হাসান জামিল

কয়েক দিন আগে রাতে অফিস থেকে রিকশা দিয়ে ফেরার সময় দুই ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল থেকে আমার ব্যাগ টান দিলেন। দ্রুত রিফ্লেক্স দেখাতে পারায় ব্যাগটা তাঁরা নিতে পারেননি। বাইকটা শাঁ করে টান দিয়ে পাশ দিয়ে চলে গেল। পেছনে বসা ছিনতাইকারী মাথায় এমনভাবে হাত দিল–যেমনটা স্লিপে খুব লোপ্পা একটা ক্যাচ মিস করার পর বোলার করে থাকে।
তাৎক্ষণিক ‘লাইফ’ পাওয়ায় আমারও আনন্দ হলো। একটা মুখভরা গালি দিলাম দ্রুত ধাবমান ছিনতাইকারীদের। পরের দিন আমার এই ‘লাইফ পাওয়ার গল্প’ জনে জনে বললাম বেশ গলা ফুলিয়ে। কিন্তু ফেরার পথে? রাতে ফেরার পথে আমাকে ঠিকই আগের দিনের উৎকণ্ঠাটা কিছুটা হলেও চেপে ধরল। আবার না ছিনতাইকারীর হাতে পড়ি। ফোনটা জিনসের পকেটের গভীরতম জায়গায় ঠেসে রাখলাম আর ব্যাগটাও শক্ত করে চেপে ধরে ফিরলাম।
আমাকে যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, এমন প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আমাদের প্রায় সবাইকে যেতে হচ্ছে। একটা অনিশ্চয়তার ভয়, কী জানি কী হয়! তা রাজনীতি, সমাজ থেকে একদম মাইক্রো লেভেল–ব্যক্তিপর্যায়েও। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের খুনের দরিয়া পার হওয়ার পর মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রাপ্তির যে ব্যবধান, তা এত বেশি যে সেটি ‘অন্ধকারের ভীতি’ এনে দেয়।
দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। যা দেশের প্রতিটি সামাজিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি, সহিংসতা, শ্রমিক আন্দোলন, মব সন্ত্রাস, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা—সব মিলিয়ে একটি জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এমন দায় দেওয়া অবশ্য বেইনসাফই হবে, যদি এর সব কিছুই সরকার প্রযোজনা করছে বলা হয়। কিন্তু সব কিছুর দায় তো আদতে সরকারকে টানা লাগবে, লাগে।
হাসিনাশাহির পতনের পর আমাদের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র-যাত্রা। জুলাই সনদ ইত্যাদির পর এমন রাষ্ট্রের দিকে বাংলাদেশ যাত্রা করবে, যেখানে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। কিন্তু সেই জায়গা থেকে আমরা মনে হয় অনেক দূরে সরে এসেছি। এখন নির্বাচনের মতো বেসিক জায়গা নিয়ে কি উৎকণ্ঠার জন্ম নিয়েছে? রাজনৈতিক দলগুলো থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই আশঙ্কা, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। তাই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে প্রেস সচিব–সবাই বারবার ফেব্রিয়ারিতেই নির্বাচন হবে, কথাটি বারবার বলে বলে মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাইছেন। আবার অনেকেই চান, আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন।
এসব মিলে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগের। ভোটের সুষ্ঠুতা, নিরপেক্ষতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতি মানুষের মনে ভয় ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। কারণ, তাঁরা নিশ্চিত নন, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতি কোন পথে যাবে।
জাতীয় নির্বাচনের রাস্তা তৈরির মহড়া হিসেবে দেশের ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন আয়োজন করছে সরকার। ডাকসু নির্বাচন হবে কি হবে না, এ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। কোর্টের এক নির্দেশে স্থগিত হওয়ার পর আবার আরেক নির্দেশে হবে বলে নিশ্চিত করা হয়। এ দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও সহিংসতার বড় শিকার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
জুলাইয়ের পর সরকারি বাহিনী প্রথম আক্রমণে যায় শ্রমিকদের বিপক্ষে। শ্রমিকেরা সব সময় সরকারের—যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক—প্রিয় টার্গেট। গত এক বছরে সাভার, গাজীপুরের কারখানাগুলোর প্রতিটি আন্দোলনে সরকারি বাহিনী আগের মতোই মারমুখী ছিল। এই ঘটনাগুলো মানুষের কাছে এক ভয়ংকর বার্তা দিয়েছে—শ্রমিকেরা যতো যৌক্তিক আন্দোলনই করুক না কেন বাংলাদেশের শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া যায় এক তুড়িতে। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এখনো সোনার স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে।
বর্তমান সরকার রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলার চেষ্টা করলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত ক্ষমতায় বসার সাধ, সরকারের মব মোকাবিলায় ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্য নাগালে রাখতে না পারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের হাতে টাকা ও অস্ত্র থাকায় সেগুলোর ব্যবহার—সব মিলিয়ে অনেকটা নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ অনুভব করছে, তাদের নিরাপত্তা ও উন্নতির কথা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না কোনো দিক থেকেই। না সরকারের দিক থেকে, না রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মানুষের জীবনকে আরও কষ্টকর করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অভাব, ক্রয়ক্ষমতার অবনতি—সবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাধারণ মানুষ যখন বাজারে গিয়ে তার দরকারি জিনিসটি কিনতে খাবি খায়, তখন তার কাছে রাজনীতির প্রতিশ্রুতি অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়।
ছাত্র থেকে শুরু করে শ্রমিক, কৃষক থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত—কথা বলে দেখুন, অনেকেই এই সময়কে ‘অস্থির’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। যখন নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতা প্রকাশ্যে হামলার শিকার হন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলে দলে মার খান, অথবা যখন শ্রমিকেরা ন্যায্য দাবিতে প্রাণ হারান—তখন ‘এই সময়টি কীভাবে উদ্যাপন করবেন’—কথাটি বড় একটি প্রশ্নবোধক চিহ্নের সামনে পড়ে যায়, যার উচ্চতা একটু বেশিই।
নিরাপদ বোধ করা একটা ‘অনুভব’। চারদিকে পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখাটা বরং এর উল্টোই। ওই দিন যে আমার ব্যাগ টান দিল, ব্যাগ কিন্তু ছিনতাইকারী নিতে পারেনি। তবে কিছু একটা নিয়ে গেছে, সেটা হলো আমার নিরাপদ বোধ করার অনুভবটা। ওই রাস্তা দিয়ে যেতে আমার মধ্যে একটা উৎকণ্ঠা কাজ করে। আমার সঙ্গে দুজন বন্দুকধারী দিয়ে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেন, এটা কোনো কাজের কথা নয়। বরং আমার মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাসটা ফিরিয়ে দিতে হবে যে আমি নিরাপদ। এমন মাইক্রো লেভেলের আস্থা যখন ফিরবে প্রত্যেক মানুষের মনে, তখনই সহনশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তার রাস্তাটা সুগম হবে। শান্ত, উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যে সাধ, সেটা সাধ্যির মধ্যে আসবে মূলত মানুষ নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে জীবন কাটাতে পারলেই।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক।

কয়েক দিন আগে রাতে অফিস থেকে রিকশা দিয়ে ফেরার সময় দুই ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল থেকে আমার ব্যাগ টান দিলেন। দ্রুত রিফ্লেক্স দেখাতে পারায় ব্যাগটা তাঁরা নিতে পারেননি। বাইকটা শাঁ করে টান দিয়ে পাশ দিয়ে চলে গেল। পেছনে বসা ছিনতাইকারী মাথায় এমনভাবে হাত দিল–যেমনটা স্লিপে খুব লোপ্পা একটা ক্যাচ মিস করার পর বোলার করে থাকে।
তাৎক্ষণিক ‘লাইফ’ পাওয়ায় আমারও আনন্দ হলো। একটা মুখভরা গালি দিলাম দ্রুত ধাবমান ছিনতাইকারীদের। পরের দিন আমার এই ‘লাইফ পাওয়ার গল্প’ জনে জনে বললাম বেশ গলা ফুলিয়ে। কিন্তু ফেরার পথে? রাতে ফেরার পথে আমাকে ঠিকই আগের দিনের উৎকণ্ঠাটা কিছুটা হলেও চেপে ধরল। আবার না ছিনতাইকারীর হাতে পড়ি। ফোনটা জিনসের পকেটের গভীরতম জায়গায় ঠেসে রাখলাম আর ব্যাগটাও শক্ত করে চেপে ধরে ফিরলাম।
আমাকে যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, এমন প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আমাদের প্রায় সবাইকে যেতে হচ্ছে। একটা অনিশ্চয়তার ভয়, কী জানি কী হয়! তা রাজনীতি, সমাজ থেকে একদম মাইক্রো লেভেল–ব্যক্তিপর্যায়েও। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের খুনের দরিয়া পার হওয়ার পর মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রাপ্তির যে ব্যবধান, তা এত বেশি যে সেটি ‘অন্ধকারের ভীতি’ এনে দেয়।
দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। যা দেশের প্রতিটি সামাজিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি, সহিংসতা, শ্রমিক আন্দোলন, মব সন্ত্রাস, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা—সব মিলিয়ে একটি জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এমন দায় দেওয়া অবশ্য বেইনসাফই হবে, যদি এর সব কিছুই সরকার প্রযোজনা করছে বলা হয়। কিন্তু সব কিছুর দায় তো আদতে সরকারকে টানা লাগবে, লাগে।
হাসিনাশাহির পতনের পর আমাদের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র-যাত্রা। জুলাই সনদ ইত্যাদির পর এমন রাষ্ট্রের দিকে বাংলাদেশ যাত্রা করবে, যেখানে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। কিন্তু সেই জায়গা থেকে আমরা মনে হয় অনেক দূরে সরে এসেছি। এখন নির্বাচনের মতো বেসিক জায়গা নিয়ে কি উৎকণ্ঠার জন্ম নিয়েছে? রাজনৈতিক দলগুলো থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই আশঙ্কা, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। তাই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে প্রেস সচিব–সবাই বারবার ফেব্রিয়ারিতেই নির্বাচন হবে, কথাটি বারবার বলে বলে মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাইছেন। আবার অনেকেই চান, আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন।
এসব মিলে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগের। ভোটের সুষ্ঠুতা, নিরপেক্ষতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতি মানুষের মনে ভয় ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। কারণ, তাঁরা নিশ্চিত নন, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতি কোন পথে যাবে।
জাতীয় নির্বাচনের রাস্তা তৈরির মহড়া হিসেবে দেশের ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন আয়োজন করছে সরকার। ডাকসু নির্বাচন হবে কি হবে না, এ নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। কোর্টের এক নির্দেশে স্থগিত হওয়ার পর আবার আরেক নির্দেশে হবে বলে নিশ্চিত করা হয়। এ দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও সহিংসতার বড় শিকার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
জুলাইয়ের পর সরকারি বাহিনী প্রথম আক্রমণে যায় শ্রমিকদের বিপক্ষে। শ্রমিকেরা সব সময় সরকারের—যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক—প্রিয় টার্গেট। গত এক বছরে সাভার, গাজীপুরের কারখানাগুলোর প্রতিটি আন্দোলনে সরকারি বাহিনী আগের মতোই মারমুখী ছিল। এই ঘটনাগুলো মানুষের কাছে এক ভয়ংকর বার্তা দিয়েছে—শ্রমিকেরা যতো যৌক্তিক আন্দোলনই করুক না কেন বাংলাদেশের শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া যায় এক তুড়িতে। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এখনো সোনার স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে।
বর্তমান সরকার রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলার চেষ্টা করলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত ক্ষমতায় বসার সাধ, সরকারের মব মোকাবিলায় ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্য নাগালে রাখতে না পারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের হাতে টাকা ও অস্ত্র থাকায় সেগুলোর ব্যবহার—সব মিলিয়ে অনেকটা নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ অনুভব করছে, তাদের নিরাপত্তা ও উন্নতির কথা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না কোনো দিক থেকেই। না সরকারের দিক থেকে, না রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মানুষের জীবনকে আরও কষ্টকর করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অভাব, ক্রয়ক্ষমতার অবনতি—সবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাধারণ মানুষ যখন বাজারে গিয়ে তার দরকারি জিনিসটি কিনতে খাবি খায়, তখন তার কাছে রাজনীতির প্রতিশ্রুতি অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়।
ছাত্র থেকে শুরু করে শ্রমিক, কৃষক থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত—কথা বলে দেখুন, অনেকেই এই সময়কে ‘অস্থির’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। যখন নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতা প্রকাশ্যে হামলার শিকার হন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দলে দলে মার খান, অথবা যখন শ্রমিকেরা ন্যায্য দাবিতে প্রাণ হারান—তখন ‘এই সময়টি কীভাবে উদ্যাপন করবেন’—কথাটি বড় একটি প্রশ্নবোধক চিহ্নের সামনে পড়ে যায়, যার উচ্চতা একটু বেশিই।
নিরাপদ বোধ করা একটা ‘অনুভব’। চারদিকে পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখাটা বরং এর উল্টোই। ওই দিন যে আমার ব্যাগ টান দিল, ব্যাগ কিন্তু ছিনতাইকারী নিতে পারেনি। তবে কিছু একটা নিয়ে গেছে, সেটা হলো আমার নিরাপদ বোধ করার অনুভবটা। ওই রাস্তা দিয়ে যেতে আমার মধ্যে একটা উৎকণ্ঠা কাজ করে। আমার সঙ্গে দুজন বন্দুকধারী দিয়ে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেন, এটা কোনো কাজের কথা নয়। বরং আমার মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাসটা ফিরিয়ে দিতে হবে যে আমি নিরাপদ। এমন মাইক্রো লেভেলের আস্থা যখন ফিরবে প্রত্যেক মানুষের মনে, তখনই সহনশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তার রাস্তাটা সুগম হবে। শান্ত, উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যে সাধ, সেটা সাধ্যির মধ্যে আসবে মূলত মানুষ নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে জীবন কাটাতে পারলেই।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক।

ইরানে হয়তো সরকার পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এই যুদ্ধ থামাতে হলে আসলে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বেপরোয়া সরকারগুলোর পতন হওয়া জরুরি। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের মানুষ যুদ্ধ-উন্মাদনায় ভুগছে। তারা নেতানিয়াহুকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে
সংসদ সদস্যদের স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে হবে যে তাদের মূল দায়িত্ব দুটি—আইন প্রণয়ন এবং সরকারের কাজের তদারকি করা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংসদ সদস্যদের কাজ নয়।। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, নিজের ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তাদের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বেশি সময় দিতে হবে। নয়তো সংসদ তার কার্যকারিতা হারাবে।
৯ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে যদি ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রত্যেক দরিদ্র নাগরিকের জন্য সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তর করা যায় এবং বাজেট ও সম্পদের ব্যবহার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারবে।
১২ ঘণ্টা আগে
গত মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশল প্রকাশ করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রহার’। এই ঐতিহাসিক দলিলটি প্রতিক্রিয়াশীল ও খণ্ডিত নিরাপত্তা কাঠামো থেকে সুসংগঠিত আইন-ভিত্তিক কাঠামোতে রূপান্তরের ইঙ্গিত—যা ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্
১৫ ঘণ্টা আগে