ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু নিয়ে ‘মিথ্যাচার’, কমিশনারের অপসারণ দাবি
স্ট্রিম সংবাদদাতাময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তুলেছে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চ। তারা বিভাগীয় কমিশনার, হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানায় তাঁরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং অগ্নিকাণ্ডে হতাহত নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে ময়মনসিংহ মঞ্চের সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে কেউ নিহত বা আহত হননি বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে হতাহত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এ কারণে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই নৈতিক স্খলনের দায়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ময়মনসিংহ থেকে অপসারণ করতে হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে প্রশাসনের গঠিত কমিটিগুলো গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি মানি না। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডে কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন, তার সঠিক তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।’
আরেক সংগঠক আবু বকর সিদ্দিক রুমেল বলেন, এবারই প্রথম নয়, এই হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড যেন এমন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার ধারাবাহিকতায় এইবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে৷ কেন চারটি সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়েছে এটিও যেমন জবাবদিহি করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। এতে লিফটের বাইরের আবরণ পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনেরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে আহত হন। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় প্রশাসন তা নাকচ করেছে।
.png)
-40e58c.jpeg)



-59c3f2-256x144.webp)

