ডেমরায় র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ২

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ১৩: ২২
র‍্যাবের হাতে আটক আল আমিন ও রায়হান। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, হ্যান্ডকাফ ও র‍্যাবের কোটিসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২ মে) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

তিনি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডেমরা থানার আমান মার্কেট মেন্দিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ডাকাত চক্রের সদস্য মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ১১টার দিকে মেন্দীপুর বাজারসংলগ্ন হাজী সিএনজি পাম্প এলাকা থেকে সহযোগী চালক মো. রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৪টি গুলি, ২টি হ্যান্ডকাফ (যা বিভিন্ন থানা হতে লুট হওয়া), ৬টি র‍্যাবের কটি, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি সেনাবাহিনীর মাস্ক, ১টি মাইক্রোবাস, ২টি ভুয়া নম্বর প্লেট, পুলিশের স্টিকার, বাটন, লেজার লাইট ও পকেট রাউটার।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, আলামিনের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে ডাকাতি করে আসছিল। তারা কখনও র‍্যাব পরিচয়ে, কখনও পুলিশের স্টিকারযুক্ত গাড়ি নিয়ে, আবার কখনও যৌথ অভিযানের নামে সেনাবাহিনীর মাস্ক পরে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নিত।

র‍্যাব আরও জানায়, চক্রের সদস্য রায়হান পেশায় চালক। সে ডাকাতির জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহ, ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ এবং মালামাল পরিবহনের দায়িত্ব পালন করত। অন্যদিকে, প্রধান সদস্য আলামিন আগে ইট-বালি ও মুরগির ব্যবসা করলেও বর্তমানে পুরোদস্তুর ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কেরানীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র‍্যাব পরিচয়ে ৭১ লক্ষ টাকা লুটের মামলার অন্যতম আসামি আলামিন। এ ছাড়া গত বছরের মে মাসেও তিনি র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র, চুরি ও ডাকাতিসহ ৮টি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত