স্ট্রিম প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন ধার্য না রাখায় যেকোনো দিন এই মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষ হয়। গত ২ এপ্রিল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই ধাপ শুরু হয়েছিল। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, সিফাত মাহমুদ শুভ ও আবুল হাসান।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হাসানুল হক ইনু ১৪-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। সুপিরিয়র কমান্ড, ব্যক্তিগত দায় এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র—সবকিছুই আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই ও ৪ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর ফোনালাপ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'কথোপকথনের মধ্যে কারফিউ জারি, আন্দোলনকে বিভক্ত করে জঙ্গি কার্ড খেলা এবং কুষ্টিয়ায় পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়গুলো ছিল। ছাত্র-জনতাকে হত্যার যে পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা এই কথাবার্তায় সুস্পষ্ট যা তিনি অস্বীকার করেননি।'
১৪ দলের বৈঠকে ইনুর উপস্থিতি এবং কারফিউতে তাঁর সমর্থনের কথা তুলে ধরে প্রসিকিউটর বলেন, 'একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে জনগণের ভাষা বুঝতে না পেরে উল্টো দমন-পীড়ন বেছে নিয়েছিলেন তিনি। জনগণকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করা হয়েছে।' মামলার প্রমাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে নয়জন সাক্ষীর পাশাপাশি ফোনালাপের রেকর্ড, পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন ফুটেজ জমা দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ। তিনি বলেন, 'জুলাই-আগস্টের হতাহতের ঘটনার সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ওই সময় কোনো সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক পদে ছিলেন না।' আন্দোলনকে ‘নন-ইন্টারন্যাশনাল আর্মড কনফ্লিক্ট’ আখ্যা দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, 'সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠী ছাত্র আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল। হাসানুল হক ইনু ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন, তবে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে ছিলেন।'
ফোনালাপের বিষয় অস্বীকার না করে তিনি বলেন, 'এই কথোপকথনে তাঁকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো উপাদান নেই, বরং এটিই তাঁর প্রধান আত্মপক্ষ সমর্থন। কারণ সেখানে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান এবং হতাহত বা গুলি না চালানোর কথা বলা হয়েছে।' প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে সিফাত মাহমুদ আরও বলেন, 'পুনর্গঠিত প্রসিকিউশন টিম জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে ব্যবহার করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনুসহ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঘায়েল এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে মহিমান্বিত করার ষড়যন্ত্র করছে।'
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করে প্রসিকিউশন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত বছরের ২ নভেম্বর এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে তাঁর বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন ধার্য না রাখায় যেকোনো দিন এই মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষ হয়। গত ২ এপ্রিল আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই ধাপ শুরু হয়েছিল। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, সিফাত মাহমুদ শুভ ও আবুল হাসান।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, হাসানুল হক ইনু ১৪-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। সুপিরিয়র কমান্ড, ব্যক্তিগত দায় এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র—সবকিছুই আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই ও ৪ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর ফোনালাপ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'কথোপকথনের মধ্যে কারফিউ জারি, আন্দোলনকে বিভক্ত করে জঙ্গি কার্ড খেলা এবং কুষ্টিয়ায় পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়গুলো ছিল। ছাত্র-জনতাকে হত্যার যে পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা এই কথাবার্তায় সুস্পষ্ট যা তিনি অস্বীকার করেননি।'
১৪ দলের বৈঠকে ইনুর উপস্থিতি এবং কারফিউতে তাঁর সমর্থনের কথা তুলে ধরে প্রসিকিউটর বলেন, 'একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে জনগণের ভাষা বুঝতে না পেরে উল্টো দমন-পীড়ন বেছে নিয়েছিলেন তিনি। জনগণকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করা হয়েছে।' মামলার প্রমাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে নয়জন সাক্ষীর পাশাপাশি ফোনালাপের রেকর্ড, পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন ফুটেজ জমা দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ। তিনি বলেন, 'জুলাই-আগস্টের হতাহতের ঘটনার সঙ্গে হাসানুল হক ইনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ওই সময় কোনো সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক পদে ছিলেন না।' আন্দোলনকে ‘নন-ইন্টারন্যাশনাল আর্মড কনফ্লিক্ট’ আখ্যা দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, 'সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠী ছাত্র আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল। হাসানুল হক ইনু ছাত্র-জনতার পক্ষে ছিলেন, তবে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে ছিলেন।'
ফোনালাপের বিষয় অস্বীকার না করে তিনি বলেন, 'এই কথোপকথনে তাঁকে অভিযুক্ত করার মতো কোনো উপাদান নেই, বরং এটিই তাঁর প্রধান আত্মপক্ষ সমর্থন। কারণ সেখানে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান এবং হতাহত বা গুলি না চালানোর কথা বলা হয়েছে।' প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে সিফাত মাহমুদ আরও বলেন, 'পুনর্গঠিত প্রসিকিউশন টিম জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে ব্যবহার করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনুসহ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঘায়েল এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে মহিমান্বিত করার ষড়যন্ত্র করছে।'
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করে প্রসিকিউশন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত বছরের ২ নভেম্বর এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে তাঁর বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘অটোরোস্টার’ ও বাদ পড়া কর্মীদের পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে নামা কোরিয়াগামী কর্মীকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
৩৮ মিনিট আগে
দেশে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে হেল্পলাইন চালু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)।
১ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘অটোরোস্টার’ ও বাদ পড়া কর্মীদের পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন কয়েক হাজার কোরিয়াগামী কর্মী। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনের সামনের সড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।
১ ঘণ্টা আগে
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন আদালত। এর ফলে তাঁর বিদেশে যেতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন নাকচ করে মামলার ধার্য তারিখে তাঁকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে