বলেন, ‘বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা করি। ছুটি এসে সৌহার্দ্য পরিবহনে করে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যাই। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট ছেলে আরশান বাসেই ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।’
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নিহতের পরিবারের প্রতির গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। জানতে পেরেছি, নিহত মা ও শিশু সন্তানের মরদেহ সাভারে পৈতৃক গ্রামে দাফন করা হবে। তবুও পরিবার থেকে কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে।’
এর আগে গতকাল বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। নিহতদের পরিবারকে দাফনের জন্য রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বড় মেয়ে নওয়ারা আক্তারের আবদারে চিপস কিনতে তাকে নিয়ে বাস নেমে গিয়েছিলেন চিকিৎসক মো. নুরুজ্জামান। এর কয়েক মিনিট পড়েই সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ঘাট পেরিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে। চিপস কেনা তাঁর ও চার বছরের মেয়ের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এলেও, বাস ডুবি কেড়ে নিয়েছে পরিবারের বাকি সদস্যদের। গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে চোখের সামনেই স্ত্রী আশেয়া আক্তার ও সাত মাসের ছেলে আরশানকে হারিয়েছেন তিনি।
নুরুজ্জামান ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়ায় গ্রামের মো. কামরুজ্জামানের ছেলে। তাঁর স্ত্রী আশেয়া আক্তারের পৈতৃক বাড়ি সাভারের নয়ারহাটে। তাঁরা দুজনেই পেশায় চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে নুরুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শুনশান নিরবতা। তাঁর মা বেঁচে নেই। বাবা কামরুজ্জামান রওনা হচ্ছেন পুত্রবধূ ও নাতির দাফনের জন্য। পুত্রবধূর বাবার ইচ্ছায় সাভার নয়ারহাটে তাঁর বাড়ি এলাকায় দাফন হবে।
কামরুজ্জামান জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে নুরুজ্জামান সেজো। তাঁর এক ভাই কানাডা প্রবাসী, আরেক ভাই প্রকৌশলী। নুরুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা ঢাকার সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) থেকে ৬ বছর আগে ফিজিওথেরাপিস্ট বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করেন। পরে সাভার ও মিরপুর সিআরপি হাসপাতালে যোগ দেন তাঁরা। চার বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসার আলো করে আসে দুই সন্তান।
পরিবার সূত্র জানা গেছে, ঈদের চার দিন আগে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন নুরুজ্জামান। ঈদের ছুটি শেষে গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে পার্শ্ববর্তী জেলা কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কাউন্টার থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তাঁরা। তবে বিকালে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস থেকে নেমে চিপস কিনতে নেমে বেঁচে যান নুরুজ্জামান ও তাঁর মেয়ে নওয়ারা। চোখের সামনে বাসে বসে থাকে স্ত্রীকে শিশুপুত্রসহ পদ্মায় তলিয়ে যেতে দেখলেন তিনি।
কামরুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নুরুজ্জামান তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ কুমারখালী থেকে বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকেলে হঠাৎ নুরুজ্জামান তাঁকে ফোন করে বলেন, ‘আব্বা আমার সব শেষ। আপনার বউমা ও আরশান বাস সহ ফেরিঘাটে পদ্মায় তলিয়ে গেছে।’ এরপর রাত তিনটার দিকে বাসের মধ্যে তাদের মরদেহ পাওয়া যায় বলে জানান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে নুরুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প বসত। এবার বাড়ি এসে শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়নি। শুধু গল্প হয়েছে মানুষের মৃত্যু নিয়ে।
নুরুজ্জামানের বাড়িতে কথা হয় কুমারখালীর পান্টি গ্রামের বাসিন্দা মামা সম্পর্কের বুলবুল আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ও তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পান্টি বাজারে দীর্ঘ সময় কথা হয় নুরুজ্জামানের। এরপর বলেন— ভাগনে, আগামীকাল চলে যাচ্ছি আর দেখা হবে না। এরপর বুধবার বিকালে শোনেন হৃদয়-বিদারক ঘটনার কথা।
নুরুজ্জামানের ভাতিজা মোবাশ্বির আহমেদ জায়েদ বলেন, তাঁর চাচা-চাচি দুজনই অভিজ্ঞ চিকিৎসক। প্রতি বছর ঈদে বাড়িতে এসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেন। গ্রামের সবাই প্রেসক্রিপশন নিয়ে এসে তাদের দেখাতেন, ভুল চিকিৎসা হচ্ছে কিনা। তাঁরা দুজনে খুব মানবিক ছিলেন।
প্রতিবেশী সাফুরা খাতুন বলেন, বাস দুর্ঘটনার খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর আয়েশা আক্তারের শ্বশুরবাড়ি শৈলকুপার খন্দকবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ‘সে আমাদের গ্রামের বউমা। কোলে সাত মাসের সন্তান, সেই সন্তানসহ মারা গেছে।’
দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া নুরুজ্জামান ফোনে বলেন, ‘বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা করি। ছুটি এসে সৌহার্দ্য পরিবহনে করে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যাই। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট ছেলে আরশান বাসেই ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।’
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নিহতের পরিবারের প্রতির গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। জানতে পেরেছি, নিহত মা ও শিশু সন্তানের মরদেহ সাভারে পৈতৃক গ্রামে দাফন করা হবে। তবুও পরিবার থেকে কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে।’
এর আগে গতকাল বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। নিহতদের পরিবারকে দাফনের জন্য রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের কাহারোলে একটি ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে অসুস্থ হয়ে এনায়েতুল করিম (৪৮) নামে বেসরকারি চাকরিজীবীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার আসমা লতিফা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
১৩ মিনিট আগে
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
২ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দ্রুত প্রসারের ফলে জনমত গঠন, নাগরিক অংশগ্রহণ ও তথ্য প্রাপ্তির সুযোগের পাশাপাশি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য একটি কার্যকর ‘ডিজিটাল গভর্ন্যান্স’ এখন সময়ের দাবি বলে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
৩ ঘণ্টা আগে