ফিরে দেখা জুলাই

শহীদের মূল্যায়ন ও সংস্কার বাস্তবায়ন চায় ইয়ামিনের পরিবার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়ামিনকে পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাভারে আশহাবুল ইয়ামিনকে নৃশংসভাবে হত্যার দুই বছর পূর্তি আজ ১৮ জুলাই। দিনটিতে ইয়ামিনসহ জুলাইয়ের সব শহীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন চেয়েছে পরিবার। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য সংস্কার ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে।

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন ইয়ামিন। চব্বিশের ১৮ জুলাই সাভারের পাকিজা এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ইয়ামিন। পরে পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপর থেকে ইয়ামিনকে অমানবিকভাবে সড়কের ধারে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

তাঁর পরিবার জানিয়েছে, ওই দিন জোহরের নামাজ শেষে আহত বন্ধুদের খোঁজ নিতে যান ইয়ামিন। পরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন।

ইয়ামিনের বাবা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, সেদিন জোহরের নামাজে যাওয়ার আগে ইয়ামিন মাকে বলেছিল, আহত বন্ধুদের দেখতে যাবে। পরে ফোনে না পেয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। বিকেল ৩টার দিকে একটি ফোনকল থেকে জানতে পারি, ইয়ামিনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসা শুরুর আগেই ছেলে মারা যায়।

ইয়ামিনের পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
ইয়ামিনের পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

ওই সময় নানা বাধার কারণে ছেলেকে গ্রামের বাড়িতেও দাফন করতে পারেননি এই বাবা। তিনি জানান, চাইলেও তখন বিভিন্ন জটিলতায় সম্ভব হয়নি। পরে সাভারের ব্যাংক টাউন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ছেলে হারানোর ক্ষত কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তবে আমার প্রত্যাশা, ইয়ামিনসহ জুলাইয়ের সব শহীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। বিচার নিশ্চিত হবে। আর আন্দোলনের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

মহিউদ্দিন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটলেও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। অনেক শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা এখনও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ সরকারি সহায়তাও পুরোপুরি পাননি। অনেক আহত ব্যক্তি পুনর্বাসনের অভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন।

ছেলেকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ও সহযোগিতাপ্রবণ ছিল ইয়ামিন। এমআইএসটিতে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। ভালো প্রোগ্রামার হিসেবে শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে প্রশংসিত ছিল। কার্টুন নির্মাণের স্বপ্ন দেখত। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছাই ছিল বেশি।

এমআইএসটিতে ইয়ামিনের বন্ধু জিয়াউল সামি জানান, শিক্ষকরা কোনো বিষয় বুঝিয়ে দিতে না পারলে অনেক সময় তারা ইয়ামিনের কাছ থেকে বুঝে নিতেন। সিনিয়র-জুনিয়র সবার প্রয়োজনে এগিয়ে আসতেন ইয়ামিন। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট কিংবা প্রোগ্রামিং—সব ক্ষেত্রেই ইয়ামিন ছিলেন সহায়ক ও দক্ষ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত