এক্সপ্লেইনার

কবে থেকে বাংলাদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়া শুরু করল

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২১: ২৯
স্ট্রিম গ্রাফিক

সকাল সাড়ে আটটা। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের সোয়েটো শহরের এক ব্যস্ত সড়কের পাশে ছোট্ট একটি কনভিনিয়েন্স স্টোর। ক্রেতাদের কেউ দুধ কিনছেন, কেউ রুটি, কেউ মোবাইল রিচার্জ, কেউ আবার শিশুদের জন্য বিস্কুট।

কাউন্টারের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন মোহাম্মদ রুবেল (ছদ্মনাম)। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালীতে। প্রায় পনেরো বছর আগে ভাগ্য বদলের আশায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেছিলেন। প্রথম কয়েক বছর অন্যের দোকানে কাজ করেছেন। পরে আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় এই দোকান দিয়েছেন। স্বপ্ন দেখেন, দোকান আরও বড় করার। কিন্তু সেই স্বপ্নের পাশে প্রতিদিনই দাঁড়িয়ে থাকে আরেকটি বাস্তবতা।

দোকানের কাউন্টারের নিচে একটি জরুরি অ্যালার্ম বাটন। ক্যাশ ড্রয়ারে কখনো খুব বেশি টাকা রাখেন না রুবেল। দোকান বন্ধ করে রাতে বাড়ি ফেরার সময় কোন রাস্তা দিয়ে যাবেন, সেটাও প্রতিদিন নতুন করে ঠিক করতে হয়। কারণ এই দেশে ব্যবসার সুযোগ যেমন বড়, তেমনি ডাকাতি, সশস্ত্র ছিনতাই কিংবা বিদেশিবিরোধী হামলার ঝুঁকিও বাস্তব। আর এই বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ, ডারবান, কেপ টাউন, প্রিটোরিয়া কিংবা ছোট ছোট শহরে রুবেলের মতো এমন হাজারো বাংলাদেশি জীবন কাটাচ্ছেন। কেউ ছোট মুদি দোকান চালান, কেউ পাইকারি ব্যবসায়ী, কেউ পোশাক আমদানি করেন, কেউ ওষুধ, প্লাস্টিক কিংবা খাদ্যপণ্য বিক্রি করেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বড় বড় কোম্পানিও ধীরে ধীরে আফ্রিকার বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

নিশ্চয় মনে প্রশ্ন জাগছে, বাংলাদেশের মানুষ কেন ইউরোপ-আমেরিকা-মধ্যপ্রাচ্য বাদ দিয়ে আফ্রিকামুখী হলো? কেন পৃথিবীর সবচেয়ে কম আলোচিত এই মহাদেশ হয়ে উঠল বাংলাদেশিদের নতুন গন্তব্য?

কখন ও কেন দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতে শুরু করল বাংলাদেশিরা

বাংলাদেশিদের দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার ইতিহাস খুব পুরোনো নয়। রিসার্চ গেটের বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস ইন পোস্ট-অ্যাপার্থাইড সাউথ আফ্রিকা গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর মাঝামাঝি, বিশেষ করে ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বর্ণবৈষম্যবিরোধী শাসনের অবসান ঘটলে দেশটির অর্থনীতি বিদেশি উদ্যোক্তা ও অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত হতে শুরু করে। সেই সময় পাকিস্তান, ভারত ও সোমালিয়ার ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কিছু বাংলাদেশিও সেখানে পাড়ি জমান।

১৯৯৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নতুন গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অভিবাসীদের জন্য নিজেদের দুয়ার খুলে দেয়। সে সময় বাংলাদেশে কাজের সুযোগ কম ও বেকারত্ব বেশি থাকায়, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন গন্তব্যের খোঁজে থাকা অনেক বাংলাদেশি দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। এভাবে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের অভিবাসন দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

প্রথম দিকে খুব অল্পসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে যান। পরে আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের পরিচিতদের মাধ্যমে একটি ‘মাইগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ তৈরি হয়। একজন সফল হলে তার মাধ্যমে আরও কয়েকজন যাওয়ার পথ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে বাংলাদেশিদের ছোট ছোট ব্যবসায়িক কমিউনিটি গড়ে ওঠে জোহানেসবার্গ, ডারবান, প্রিটোরিয়া, কেপটাউন ও পোর্ট এলিজাবেথসহ বিভিন্ন শহরে।

বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস ইন পোস্ট-অ্যাপার্থাইড সাউথ আফ্রিকা গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতে শুরু করে।
বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস ইন পোস্ট-অ্যাপার্থাইড সাউথ আফ্রিকা গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯০-এর মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতে শুরু করে।

বাংলাদেশিদের সংখ্যা মূলত বাড়তে শুরু করে ২০০০ সালের পর। তখন ইউরোপে অভিবাসন কঠিন হয়ে ওঠে, ভিসা নীতিও কঠোর হয়। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় তুলনামূলক কম পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ এবং পরিচিতজনের মাধ্যমে বসতি গড়ে তোলার প্রবণতা বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করে। প্রথম দিকে সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের মানুষ বেশি গেলেও পরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকে সেখানে যেতে শুরু করেন।

ইউরোপ-আমেরিকার বদলে আফ্রিকা কেন গন্তব্য হলো

একসময় অনেক বাংলাদেশির স্বপ্ন ছিল ইতালি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় যাওয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পথ ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়েছে। ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশক থেকে ইউরোপের দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ানদের জন্য ভিসা নীতি কঠিন করতে শুরু করে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বৈধ উপায়ে সেসব দেশে যাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হতে থাকে। ইউরোপে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়া, আশ্রয়প্রার্থীদের কঠোর যাচাই, দক্ষ কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধি এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেকেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজতে থাকেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সেসময় ভিসা জটিলতা না থাকায় সে দেশে যাওয়াও তুলনামূলক সহজ ছিল। পাশাপাশি সেখানে কম পুঁজিতে ব্যবসা ও স্থানীয় বাজারে খুচরা ব্যবসার সুযোগ ছিল। আবার চেইন মাইগ্রেশন বা আগে থেকে যাওয়া বাংলাদেশিদের নেটওয়ার্ক নতুনদের যেতে উৎসাহিত করেছিল।

এছাড়া ব্যবসায় লাভের সম্ভাবনা অনেক এলাকায় বেশি থাকায় বাংলাদেশিরা তাদের বিকল্প গন্তব্য হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বেছে নিয়েছিল। অনেক বাংলাদেশি সেখানে প্রথমে কর্মচারী হিসেবে দোকানে কাজ করেন। পরে কিছু সঞ্চয় হলে নিজেরাই ছোট ব্যবসা শুরু করেন। এই ‘কর্মচারী থেকে উদ্যোক্তা’ হওয়ার সুযোগই অভিবাসীদের দেশটির প্রতি আগ্রহী করেছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতি ও বাংলাদেশিদের কাজ

আফ্রিকার সবচেয়ে শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকা। খনিজ সম্পদ, কৃষি, উৎপাদনশিল্প, পর্যটন, আর্থিক খাত এবং খুচরা বাজার দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। দেশটিতে বড় বড় সুপারমার্কেট থাকলেও শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকায় ছোট মুদি দোকান বা ‘স্পাজা শপ’-এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখানেই বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও সোমালি ব্যবসায়ীরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। বাংলাদেশিরা সাধারণত এমন এলাকায় দোকান দেন, যেখানে বড় চেইন স্টোরের উপস্থিতি কম। দীর্ঘ সময় দোকান খোলা রাখা, কম মুনাফায় পণ্য বিক্রি এবং ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা স্থানীয় বাজারে জায়গা করে নেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ খুচরা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে অনেকে পরিচালনা করেন মুদি দোকান, কনভেনিয়েন্স স্টোর, মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকসের দোকান, পোশাকের দোকান, পাইকারি পণ্যের সরবরাহ ব্যবসা। এছাড়া কেউ কেউ রেস্তোরাঁ, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি, মানি ট্রান্সফার ও ছোট ছোট উৎপাদনশিল্পেও যুক্ত রয়েছেন। যেসব বাংলাদেশিরা দক্ষিণ আফ্রিকায় যান, তারা প্রথমে দোকানের কর্মচারী, বিক্রয়কর্মী বা গুদাম ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত হন। কয়েক বছর পর অভিজ্ঞতা ও মূলধন অর্জন করে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করেন। অনেকেই দেশে নিয়মিত অর্থ পাঠান, যা বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও অবদান রাখে।

জেনোফোবিয়া ও নিরাপত্তার ঝুঁকি কতটা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশিবিরোধী সহিংসতা বা জেনোফোবিয়া একটি বড় সামাজিক সমস্যা। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বলছে, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের চলমান সহিংসতায় ঝুঁকি শুধু অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বৈধ অভিবাসী ও ব্যবসায়ীরাও এর শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করেন, বিদেশিরা কম দামে ব্যবসা করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছেন। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে বিদেশিদের দোকানে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এমনকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও এসব হামলার শিকার হয়েছেন।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশে সময় রাত ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের একটি দোকানে আগুন লেগে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৫ জনেরই বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায়। অপরজনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত নারায়ণগঞ্জের আপন আহমেদের বাড়িতে শোক। স্ট্রিম ছবি
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত নারায়ণগঞ্জের আপন আহমেদের বাড়িতে শোক। স্ট্রিম ছবি

এর আগে ২০০৮, ২০১৫ ও ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিরোধী সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী দোকানে নিরাপত্তাকর্মী রাখেন, সিসিটিভি ব্যবহার করেন কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সন্ধ্যার আগেই দোকান বন্ধ করে দেন। তবে সব অঞ্চল সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। অনেক এলাকায় বাংলাদেশিরা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং বছরের পর বছর সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় অভিবাসীরা স্থানীয় আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং কমিউনিটির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন।

বাংলাদেশ-আফ্রিকা সম্পর্কের ইতিহাস

বাংলাদেশের সঙ্গে আফ্রিকার সম্পর্ক শুধু অভিবাসনের নয়, কূটনৈতিকও। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ জাতিসংঘ, নিরপেক্ষ জোট এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে। ১৯৮৮ সাল থেকে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সেনাদের অংশগ্রহণ আফ্রিকার বহু দেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশি ওষুধ, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগও বাড়ছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ নতুন কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

আফ্রিকাকে আগামী কয়েক দশকের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বাজারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্বব্যাংক, আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান। দ্রুত নগরায়ণ, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজার নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্যও এ সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অভিবাসীদের শুধু ছোট মুদি দোকানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষি প্রযুক্তি, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতেও অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অবশ্য সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তা, বৈধ অভিবাসন, শ্রমিকের অধিকার এবং কনস্যুলার সহায়তা জোরদার করাও জরুরি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের অভিবাসন এটি সাহস, ঝুঁকি নেওয়া এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরির গল্প। ইউরোপে পাড়ি জমানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আফ্রিকা অনেকের কাছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। তবে সেই দরজার ওপাশে যেমন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিরাপত্তা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জও। ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশ সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ এবং প্রবাসী কমিউনিটি সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি শুধু রেমিট্যান্সেই নয়, বরং দুই অঞ্চলের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ও রচনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে, আল জাজিরা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রয়টার্স, ইনফো মাইগ্রেনটস, প্যান আফ্রিকান ভিশন, আফ্রিকা বাংলাদেশ বিসনেস ফোরাম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ, আইওএম ও বিবিসি

Ad 300x250

সম্পর্কিত