
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাঁকে দেখতে রাজধানীর কাকরাইলের অরোরা হাসপাতালে যান তিনি।
পরে নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে গাজী সালাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার বর্ণনায় নিজে ‘হতভম্ব’ হয়েছেন উল্লেখ করেন। তিনি স্বৈরাচার হাসিনার সময়ে কারা হেফাজতে বিরোধী নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরে লেখেন, ‘তারেক রহমানের সরকারও এর পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধ গত ২ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল। সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় ৪ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে গাজী সালাউদ্দিনকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
যদিও সমালোচনার মুখে সিলেটে এনসিপির পথসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের হামলা ঘিরে দেওয়া পোস্ট গাজী সালাউদ্দিন মুছে ফেলেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেন। এ ঘটনায় এনসিপিও তাঁকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার দায়ে বিএনপি নেতার মামলায় গ্রেপ্তার তানভীরকে জামিন না দিয়ে রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ডে তাঁকে অজ্ঞাত ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এমনভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে যে, তাঁর শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে।
গাজী সালাউদ্দিনের আইনজীবীর বরাতে নাহিদ ইসলাম জানান, গত ১৫ আগস্ট গাজী সালাউদ্দিন স্ট্রোক করেন। এরপর তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বারবার আবেদন করেও জামিন পাননি সালাউদ্দিন। সবশেষ উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের জামিন পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কাকরাইল অরোরা হসপিটালে চিকিৎসাধীন বলে এনসিপি সূত্র স্ট্রিমকে জানিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘হাসিনা আমলে কারা হেফাজতে বিরোধী নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে তারেক রহমানের সরকার।’ এই নির্যাতনকে সরকারের মানবাধিকারবিরোধী অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘অপরাধ প্রমাণিত হলে বিচার হবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে ইনজেকশন পুশ করা বা অবশ করে দেওয়ার মতো নির্মমতা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।’
সরকারের কাছে এই ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি রিমান্ডের আগে ও পরের শারীরিক অবস্থা এবং মেডিকেল রেকর্ড জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই কারণেই সরকার স্বাধীন ও শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠনে অনিচ্ছুক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীন, নিরপেক্ষ মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং এর সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার দাবি জানান তিনি।
.png)








