প্রতিক্রিয়া
মাইনুল ইসলাম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি দেখে মন বিষাদে ভরে গেল। দেখলাম, কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হাঁটুপানিতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। হাঁটু সমান নোংরা পানিতে ভিজে বেঞ্চে পা তুলে তারা উত্তরপত্র লিখছে। এমনকি কক্ষ পরিদর্শকও চেয়ারে পা তুলে বসে আছেন। এই দৃশ্য দেখার পর নিজেকে প্রশ্ন করলাম—আমাদের সন্তানরা কি এটারই যোগ্য? আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ কি এভাবেই বেড়ে উঠবে?
শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মুখে প্রায়ই ‘শিক্ষার্থীবান্ধব’ পরিবেশের কথা শুনি। তারা আশ্বাস দেন, শিক্ষার্থীরা ‘হাসিমুখে’ ও ‘ভয়মুক্ত’ পরিবেশে পরীক্ষা দেবে। কিন্তু কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রের সেই করুণ ছবি কি এই আশ্বাসের সঙ্গে মেলে? যেখানে মেঝেতে পানি থৈ থৈ করছে, সেখানে ‘হাসিমুখে’ পরীক্ষা দেওয়া কীভাবে সম্ভব? সরকারি ভাষ্যে সবকিছু স্বাভাবিক দাবি করা হলেও আমাদের সন্তানরা ন্যূনতম সুস্থ পরিবেশ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। খাতা ও প্রশ্নের গোপনীয়তা রক্ষায় যত কড়াকড়ি দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মানবিক মর্যাদা রক্ষায় কেন সেই তৎপরতা নেই?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি—হঠাৎ ‘মেঘ বিস্ফোরণ’ বা অতিবৃষ্টির কারণে এমনটা হয়েছে। তারা নাকি প্রস্তুত ছিলেন না। অথচ কুমিল্লার ওই এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে, এটি একটি পরিচিত সমস্যা। তাহলে পরীক্ষাকেন্দ্র নির্বাচনের সময় এই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকু কোথায় ছিল? বর্ষাকালে নিচু এলাকার স্কুলকে কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার দায় কি কেউ নেবে? ‘হঠাৎ হয়েছে’ বলে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি আর কতদিন চলবে?
কল্পনা করুন সেই কিশোর শিক্ষার্থীটির কথা। বাড়ি থেকে কাদা-জল মাড়িয়ে ভেজা শরীরে সে কেন্দ্রে পৌঁছেছে। হলে গিয়ে দেখল বসার জায়গাও ডুবে আছে। বিদ্যুৎ নেই, ভ্যাপসা গরমে মোমবাতির আবছা আলোয় তাকে প্রশ্ন পড়তে হচ্ছে। এই অসহ্য পরিবেশে কি ঠিকমতো পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব? সারা বছরের প্রস্তুতি কি এই কয়েক ঘণ্টার অব্যবস্থাপনায় মাটি হয়ে যাবে না? এই মানসিক চাপের দায় কে নেবে?
সন্তানদের সুন্দর পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ চাই। কেন্দ্র চূড়ান্ত করার আগে কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় রাখতে হবে বিকল্প পরিকল্পনা। একবিংশ শতাব্দীতে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না; তাই জেনারেটর বা সোলারের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। একইসাথে, যারা অনুপযুক্ত কেন্দ্র নির্বাচন করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য ন্যূনতম সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা শুধু ছবি ভাইরাল হওয়া বা দায়সারা দুঃখ প্রকাশ চাই না। আমাদের সন্তানদের মেধা বিকাশের জন্য অন্তত পরীক্ষার কয়েকটা ঘণ্টা স্বস্তিতে থাকার অধিকারটুকু নিশ্চিত করা হোক।
লেখক: সাংবাদিক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি দেখে মন বিষাদে ভরে গেল। দেখলাম, কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হাঁটুপানিতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। হাঁটু সমান নোংরা পানিতে ভিজে বেঞ্চে পা তুলে তারা উত্তরপত্র লিখছে। এমনকি কক্ষ পরিদর্শকও চেয়ারে পা তুলে বসে আছেন। এই দৃশ্য দেখার পর নিজেকে প্রশ্ন করলাম—আমাদের সন্তানরা কি এটারই যোগ্য? আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ কি এভাবেই বেড়ে উঠবে?
শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মুখে প্রায়ই ‘শিক্ষার্থীবান্ধব’ পরিবেশের কথা শুনি। তারা আশ্বাস দেন, শিক্ষার্থীরা ‘হাসিমুখে’ ও ‘ভয়মুক্ত’ পরিবেশে পরীক্ষা দেবে। কিন্তু কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রের সেই করুণ ছবি কি এই আশ্বাসের সঙ্গে মেলে? যেখানে মেঝেতে পানি থৈ থৈ করছে, সেখানে ‘হাসিমুখে’ পরীক্ষা দেওয়া কীভাবে সম্ভব? সরকারি ভাষ্যে সবকিছু স্বাভাবিক দাবি করা হলেও আমাদের সন্তানরা ন্যূনতম সুস্থ পরিবেশ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। খাতা ও প্রশ্নের গোপনীয়তা রক্ষায় যত কড়াকড়ি দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মানবিক মর্যাদা রক্ষায় কেন সেই তৎপরতা নেই?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি—হঠাৎ ‘মেঘ বিস্ফোরণ’ বা অতিবৃষ্টির কারণে এমনটা হয়েছে। তারা নাকি প্রস্তুত ছিলেন না। অথচ কুমিল্লার ওই এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে, এটি একটি পরিচিত সমস্যা। তাহলে পরীক্ষাকেন্দ্র নির্বাচনের সময় এই সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানটুকু কোথায় ছিল? বর্ষাকালে নিচু এলাকার স্কুলকে কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার দায় কি কেউ নেবে? ‘হঠাৎ হয়েছে’ বলে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি আর কতদিন চলবে?
কল্পনা করুন সেই কিশোর শিক্ষার্থীটির কথা। বাড়ি থেকে কাদা-জল মাড়িয়ে ভেজা শরীরে সে কেন্দ্রে পৌঁছেছে। হলে গিয়ে দেখল বসার জায়গাও ডুবে আছে। বিদ্যুৎ নেই, ভ্যাপসা গরমে মোমবাতির আবছা আলোয় তাকে প্রশ্ন পড়তে হচ্ছে। এই অসহ্য পরিবেশে কি ঠিকমতো পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব? সারা বছরের প্রস্তুতি কি এই কয়েক ঘণ্টার অব্যবস্থাপনায় মাটি হয়ে যাবে না? এই মানসিক চাপের দায় কে নেবে?
সন্তানদের সুন্দর পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ চাই। কেন্দ্র চূড়ান্ত করার আগে কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় রাখতে হবে বিকল্প পরিকল্পনা। একবিংশ শতাব্দীতে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না; তাই জেনারেটর বা সোলারের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। একইসাথে, যারা অনুপযুক্ত কেন্দ্র নির্বাচন করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য ন্যূনতম সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা শুধু ছবি ভাইরাল হওয়া বা দায়সারা দুঃখ প্রকাশ চাই না। আমাদের সন্তানদের মেধা বিকাশের জন্য অন্তত পরীক্ষার কয়েকটা ঘণ্টা স্বস্তিতে থাকার অধিকারটুকু নিশ্চিত করা হোক।
লেখক: সাংবাদিক

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থান ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা দেশটির নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশের প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণে নদীটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
৬ ঘণ্টা আগে
রেহান আসিফ আসাদ, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাদার। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আগে বুধবার (১০ জুন) স্ট্রিমের সঙ্গে আলাপে তিনি তুলে ধরেছেন সিম ট্যাক্স, স্টার্টআপ তহবিল, ডেটা সেন্টারসহ ডিজিটাল অবকাঠামো ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা।
১০ ঘণ্টা আগে
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এই তথ্য জানাচ্ছে খোদ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
১১ ঘণ্টা আগে
ঢালাওভাবে কর্মী না পাঠিয়ে, প্রথমে ৫০ বা ১০০ জন কর্মী পাঠিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারা সেখানে নিরাপদে আছেন কি না এবং চুক্তিমতো কাজ পাচ্ছেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে আরও কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
১৩ ঘণ্টা আগে