মো. জামাল উদ্দিন রুনু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯২ সালে। প্রায় ৩৩ বছর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংগত কারণেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সবার মধ্যে একধরনের আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় এবং নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে জাকসু নির্বাচনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের মতামত যেমন প্রতিফলিত হয়, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতে সুযোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বিভাগ, হল কিংবা ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় দাবিগুলো পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব খুঁজে পায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন করে না। এই প্রক্রিয়া ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সংগঠনসমূহের মধ্যে সহাবস্থান আর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তাও করে।
পাশাপাশি সংগঠনগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে সুস্থ ও জ্ঞানভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চার দ্বার উন্মোচন করে। আর এর মাধ্যমে ভালো ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক নেতৃত্ব বিকাশেরও সুযোগ পায়।
জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক, সামাজিক, এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কিছু যোগ্য কিছু নেতৃত্বও পেয়ে থাকে দেশ।
আমাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ জাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং নিরাপদভাবে সুসম্পন্ন হবে। যদিও নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে।
অনেক প্রার্থী ও সচেতন শিক্ষার্থী মনে করে, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা কমেছে। উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে আচরণবিধি অন্তরায় বলে বিবেচিত হয়েছে।
আমার শিক্ষার্থী জীবনে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত চারটি জাকসু নির্বাচন দেখার সুযোগ হয়েছিল। সর্বশেষ ১৯৯২ জাকসু সভায় নির্বাচিত সিনেট সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভায় প্রতিনিধিত্ব করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি -- এবারের জাকসু নির্বাচন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি।
বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে অনেক পদে প্রার্থিতা দেওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকা ছিল ভীষণ হতাশার। যদিও জুলাই ২৪ আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি—এবারের জাকসু নির্বাচন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি।
ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাকসু কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদ নির্বাচন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে যতটুকু বুঝেছি, বেশ কিছু অনিয়ম ও বিতর্কিত বিষয় ছাড়া মোটামুটি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাকসু নির্বাচন।
আশা করি সকল ক্রিয়াশীল সংগঠন ও প্রশাসন পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সফলভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি ইতিহাস তৈরি করবে।
জাতির প্রত্যাশা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রতিটি ক্যাম্পাসে এক ধরনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। ধারণা করছি, এর মাধ্যমে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ফিরে আসবে।
লেখক: অধ্যাপক,পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ ও পরিচালক শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯২ সালে। প্রায় ৩৩ বছর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংগত কারণেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সবার মধ্যে একধরনের আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় এবং নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে জাকসু নির্বাচনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের মতামত যেমন প্রতিফলিত হয়, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতে সুযোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বিভাগ, হল কিংবা ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় দাবিগুলো পূরণের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব খুঁজে পায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন করে না। এই প্রক্রিয়া ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সংগঠনসমূহের মধ্যে সহাবস্থান আর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তাও করে।
পাশাপাশি সংগঠনগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে সুস্থ ও জ্ঞানভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চার দ্বার উন্মোচন করে। আর এর মাধ্যমে ভালো ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক নেতৃত্ব বিকাশেরও সুযোগ পায়।
জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক, সামাজিক, এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কিছু যোগ্য কিছু নেতৃত্বও পেয়ে থাকে দেশ।
আমাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ জাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং নিরাপদভাবে সুসম্পন্ন হবে। যদিও নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে।
অনেক প্রার্থী ও সচেতন শিক্ষার্থী মনে করে, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা কমেছে। উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে আচরণবিধি অন্তরায় বলে বিবেচিত হয়েছে।
আমার শিক্ষার্থী জীবনে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত চারটি জাকসু নির্বাচন দেখার সুযোগ হয়েছিল। সর্বশেষ ১৯৯২ জাকসু সভায় নির্বাচিত সিনেট সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভায় প্রতিনিধিত্ব করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি -- এবারের জাকসু নির্বাচন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি।
বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে অনেক পদে প্রার্থিতা দেওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকা ছিল ভীষণ হতাশার। যদিও জুলাই ২৪ আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি—এবারের জাকসু নির্বাচন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি।
ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাকসু কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদ নির্বাচন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে যতটুকু বুঝেছি, বেশ কিছু অনিয়ম ও বিতর্কিত বিষয় ছাড়া মোটামুটি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাকসু নির্বাচন।
আশা করি সকল ক্রিয়াশীল সংগঠন ও প্রশাসন পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সফলভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি ইতিহাস তৈরি করবে।
জাতির প্রত্যাশা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রতিটি ক্যাম্পাসে এক ধরনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। ধারণা করছি, এর মাধ্যমে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ফিরে আসবে।
লেখক: অধ্যাপক,পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ ও পরিচালক শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকার আবাসিক ভবনগুলোয় মন্ত্রীরা বসবাস করেন। বর্তমানে সেখানে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বাড়িগুলো বনেদি। বিশাল জায়গাজুড়ে। খোলামেলা। কিন্তু তারপরও ভবিষ্যৎ সরকারের মন্ত
৮ ঘণ্টা আগে
লাশের কি কোনো রাজনীতি আছে? ৯ মাসের শিশুর লাশের গায়ে কি দলীয় লেবেল সাঁটা সম্ভব? বাগেরহাটের মর্মান্তিক ঘটনা ও কারাবন্দীর প্যারোল অধিকার প্রসঙ্গে লিখেছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মারুফ ইসলাম।
১ দিন আগে
একসময় যা ছিল উগ্রবাদী প্রচারপুস্তকের স্লোগান, আজ তা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ভাষ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নাৎসি মতাদর্শ লালন ও প্রচারের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
১ দিন আগে
আজকের সমাজে আমরা এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে ক্ষণিকের আনন্দ আমাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। মোবাইল স্ক্রলের তৃপ্তি, ফেসবুক বা রিলসের অন্তহীন প্রবাহ, কিংবা ভার্চুয়াল বিনোদনের সাময়িক স্বস্তি—এসবই আমাদের ক্লান্ত মনকে মুহূর্তের জন্য আরাম দেয়।
২ দিন আগে