leadT1ad

দায়িত্বের চাপ অসম্ভবভাবে অনুভব করছি: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ২৩: ০৪
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের ভুল হতে পারে। গঠনমূলক সমালোচনা হোক। আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, নতুন সরকার, ২০ বছর পরে বিএনপি সরকারে। এই চার মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি কেমন বোধ করছেন? জবাবে তারেক রহমান বলেন, এখানে একজন (সাংবাদিক) তাঁর বক্তব্যে বলেছেন– উনি নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, উনি মানুষের চোখে-মুখে যেটা (খুশি) দেখেছেন, আমার মনে হয় একই জিনিস আমিও দেখেছি।

তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে অনেকে অনেক রকম অর্থ করতে পারে। বাট অবশ্যই দায়িত্বের একটা চাপ অসম্ভবভাবে অনুভব করছি। প্রচুর সমস্যা, প্রচুর লিমিটেশনস... অ্যাট দা সেইম টাইম, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সো অসম্ভব একটা চাপ অনুভব করছি দায়িত্বে।’

বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আব্বা এক সময় উনার একজন সহকর্মীকে বলেছিলেন, দিনটা যদি ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪৮ ঘণ্টা হতো, তাহলে আমরা আরেকটু বেটার কাজ করতে পারতাম।’

এখন নিজেরও একই রকম উপলব্ধি হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কখন অফিসে ঢুকছি, কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে... একটু বুঝতেই পারছি না। দম ফেলানোর টাইম পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আমারও মনে হয়, আসলে ২৪ ঘণ্টা না হয়ে দিন যদি ৪৮ ঘণ্টা হতো, তাহলে একটু ভালো হতো।’

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন থেকে গতবছর ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। তাঁর নেতৃত্বেই গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে ২০ বছর পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই। তাই বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।

তিনি বলেন, আজকের দিনটা আমাদের জন্য, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে মাত্র চারটি বাদে দেশের সব সংবাদপত্র এক সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে আজকে আমরা এতসব সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে কথা বলছি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত– ওই সময় সংবাদপত্রের যে গলা চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি এখন নেই। সে সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সব রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করে বাকশাল গঠন করা হয়েছিল।

মতবিনিময় সভার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। ছবি: বাসস
মতবিনিময় সভার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। ছবি: বাসস

তারেক রহমান বলেন, পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন এবং তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন। একইসঙ্গে সংবাদপত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন। পরে কী হয়েছে, কতটুকু হয়েছে, এটা আপনাদের কথা থেকেও বেরিয়ে এসেছে।

গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আমাকে অনেক সাহায্য করতে হবে। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনাদের সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনাদের সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারব না, কাজটা ভালো হচ্ছে, না খারাপ। ভালো কাজের পথটা আপনাদের দেখাতে হবে। দেশের কাজে আমাদের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আসুন, আমাদের নিজের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমার সঙ্গে যা হয়েছে, এখন প্রতিশোধ নিলে সেটা ফেরত পাব না। তাই প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমরা দেশের জন্য কী করতে পারি, সেই চেষ্টা করতে পারি। সাকসেসফুল হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত দেশের জন্য কাজ করার মাইন্ডসেট নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

প্রতি বছর ১৬ জুন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চারটি সরকারি প্রচারপত্র বাদে সব পত্রিকার প্রকাশনা ও ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়। এর প্রতিবাদে পরবর্তী বছর থেকে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকাল দেখা যায় একটি জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে এবং ১০ জন মিলে তা মোবাইলে রেকর্ড করছে। এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতা। স্কুলপর্যায় থেকেই আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত