পান দোকানি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পিবিআইর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ২২: ৫৯
পান দোকানি শেফালী বেগম কুলসুম হত্যায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের মেঘডুবি এলাকায় পান দোকানি শেফালী বেগম কুলসুম (৪৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা।

রোববার (১০ মে) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ১২ দিনের মাথায় রংপুর থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন– মো. কামরুজ্জামান (৩৫), আমজাদ হোসেন (৩০) ও আফজাল হোসেন (৩৩)। তাদের মধ্যে কামরুজ্জামান ও আমজাদ শনিবার আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেফালী বেগম মেঘডুবি এলাকায় নিজের বাসায় দোকান পরিচালনার পাশাপাশি তিনটি কক্ষ ভাড়া দেন। গত ২৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বজনরা তাঁর ঘরের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ পান। দরজা খুলে দেখতে পান, বিছানায় কম্বলে মোড়ানো শেফালী বেগমের রক্তাক্ত লাশ। এই ঘটনায় নিহতের মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি পূবাইল থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান এবং পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তারের নির্দেশনায় তদন্তকারী দল ৮ মে রাতে রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকা থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, আসামিরা এ-ওয়ান পলিমার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। তাঁরা শেফালীর দোকান থেকে বাকিতে মালপত্র নিতেন। বকেয়া নিয়ে বিরোধ এবং তাঁর লুট করার জন্য ২৩ এপ্রিল ডাকাতির পরিকল্পনা করেন আসামিরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২৬ এপ্রিল আসামি মো. মনোয়ার (পলাতক) শেফালীর ঘরে গিয়ে কোমল পানীয়ের মধ্যে ঘুমের ওষুধ দিয়ে পান করান।

এরপর বাকি ঘরে এলে আসামি কামরুজ্জামান লাঠি দিয়ে শেফালীর মাথায় আঘাত করেন। মনোয়ার ধারালো দা দিয়ে মুখ, হাত ও পেটে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর তাঁরা ঘর থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকা ও গহনা নিয়ে পালিয়ে যান।

আদালতের মাধ্যমে আফজাল হোসেনকে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা ও লাঠি জব্দ করা হয়েছে।

পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে আমরা তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। পাওনা টাকা এবং লুটের লোভে শেফালী বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত