স্ট্রিম প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা অবস্থায় অধ্যাদেশ রহিত করে তা বিলুপ্ত করার সরকারি উদ্যোগকে ‘আদালত অবমাননার শামিল’ বলছেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনে সাংবাদিকদের এ প্রতিক্রিয়া জানান শিশির মনির।
শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ পাওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে সচিবালয় ভেঙে কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের কাছে বিচার বিভাগের প্রতি সরকারের আচরণ নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আদালত ২০২৫ সালে ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় নির্দেশনা দিয়ে একটি রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়ের করে। আপিলের পূর্ণাঙ্গ শুনানি এখনও হয়নি। আপিলের সঙ্গে তারা একটি স্থগিতাদেশ চেয়ে দরখাস্ত করে। দরখাস্তটি প্রথম অনারেবল জাজ ইন চেম্বারে (চেম্বার বিচারপতি) নিয়ে যান, সেখানে অনারেবল জাজ ইন চেম্বার কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। এই বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রেফার করেন। আজ এই স্থগিতাদেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির পর আপিল বিভাগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার যে নির্দেশনা দেয় সেটিকে স্থগিত করেছেন আপিল মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগপর্যন্ত। একইভাবে মামলাটিকে আগামী ১৬ জুন এক নম্বর আইটেম (কার্যতালিকার এক নম্বরে) হিসেবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।’
আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে সরকারের নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন শিশির মনির।
এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা মনে করি আপিল বিভাগে এই মামলা দ্রুততার ভিত্তিতে শুনানি করতে পারলে মূল সমস্যার সমাধান হতে পারে। এ জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে মামলাটি শুনানি হোক এটা আমরাও সাবমিশন (আবেদন) রেখেছি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি কথা এখানে উল্লেখযোগ্য, সরকারের যে অ্যাপ্রোচ (পদক্ষেপ), দ্যাট অ্যাপ্রোচ ওয়াজ নট গুড অ্যাপ্রোচ। হাইকোর্ট বিভাগের এরকম ডাইরেকশন (নির্দেশনা) থাকা সত্ত্বেও তারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে বিলুপ্ত করে দিয়েছে। এই বিলুপ্ত করার যে অ্যাপ্রোচটা তারা গ্রহণ করেছে দিস ইজ টেন্টামাউন্ট টু কনটেম্পট অব কোর্ট (এটি আদালত অবমাননার শামিল)।’
আপিল বিভাগের স্টে করার আগপর্যন্ত সচিবালয় বিলুপ্তির কোনো উদ্যোগ সরকারের নেওয়া ঠিক হয়নি বলে মনে করেন শিশির মনির।
তিনি বলেন, ‘তাদের স্টে হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা দরকার ছিল। এই স্টে পিটিশনটা আপিল বিভাগে মঞ্জুর হবে কি হবে না এতটুকু ধৈর্য সরকারের ধারণ করা দরকার ছিল। সরকারের এই অধৈর্য জাতির কাছে একটা নেগেটিভ মেসেজ দিয়েছে যে তাহলে উচ্চ আদালত এবং বিচার বিভাগের প্রতি তারা এই ধরনের আচরণ কেন করছে।’
আপিল বিভাগে শুনানিতে নিজেদের দেওয়া বক্তব্যের উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা প্রথম কথা বলব। আজ আংশিক বলেছি, এই সচিবালয় স্থাপনের আদেশটি করা হয়েছিল পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে, ইংরেজিতে বলে কনসেন্টিং ডিক্রি (ঐকমত্যের ভিত্তিতে রায়)। এই কনসেন্টিং ডিক্রি বাংলাদেশের দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৯৬ ধারা অনুযায়ী যদি কোনো কনসেন্টিং ডিক্রি হয়, অর্থাৎ ঐকমত্যের ভিত্তিতে যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয় তাহলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যায় না। তারপরেও সরকারপক্ষ আপিল করেছে এই প্রশ্নে, এটি আমরা উত্থাপন করব।’
অধস্তনের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন না হয়, এটি শুধু সরকার কিংবা বিরোধী দলের ব্যাপার না, জনগণের রক্ষাকবচ বলতে শেষ পর্যন্ত কিছুই আর হাতে থাকে না। নিম্ন আদালতের ট্রান্সফার (বদলি) ও পদোন্নতি, তাঁদের শৃঙ্খলা, ছুটি মঞ্জুরি—এগুলো যদি সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত না রেখে প্রশাসনিক দায়-দায়িত্ব কিংবা সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়, তখন বিচার বিভাগ, অধস্তন বিচার বিভাগ সঠিক ও স্বাধীনভাবে ফাংশন (কাজ) করতে পারে না। বিগত বছরগুলো আমাদের তা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সুতরাং আমরা চাই বিচার বিভাগ আইন মেনে চলবে, মনস্টার (দানব) হবে না। সরকার সবসময় আর্গুমেন্ট (যুক্তি) করে যে এটা যদি করা হয় তাহলে বিচার বিভাগ মনস্টার (দানব) হয়ে যাবে, না। আমরা কখনোই মনস্টারের পক্ষে নই। আমরা বলছি বিচারকদের আচরণবিধি থাকবে, ইন্ডিপেন্ডেন্স (স্বাধীনতা) থাকবে। আচরণ যদি ভায়োলেট (লঙ্ঘন) করেন তাহলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু যদি ইন্ডিপেন্ডেন্স না থাকে তাহলে জনগণের জন্য তারা ভালো বিচার করতে পারেন না। এ জন্য ইন্ডিপেন্ডেন্স অবশ্যই দরকার।’
বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রধান বিচারপতির এই আপিল শোনা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, ‘না, এখানে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থের সংঘাত) এ জন্য নেই কারণ এটি হলো একটা সিস্টেমের ব্যাপার, কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যাপার না। এই প্রশ্নের উত্তর ডিসাইডেড (মীমাংসিত) হয়ে গেছে ১৬তম সংশোধনীর মামলায়। ১৬তম সংশোধনীতে যে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের জন্য ক্ষমতা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সংবিধান অনুযায়ী সংসদের ওপর। সেই মামলা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ হয়ে অসাংবিধানিক ঘোষণা হয়েছে। সেটাও তৎকালীন আপিল বিভাগ নিষ্পত্তি করে আপিলকে মঞ্জুর করে আপিল ডিসমিস (খারিজ) করেছেন। তার মানে কী? হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণেরই তো সেই আইন ছিল। তারপরেও তো হাইকোর্টে বিচার হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে বিচার হয়েছে। কারণ কী? এগুলো একটা সিস্টেমের ব্যাপার, এগুলো কোনো ব্যক্তিবিশেষের একক কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপার নয়। এ জন্য এটি এখানে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয় এবং ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ এ এই সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
তবে নির্বাচিত নতুন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো রহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস করে। ফলে সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় বিলুপ্ত হয়ে নিম্ন আদালতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যায় এবং ১৯ মে সেখানে কর্মরত ১৫ জন জুডিসিয়াল (বিচার বিভাগীয়) কর্মকর্তার দপ্তর বদল করা হয়। এই রহিতকরণ বিল ও হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের মূল রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে আগামী ১৬ জুন চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করেছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা অবস্থায় অধ্যাদেশ রহিত করে তা বিলুপ্ত করার সরকারি উদ্যোগকে ‘আদালত অবমাননার শামিল’ বলছেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনে সাংবাদিকদের এ প্রতিক্রিয়া জানান শিশির মনির।
শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ পাওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে সচিবালয় ভেঙে কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের মানুষের কাছে বিচার বিভাগের প্রতি সরকারের আচরণ নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আদালত ২০২৫ সালে ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় নির্দেশনা দিয়ে একটি রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়ের করে। আপিলের পূর্ণাঙ্গ শুনানি এখনও হয়নি। আপিলের সঙ্গে তারা একটি স্থগিতাদেশ চেয়ে দরখাস্ত করে। দরখাস্তটি প্রথম অনারেবল জাজ ইন চেম্বারে (চেম্বার বিচারপতি) নিয়ে যান, সেখানে অনারেবল জাজ ইন চেম্বার কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। এই বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রেফার করেন। আজ এই স্থগিতাদেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির পর আপিল বিভাগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার যে নির্দেশনা দেয় সেটিকে স্থগিত করেছেন আপিল মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগপর্যন্ত। একইভাবে মামলাটিকে আগামী ১৬ জুন এক নম্বর আইটেম (কার্যতালিকার এক নম্বরে) হিসেবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।’
আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে সরকারের নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন শিশির মনির।
এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা মনে করি আপিল বিভাগে এই মামলা দ্রুততার ভিত্তিতে শুনানি করতে পারলে মূল সমস্যার সমাধান হতে পারে। এ জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে মামলাটি শুনানি হোক এটা আমরাও সাবমিশন (আবেদন) রেখেছি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি কথা এখানে উল্লেখযোগ্য, সরকারের যে অ্যাপ্রোচ (পদক্ষেপ), দ্যাট অ্যাপ্রোচ ওয়াজ নট গুড অ্যাপ্রোচ। হাইকোর্ট বিভাগের এরকম ডাইরেকশন (নির্দেশনা) থাকা সত্ত্বেও তারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে বিলুপ্ত করে দিয়েছে। এই বিলুপ্ত করার যে অ্যাপ্রোচটা তারা গ্রহণ করেছে দিস ইজ টেন্টামাউন্ট টু কনটেম্পট অব কোর্ট (এটি আদালত অবমাননার শামিল)।’
আপিল বিভাগের স্টে করার আগপর্যন্ত সচিবালয় বিলুপ্তির কোনো উদ্যোগ সরকারের নেওয়া ঠিক হয়নি বলে মনে করেন শিশির মনির।
তিনি বলেন, ‘তাদের স্টে হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা দরকার ছিল। এই স্টে পিটিশনটা আপিল বিভাগে মঞ্জুর হবে কি হবে না এতটুকু ধৈর্য সরকারের ধারণ করা দরকার ছিল। সরকারের এই অধৈর্য জাতির কাছে একটা নেগেটিভ মেসেজ দিয়েছে যে তাহলে উচ্চ আদালত এবং বিচার বিভাগের প্রতি তারা এই ধরনের আচরণ কেন করছে।’
আপিল বিভাগে শুনানিতে নিজেদের দেওয়া বক্তব্যের উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা প্রথম কথা বলব। আজ আংশিক বলেছি, এই সচিবালয় স্থাপনের আদেশটি করা হয়েছিল পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে, ইংরেজিতে বলে কনসেন্টিং ডিক্রি (ঐকমত্যের ভিত্তিতে রায়)। এই কনসেন্টিং ডিক্রি বাংলাদেশের দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৯৬ ধারা অনুযায়ী যদি কোনো কনসেন্টিং ডিক্রি হয়, অর্থাৎ ঐকমত্যের ভিত্তিতে যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয় তাহলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যায় না। তারপরেও সরকারপক্ষ আপিল করেছে এই প্রশ্নে, এটি আমরা উত্থাপন করব।’
অধস্তনের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন না হয়, এটি শুধু সরকার কিংবা বিরোধী দলের ব্যাপার না, জনগণের রক্ষাকবচ বলতে শেষ পর্যন্ত কিছুই আর হাতে থাকে না। নিম্ন আদালতের ট্রান্সফার (বদলি) ও পদোন্নতি, তাঁদের শৃঙ্খলা, ছুটি মঞ্জুরি—এগুলো যদি সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত না রেখে প্রশাসনিক দায়-দায়িত্ব কিংবা সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়, তখন বিচার বিভাগ, অধস্তন বিচার বিভাগ সঠিক ও স্বাধীনভাবে ফাংশন (কাজ) করতে পারে না। বিগত বছরগুলো আমাদের তা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সুতরাং আমরা চাই বিচার বিভাগ আইন মেনে চলবে, মনস্টার (দানব) হবে না। সরকার সবসময় আর্গুমেন্ট (যুক্তি) করে যে এটা যদি করা হয় তাহলে বিচার বিভাগ মনস্টার (দানব) হয়ে যাবে, না। আমরা কখনোই মনস্টারের পক্ষে নই। আমরা বলছি বিচারকদের আচরণবিধি থাকবে, ইন্ডিপেন্ডেন্স (স্বাধীনতা) থাকবে। আচরণ যদি ভায়োলেট (লঙ্ঘন) করেন তাহলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু যদি ইন্ডিপেন্ডেন্স না থাকে তাহলে জনগণের জন্য তারা ভালো বিচার করতে পারেন না। এ জন্য ইন্ডিপেন্ডেন্স অবশ্যই দরকার।’
বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রধান বিচারপতির এই আপিল শোনা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, ‘না, এখানে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থের সংঘাত) এ জন্য নেই কারণ এটি হলো একটা সিস্টেমের ব্যাপার, কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যাপার না। এই প্রশ্নের উত্তর ডিসাইডেড (মীমাংসিত) হয়ে গেছে ১৬তম সংশোধনীর মামলায়। ১৬তম সংশোধনীতে যে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের জন্য ক্ষমতা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সংবিধান অনুযায়ী সংসদের ওপর। সেই মামলা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ হয়ে অসাংবিধানিক ঘোষণা হয়েছে। সেটাও তৎকালীন আপিল বিভাগ নিষ্পত্তি করে আপিলকে মঞ্জুর করে আপিল ডিসমিস (খারিজ) করেছেন। তার মানে কী? হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণেরই তো সেই আইন ছিল। তারপরেও তো হাইকোর্টে বিচার হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে বিচার হয়েছে। কারণ কী? এগুলো একটা সিস্টেমের ব্যাপার, এগুলো কোনো ব্যক্তিবিশেষের একক কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপার নয়। এ জন্য এটি এখানে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয় এবং ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ এ এই সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
তবে নির্বাচিত নতুন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো রহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস করে। ফলে সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় বিলুপ্ত হয়ে নিম্ন আদালতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যায় এবং ১৯ মে সেখানে কর্মরত ১৫ জন জুডিসিয়াল (বিচার বিভাগীয়) কর্মকর্তার দপ্তর বদল করা হয়। এই রহিতকরণ বিল ও হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের মূল রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে আগামী ১৬ জুন চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির অংশ নেওয়া নিয়ে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাতের কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
২০ মিনিট আগে
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য পুরো নথি হাইকোর্টে এসেছে।
৩০ মিনিট আগে
পেশাগত পোশাক পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক, ফেসবুক রিলস বা ইনস্টাগ্রামে বিনোদনমূলক ভিডিও বা ছবি প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
১ ঘণ্টা আগে
সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কোনো বাধ্যবাধকতা সংবিধানে নেই উল্লেখ করে হাই কোর্টের রায়ের আইনি পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
১ ঘণ্টা আগে