
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি চিঠি বাংলাদেশের বিমান ক্রয়ের প্রশ্নকে নিছক বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের সীমানা থেকে সরিয়ে কূটনীতির আলোচনায় নিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা চিঠিতে তিনি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণভাবে লিখেছেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না এবং তিনি এই সিদ্ধান্ত “ভুলবেন না”।
একই চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগির সাক্ষাতের আগ্রহও ব্যক্ত করেছেন। একটি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত যখন সরাসরি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগের অংশ হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর পরিকল্পনার বিষয় থাকে না; তার একটি কূটনৈতিক হিসাব নিকাশও তৈরি হয়।
কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বিমান কেনার রাজনীতি আরও বিস্তৃত। একদিকে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বোয়িং থেকে বড় অঙ্কের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ কিনছে; অন্যদিকে ইউরোপীয় এয়ারবাসকে বহরে আনার আলোচনা চলছে। একই সময়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের জন্য চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন উড্ডয়নযান কেনার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের আকাশ সক্ষমতার সঙ্গে এখন অন্তত তিনটি বৃহৎ বহিরাগত সম্পর্ক যুক্ত—যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীন। এই তিনটি সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য এক নয়, কিন্তু ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের কূটনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো একটি বড় প্রশ্ন সামনে আনে: বাংলাদেশ কি প্রতিযোগী শক্তিগুলোর আগ্রহকে নিজের দর-কষাকষির শক্তিতে রূপ দিতে পারবে, নাকি ক্রমবর্ধমান ক্রয়নির্ভরতাই শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা কমাবে?
বাংলাদেশকে ‘ক্ষুদ্র রাষ্ট্র’ বলা নিয়ে প্রথমেই একটি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। জনসংখ্যা বা ভূখণ্ডে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক তত্ত্বে ক্ষুদ্রতা কেবল আয়তন বা জনসংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয় না। টম লং তাঁর A Small State’s Guide to Influence in World Politics গ্রন্থে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে মূলত সম্পর্কভিত্তিক ধারণা হিসেবে দেখেছেন। অর্থাৎ একটি রাষ্ট্র কোন শক্তির সঙ্গে কোন সম্পর্কে আছে এবং সেই সম্পর্কে ক্ষমতার ব্যবধান কতটা—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এ অর্থে স্পষ্টতই অসম।
ব্র্যান্টলি ওম্যাকের অসম সম্পর্কের তত্ত্বও এখানে কার্যকর। তিনি দেখান, ক্ষমতার ব্যবধান থাকলেও শক্তিশালী রাষ্ট্র সব সময় দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারে না। ছোট পক্ষের কাছে সম্পর্কটির গুরুত্ব বেশি হওয়ায় তার উদ্বেগও বেশি; কিন্তু বিকল্প অংশীদার, ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং তৃতীয় শক্তির আগ্রহ তাকে দর-কষাকষির সুযোগ দিতে পারে। অর্থাৎ দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব একই জিনিস নয়।
বাংলাদেশের বর্তমান বিমান কেনাকাটার প্রশ্নে এই কথাটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্র যদি বোয়িং বিক্রিতে আগ্রহী হয়, ইউরোপ যদি এয়ারবাসের জন্য সক্রিয় হয় এবং চীন যদি বাংলাদেশের সামরিক বিমান আধুনিকায়নে প্রধান অংশীদার হতে চায়, তাহলে তিন পক্ষের আগ্রহই বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য কূটনৈতিক সম্পদ। কিন্তু শর্ত হলো, ঢাকা যেন প্রতিটি সম্পর্কের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে—শুধু ক্রেতা হিসেবে নয়, দর-কষাকষিকারী রাষ্ট্র হিসেবে।
গত ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। এর মধ্যে রয়েছে দশটি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই ক্রয়কে বাংলাদেশের বিমান বহর সম্প্রসারণের প্রয়োজনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যঘাটতি এবং শুল্কসংক্রান্ত বৃহত্তর আলোচনার প্রেক্ষাপটেও দেখা হয়েছে। অর্থাৎ এই ক্রয়ের একটি বাণিজ্যিক যুক্তি আছে, আবার একটি অর্থনৈতিক-কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও আছে।
ট্রাম্পের চিঠিটি সেই রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও দৃশ্যমান করেছে। তবে এখান থেকে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া ঠিক হবে না যে বাংলাদেশ কেবল মার্কিন চাপেই বোয়িং কিনেছে। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, এত বড় ক্রয় থেকে ঢাকা কী অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করতে পারে—বাজারে প্রবেশাধিকার, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কিংবা বাণিজ্য আলোচনায় বাড়তি সুবিধা?
আরেকটি প্রসঙ্গও এখানে লক্ষণীয়। বাংলাদেশের বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জুলাইয়ে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর অর্থ, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান খাতে বোয়িংয়ের উপস্থিতি শুধু রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রীয় কূটনীতির সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না; বরং এটি বাংলাদেশের দ্রুত বাড়তে থাকা বিমানবাজারে মার্কিন নির্মাতার বিস্তৃত উপস্থিতির নির্দেশক।
বোয়িং চুক্তির কিছুদিন পরই এয়ারবাস চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিওসহ দশটি উড়োজাহাজের নতুন প্রস্তাব দেয়। জুলাইয়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে এয়ারবাস এবং বৃহত্তর বিমান চলাচল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। সরকারও জানায়, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে একটি মিশ্র বহর গড়ে তুলতে চায়।
তবে এখানে সাম্প্রতিক একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। সরকার প্রথমে ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করার আশা প্রকাশ করলেও আগস্টের শেষভাগ পর্যন্ত মূল্য, বহরের বিন্যাস ও অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছিল; প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী চুক্তি তখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এয়ারবাস ক্রয়কে এখনো বোয়িং চুক্তির মতো সম্পন্ন ঘটনা হিসেবে লেখা উচিত নয়।
ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জন্য এয়ারবাসের সবচেয়ে বড় মূল্য হয়তো এখানেই—বিকল্প। একমাত্র সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল হলে দর-কষাকষির জায়গা কমে যায়। দুই নির্মাতা প্রতিযোগিতায় থাকলে মূল্য, অর্থায়ন, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের শর্ত নিয়ে ভালো সুবিধা আদায়ের সুযোগ বাড়ে।
তবে কূটনৈতিক ভারসাম্যের জন্য মিশ্র বহর তৈরি করাই লক্ষ্য হতে পারে না। দুই ধরনের উড়োজাহাজ চালালে প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ, বৈমানিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়তে পারে। কাজেই কূটনৈতিক সুবিধা তখনই মূল্যবান, যখন সেটি বিমানের বাণিজ্যিক কার্যকারিতাকে দুর্বল না করে।
বেসামরিক বিমানের আলোচনার প্রায় সমান্তরালে আরেকটি বড় ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ চীনের জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান, আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং চালকবিহীন উড্ডয়নব্যবস্থা কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। একটি কমিটি ইতোমধ্যে আলোচনা করে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে; অর্থায়ন পাওয়া গেলে বর্তমান অর্থবছরেই, নতুবা পরবর্তী সময়ে ক্রয় এগোতে পারে। রয়টার্সও জানিয়েছে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক আলোচনার দিকে এগোচ্ছে, যদিও সরকার এখনো চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য বা সরবরাহ সময় প্রকাশ করেনি।
এই ক্রয়কে বোয়িং বা এয়ারবাসের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যাবে না। যাত্রীবাহী বিমান কেনার উদ্দেশ্য পথ সম্প্রসারণ, যাত্রী পরিবহন ও বাণিজ্যিক আয়; যুদ্ধবিমানের উদ্দেশ্য জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা। কিন্তু নির্ভরতার রাজনৈতিক যুক্তি দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ, সামরিক ক্ষেত্রে আরও বেশি।
আধুনিক যুদ্ধবিমান একবার কিনলেই সম্পর্ক শেষ হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্র, গোলাবারুদ, রাডার, সফটওয়্যার, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ, মেরামত ও আধুনিকীকরণের জন্য সরবরাহকারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হয়। চীন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী; জে-১০সিই যুক্ত হলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিমান শক্তির আরও বড় অংশ চীনা সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে।
ঠিক এই সময়েই বাংলাদেশ ও চীন প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে জে-১০সিই আলোচনা কোনো বিচ্ছিন্ন ক্রয় নয়; এটি আরও বিস্তৃত বাংলাদেশ–চীন কৌশলগত সম্পর্কের মধ্যেই ঘটছে।
এখানে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জন্য মূল শিক্ষা হচ্ছে—সক্ষমতা বাড়ানো এবং নির্ভরতা বাড়ানো এক জিনিস নয়, কিন্তু কখনো কখনো একই সঙ্গে দুটোই ঘটে। জে-১০সিই বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারে; একই সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দেশের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা বাড়াতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু যুদ্ধবিমানটি কতটা শক্তিশালী নয়; প্রশ্ন হলো, তার পূর্ণ জীবনচক্রে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতার মূল্য কত।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রাখতে হবে। ভারত ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জে-১০সিই ক্রয়, ঢাকা–বেইজিং সম্পর্ক এবং অন্যান্য কৌশলগত উদ্যোগ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ক্রয়ে ভারতের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের কূটনীতিতে নিজের উদ্দেশ্যের পাশাপাশি প্রতিবেশীর ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ; কারণ একটি রাষ্ট্র যাকে প্রতিরক্ষামূলক আধুনিকায়ন বলে দেখে, অন্য রাষ্ট্র সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
এখানে মালদ্বীপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর সরকার শুরুতে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার পর আবার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করে। ২০২৫ সালে ভারত মালদ্বীপকে ৫৬৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণসুবিধা দেয় এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করে; একই সময়ে মালে চীন ও অন্য অংশীদারদের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সরাসরি অনুকরণ করার মডেল নয়; বরং নীতিগত শিক্ষা প্রদান করে। ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের প্রভাব তখনই বেশি থাকে, যখন প্রতিযোগী অংশীদারের সামনে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প থাকে। এক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে গিয়ে অন্য সব দরজা বন্ধ করে দিলে দর-কষাকষির ক্ষমতাই কমে যায়।
বাংলাদেশের বিমান নীতির আরেকটি প্রায় উপেক্ষিত বিষয় হলো সময়। নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ আসা শুরু হবে মূলত ২০৩১ সাল থেকে। তাই সরকার এর মধ্যে বহরের ঘাটতি পূরণের জন্য সর্বোচ্চ দশটি উড়োজাহাজ ইজারা নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে। অর্থাৎ বর্তমান সমস্যাটি শুধু ‘কোন দেশ থেকে বিমান কিনব’ নয়; বর্তমান যাত্রীচাহিদা, নতুন গন্তব্য, বহরের ব্যবহার এবং লাভজনকতা—এসবের সঙ্গে ক্রয় পরিকল্পনার সম্পর্ক কতটা যুক্তিসংগত, সেটিও পরীক্ষা করা দরকার।
এখানেই বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট জাতীয় বিমান ক্রয়নীতি দরকার। বেসামরিক উড়োজাহাজে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—কোন পথে কত যাত্রী, কত আসন, কত জ্বালানি ব্যয়, কত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং পুরো আয়ুষ্কালে মোট আর্থিক দায় কত? সামরিক বিমান কেনার ক্ষেত্রে প্রশ্ন হবে—বাংলাদেশের হুমকি মূল্যায়ন কী, বিমানটি কোন দায়িত্ব পালন করবে, প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও নজরদারি ব্যবস্থা কী, এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহনির্ভরতা কতটা?
যুক্তরাষ্ট্র যদি বোয়িং বিক্রি করতে চায়, বাংলাদেশকে তার বিনিময়ে সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক সুবিধা চাইতে হবে। ইউরোপ যদি এয়ারবাসের জন্য আগ্রহী হয়, ঢাকা অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারে। চীনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে শুধু দাম নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশের নিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতার শর্তও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।
ট্রাম্পের “আমি ভুলব না” কথাটি তাই বাংলাদেশের জন্য কোনো নিশ্চিত পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়; বরং একটি সুযোগের সংকেত। যদি বাংলাদেশের কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্রয় ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক শুভেচ্ছা সৃষ্টি করে, তবে ঢাকার কাজ সেই শুভেচ্ছাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ দেওয়া। একই নীতি ইউরোপ ও চীনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে প্রশ্নটি বোয়িং না এয়ারবাস, কিংবা চীনা না পশ্চিমা বিমান—এত সরল নয়। আসল প্রশ্ন হলো, কীভাবে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রয়োজনীয় বেসামরিক ও সামরিক সক্ষমতা অর্জন করা যায়, অথচ কোনো এক সরবরাহকারীর ওপর এমনভাবে নির্ভরশীল না হওয়া যায় যাতে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তের পরিসর সংকুচিত হয়।
ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি সবসময় তার অর্থ বা অস্ত্র নয়; অনেক সময় তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিকল্প বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। বাংলাদেশের বিমান কেনার রাজনীতির সাফল্যও শেষ পর্যন্ত সেই স্বাধীনতা কতটা রক্ষা করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে।
.png)

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ। এটি কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনীতির এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রতিচ্ছবি। একটি দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হচ্ছে তার ব্যাংক খাত। সেই খাতেই যখন এমন পচন ধরে, তখন বুঝতে হবে...
৭ ঘণ্টা আগে
পুরাকালে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির এক মহাদুর্যোগপূর্ণ রাতে যমুনার দুই পাড়ে জন্ম নেয় দুই ভিন্ন মায়ের দুই সন্তান—কৃষ্ণ ও যোগমায়া। মথুরার কারাগারে দেবকীর কোলে শ্রীকৃষ্ণ, আর ওপারে গোকুলে যশোদার ঘরে যোগমায়া। আজ তাঁদের জন্মদিন।
১১ ঘণ্টা আগে
কিছুদিন পরপর খেলাপি ঋণের যে পরিস্থিতি সামনে আসছে, তাতে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে আরও। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয়তা নেই, তা নয়। তবে ‘উদার’ নীতি সহায়তায়ও খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। নতুন ধারায় পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রয়োজন বলেও মনে হচ্ছে।
২১ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রই স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী শত্রুর ধারণায় আবদ্ধ থাকে না। রাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থান। তাই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যা ‘মক্কা চুক্তি’ নামে আলোচিত– বাংলাদেশে
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬