
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও স্থাপনা শনাক্ত করে ধ্বংস করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছে ইসরায়েল। গবেষক ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বিশাল এলাকা নজরদারির আওতায় এনে এআইয়ের মাধ্যকে কথিত ‘অননুমোদিত’ স্থাপনা শনাক্ত করা হচ্ছে। পরে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ ও ধ্বংস করা হচ্ছে।
কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের তৈরি ‘ইমিসাইট’ (ImiSight) নামের এআই প্রযুক্তি এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে ভূমির পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে প্রযুক্তিটি। প্রথমে নেগেভ মরুভূমিতে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি বেদুইনদের এলাকায় এটি ব্যবহার করা হয়।
ইসরায়েলের স্বীকৃতি না পাওয়া অনেক বেদুইন গ্রামে নির্মাণের অনুমতি পাওয়া কঠিন। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এআইয়ের মাধ্যমে নতুন স্থাপনা শনাক্ত করার পর সেগুলো ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইমিসাইটের মাধ্যমে নেগেভের ১০ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা জরিপ করা হয়। এতে ২ হাজার ৬০০র বেশি ফিলিস্তিনি বেদুইন নাগরিক উচ্ছেদের শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন একই প্রযুক্তি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম পালডিজিটাল। সেখানে নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ভাঙা হয়। তবে এসব এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্মাণের অনুমতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পশ্চিম তীরে কাজ করার জন্য ইসরায়েল ল্যান্ড অথরিটির একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়। ইসরায়েলি অধিকার সংগঠন পিস নাউ এটিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি এআইভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থাপনা শনাক্ত করছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের কর্মকর্তা আমির দাউদ আল জাজিরাকে বলেন, নেগেভে পরীক্ষিত নজরদারি ও উচ্ছেদের মডেল পশ্চিম তীরে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা নেগেভে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরীক্ষিত নজরদারি ও উচ্ছেদের একটি মডেল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থানান্তরের কথা বলছি।’
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ খালেদ সাফি জানান, নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইটে এআই অ্যালগরিদম যুক্ত হওয়ায় মহাকাশেই ছবি বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবি তোলার পর ভূমির পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পৃথিবীতে পাঠানো যায়।
পশ্চিম তীরে স্থাপনা ধ্বংসের হারও বেড়েছে। পিস নাউ ও কেরেম নাভোটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০–২০২২ সময়ের তুলনায় ২০২৩–২০২৫ সময়ে পশ্চিম তীরের এরিয়া সি ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ভবন ধ্বংস ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এই তিন বছরে বছরে গড়ে ৯৬৬টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে।
দাউদের ভাষায়, এআই এখানে ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করছে। বিশাল এলাকা দ্রুত স্ক্যান করে সম্ভাব্য লক্ষ্য চিহ্নিত ও অগ্রাধিকার দেওয়া যায়। এতে সতর্কবার্তা দেওয়া থেকে স্থাপনা ধ্বংসের প্রক্রিয়াও দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি সরকার ৪০ হাজারের বেশি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ১৮৫টি নতুন আউটপোস্ট প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরায়েল। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ১১৮টি ফিলিস্তিনি পশুপালক সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করেছে ইসরায়েল।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও ইমিসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তারা কোনো জবাব দেয়নি।
.png)
-40e58c.jpeg)





