প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হলেও আসন্ন পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকবে। ফলে মেলার জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া কঠিন।
রাজ্জাক রুবেল

মানবসভ্যতা বিকাশের ইতিহাসে বই সবচেয়ে বড় মাধ্যম। জ্ঞান, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যের আলো বইয়ের পাতায় সংরক্ষিত থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সৃজনশীল বই কেবল ব্যক্তিকে নয়, গোটা জাতিকে গড়ে তোলে। চিন্তার রূপান্তর ঘটে বইয়ের ভেতর দিয়ে। আর বইমেলা হলো সেই চিন্তা পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উৎকৃষ্ট মাধ্যম।
বাংলাদেশে বইমেলা নিছক কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন নয়। অমর একুশে গ্রন্থমেলা জাতির রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা এক ঐতিহাসিক উৎসব। একে ঘিরেই লেখক-পাঠক-প্রকাশকের মিলন ঘটে, নতুন চিন্তার সঞ্চার হয়, সাহিত্য-সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হলেও আসন্ন পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকবে। ফলে মেলার জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া কঠিন।
অন্যদিকে, ১৯ ফেব্রুয়ারি (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) শুরু হবে পবিত্র রমজান। রোজার মাসে সারাদিন মানুষ ক্লান্ত থাকে। ইফতার-তারাবির পর সাধারণত কেউ বইমেলায় সময় কাটাতে আগ্রহী হয় না। রমজান শেষে প্রায় দেড় কোটি মানুষ গ্রামে চলে যাবে ঈদ উদযাপনে। মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকা প্রায় ফাঁকা থাকবে। এরপরই শুরু হবে প্রচণ্ড গরম ও বর্ষা, যা বইমেলার জন্য একেবারেই অনুকূল নয়।
অতএব এবার ফেব্রুয়ারি বা এর পরবর্তী সময়ে বইমেলা আয়োজন করা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তাহলে বিকল্প কী? ডিসেম্বর-জানুয়ারি। নির্বাচন সামনে থাকায় জানুয়ারির ১৭ তারিখের পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের পক্ষে কঠিন। ফলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজনই সবচেয়ে যৌক্তিক সমাধান।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ‘১৫ দিনের মেলা হলেই তো চলে।’ কিন্তু বাস্তব হিসাব বলছে ১৫ দিনের মেলা আসলে লাভজনক নয়।
একটি তিন-ইউনিটের স্টল ধরলে খরচের হিসাব দাঁড়ায়— ভাড়া: ৫৯,৮০০ টাকা, নির্মাণ ব্যয়: ৩,০০,০০০ টাকা, ৬ জন কর্মী (প্রতি জন ১৩,০০০ টাকা): ৭৮,০০০ টাকা, খাবার ও আপ্যায়ন: ৯,০০০ টাকা, দুপুরের খাবার-সকালের নাস্তা: ১২,০০০ টাকা, আনুষঙ্গিক খরচ: ১০,০০০ টাকা, মোট খরচ: ৪,৬৮,৮০০ টাকা
আবার যদি ১৫ দিনের মেলা হয়, খরচের হিসাব দাঁড়ায়—ভাড়া: ২৯,৯০০ টাকা, নির্মাণ ব্যয় (কমে না): ৩,০০,০০০ টাকা, কর্মী: ৪২,০০০ টাকা, খাবার ও আপ্যায়ন: ৪,৫০০ টাকা, লাঞ্চ-ব্রেকফাস্ট: ৬,০০০ টাকা, আনুষঙ্গিক খরচ: ৫,০০০ টাকা, মোট খরচ: ৩,৮৭,৪০০ টাকা।
অর্থাৎ ১৫ দিনের মেলায় খরচ কমে মাত্র ৮১,৪০০ টাকা। কিন্তু বিক্রির সম্ভাবনা কমে যায় কয়েক গুণ। ৩০ দিনে প্রকাশকরা পান কমপক্ষে পাঁচটি শুক্রবার ও পাঁচটি শনিবার—যা বিক্রির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ফলে সময় কমানো মানে মেলার প্রাণশক্তি কমিয়ে দেওয়া, একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনা।
১৯৭২ সালে চিত্তরঞ্জন সাহা কলকাতা থেকে আনা মাত্র ৩২টি বই নিয়ে বাংলা একাডেমিতে যে মেলার সূচনা করেছিলেন, সেটি ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচার এরশাদ ছাত্রদের মিছিলে ট্রাক তুলে দেওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ওই বছর ছাড়া আর কখনো বইমেলা বন্ধ হয়নি। এবার ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বইমেলা করা ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।
যদি এবার বইমেলা না হয়, তবে ইতিহাসে আমরা দ্বিতীয় বারের মতো এই কলঙ্কের সাক্ষী হব। ২০২১, ২০২২ সালে পর পর দুই বছরই করোনা মহামারির কারণে মার্চ মাসে বইমেলা করতে হয়েছিল। তাই ফেব্রুয়ারি ছাড়া বইমেলা করা যাবে না এই যুক্তি অবাস্তব।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের উদাহরণ টেনে অনেকে বলছেন, ‘তখন তো নির্বাচন আর বইমেলা একসঙ্গে হয়েছিল।’ কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস ভিন্ন। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল একতরফা ও দল বর্জিত; সেটি জাতীয় জীবনে কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং ব্যাপক বয়কটের কারণে ঐ বছর জুনে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা একেবারেই বিভ্রান্তিকর।
সব বাস্তবতা বিবেচনায় ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজন ছাড়া বিকল্প নেই। কারণ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই মূলত ছাত্র-জনতা—বিশেষ করে গত ১৫ বছর যারা ভোট দিতে পারেনি, তারা ভোটের এই উৎসবে অংশ নিতে গ্রামে যাওয়া শুরু করবে। ফলে রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবখানেই নির্বাচনি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে।
ভোট কেমন হবে, সেটি ভিন্ন আলোচনা; কিন্তু নির্বাচনি উত্তেজনা সর্বত্র বিরাজ করবে। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পুরোপুরি ব্যস্ত থাকবে এই পরিস্থিতি সামলাতে। বাস্তবতা হলো, তাদের পক্ষে চাইলেও বইমেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
সুতরাং এর আগেই আমাদের বইমেলা শেষ করার পরিকল্পনা রাখাই শ্রেয়। এতে নির্বাচন ও রমজানের চাপ এড়ানো যাবে, পাঠক-প্রকাশক উভয়ই পূর্ণ সুযোগ পাবেন। স্মরণ রাখা দরকার অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে বইমেলা আয়োজনকে অনিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কারোরই উচিত হবে না।
তবে বাংলা একাডেমির দায়িত্বও কম নয়, রাজনৈতিক মব থেকে বইমেলাকে সুরক্ষিত করা, ছোট ও মাঝারি প্রকাশকের জন্য ভাড়ায় ৫০% প্রণোদনা দেওয়া, নিরাপত্তা জোরদার রাখা, যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সে ব্যাপারে অটল থাকা, প্রচারণার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করা, বুকটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করা, পাড়া-মহল্লা-মেট্রো স্টেশনসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-বিলবোর্ড স্থাপন করে প্রচার করা।
অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুধু একটি মেলা নয়; এটি আমাদের জাতিসত্তার প্রতীক, ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় স্মৃতি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় এগিয়ে আনলেও এর নাম, উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য অপরিবর্তিত থাকবে। যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা এই সময়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিচ্ছেন না। বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারা চলমান রাখার স্বার্থে আমাদের এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলা উচিত, ‘বইমেলা হোক মাসব্যাপী (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬), বইমেলা সফল হোক’।

মানবসভ্যতা বিকাশের ইতিহাসে বই সবচেয়ে বড় মাধ্যম। জ্ঞান, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যের আলো বইয়ের পাতায় সংরক্ষিত থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। সৃজনশীল বই কেবল ব্যক্তিকে নয়, গোটা জাতিকে গড়ে তোলে। চিন্তার রূপান্তর ঘটে বইয়ের ভেতর দিয়ে। আর বইমেলা হলো সেই চিন্তা পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উৎকৃষ্ট মাধ্যম।
বাংলাদেশে বইমেলা নিছক কোনো বাণিজ্যিক আয়োজন নয়। অমর একুশে গ্রন্থমেলা জাতির রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা এক ঐতিহাসিক উৎসব। একে ঘিরেই লেখক-পাঠক-প্রকাশকের মিলন ঘটে, নতুন চিন্তার সঞ্চার হয়, সাহিত্য-সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হলেও আসন্ন পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকবে। ফলে মেলার জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া কঠিন।
অন্যদিকে, ১৯ ফেব্রুয়ারি (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) শুরু হবে পবিত্র রমজান। রোজার মাসে সারাদিন মানুষ ক্লান্ত থাকে। ইফতার-তারাবির পর সাধারণত কেউ বইমেলায় সময় কাটাতে আগ্রহী হয় না। রমজান শেষে প্রায় দেড় কোটি মানুষ গ্রামে চলে যাবে ঈদ উদযাপনে। মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকা প্রায় ফাঁকা থাকবে। এরপরই শুরু হবে প্রচণ্ড গরম ও বর্ষা, যা বইমেলার জন্য একেবারেই অনুকূল নয়।
অতএব এবার ফেব্রুয়ারি বা এর পরবর্তী সময়ে বইমেলা আয়োজন করা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তাহলে বিকল্প কী? ডিসেম্বর-জানুয়ারি। নির্বাচন সামনে থাকায় জানুয়ারির ১৭ তারিখের পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের পক্ষে কঠিন। ফলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজনই সবচেয়ে যৌক্তিক সমাধান।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ‘১৫ দিনের মেলা হলেই তো চলে।’ কিন্তু বাস্তব হিসাব বলছে ১৫ দিনের মেলা আসলে লাভজনক নয়।
একটি তিন-ইউনিটের স্টল ধরলে খরচের হিসাব দাঁড়ায়— ভাড়া: ৫৯,৮০০ টাকা, নির্মাণ ব্যয়: ৩,০০,০০০ টাকা, ৬ জন কর্মী (প্রতি জন ১৩,০০০ টাকা): ৭৮,০০০ টাকা, খাবার ও আপ্যায়ন: ৯,০০০ টাকা, দুপুরের খাবার-সকালের নাস্তা: ১২,০০০ টাকা, আনুষঙ্গিক খরচ: ১০,০০০ টাকা, মোট খরচ: ৪,৬৮,৮০০ টাকা
আবার যদি ১৫ দিনের মেলা হয়, খরচের হিসাব দাঁড়ায়—ভাড়া: ২৯,৯০০ টাকা, নির্মাণ ব্যয় (কমে না): ৩,০০,০০০ টাকা, কর্মী: ৪২,০০০ টাকা, খাবার ও আপ্যায়ন: ৪,৫০০ টাকা, লাঞ্চ-ব্রেকফাস্ট: ৬,০০০ টাকা, আনুষঙ্গিক খরচ: ৫,০০০ টাকা, মোট খরচ: ৩,৮৭,৪০০ টাকা।
অর্থাৎ ১৫ দিনের মেলায় খরচ কমে মাত্র ৮১,৪০০ টাকা। কিন্তু বিক্রির সম্ভাবনা কমে যায় কয়েক গুণ। ৩০ দিনে প্রকাশকরা পান কমপক্ষে পাঁচটি শুক্রবার ও পাঁচটি শনিবার—যা বিক্রির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ফলে সময় কমানো মানে মেলার প্রাণশক্তি কমিয়ে দেওয়া, একই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনা।
১৯৭২ সালে চিত্তরঞ্জন সাহা কলকাতা থেকে আনা মাত্র ৩২টি বই নিয়ে বাংলা একাডেমিতে যে মেলার সূচনা করেছিলেন, সেটি ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচার এরশাদ ছাত্রদের মিছিলে ট্রাক তুলে দেওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ওই বছর ছাড়া আর কখনো বইমেলা বন্ধ হয়নি। এবার ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বইমেলা করা ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।
যদি এবার বইমেলা না হয়, তবে ইতিহাসে আমরা দ্বিতীয় বারের মতো এই কলঙ্কের সাক্ষী হব। ২০২১, ২০২২ সালে পর পর দুই বছরই করোনা মহামারির কারণে মার্চ মাসে বইমেলা করতে হয়েছিল। তাই ফেব্রুয়ারি ছাড়া বইমেলা করা যাবে না এই যুক্তি অবাস্তব।
১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের উদাহরণ টেনে অনেকে বলছেন, ‘তখন তো নির্বাচন আর বইমেলা একসঙ্গে হয়েছিল।’ কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস ভিন্ন। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল একতরফা ও দল বর্জিত; সেটি জাতীয় জীবনে কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং ব্যাপক বয়কটের কারণে ঐ বছর জুনে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের তুলনা একেবারেই বিভ্রান্তিকর।
সব বাস্তবতা বিবেচনায় ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজন ছাড়া বিকল্প নেই। কারণ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই মূলত ছাত্র-জনতা—বিশেষ করে গত ১৫ বছর যারা ভোট দিতে পারেনি, তারা ভোটের এই উৎসবে অংশ নিতে গ্রামে যাওয়া শুরু করবে। ফলে রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সবখানেই নির্বাচনি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে।
ভোট কেমন হবে, সেটি ভিন্ন আলোচনা; কিন্তু নির্বাচনি উত্তেজনা সর্বত্র বিরাজ করবে। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পুরোপুরি ব্যস্ত থাকবে এই পরিস্থিতি সামলাতে। বাস্তবতা হলো, তাদের পক্ষে চাইলেও বইমেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
সুতরাং এর আগেই আমাদের বইমেলা শেষ করার পরিকল্পনা রাখাই শ্রেয়। এতে নির্বাচন ও রমজানের চাপ এড়ানো যাবে, পাঠক-প্রকাশক উভয়ই পূর্ণ সুযোগ পাবেন। স্মরণ রাখা দরকার অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করে বইমেলা আয়োজনকে অনিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কারোরই উচিত হবে না।
তবে বাংলা একাডেমির দায়িত্বও কম নয়, রাজনৈতিক মব থেকে বইমেলাকে সুরক্ষিত করা, ছোট ও মাঝারি প্রকাশকের জন্য ভাড়ায় ৫০% প্রণোদনা দেওয়া, নিরাপত্তা জোরদার রাখা, যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সে ব্যাপারে অটল থাকা, প্রচারণার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করা, বুকটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করা, পাড়া-মহল্লা-মেট্রো স্টেশনসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-বিলবোর্ড স্থাপন করে প্রচার করা।
অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুধু একটি মেলা নয়; এটি আমাদের জাতিসত্তার প্রতীক, ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় স্মৃতি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় এগিয়ে আনলেও এর নাম, উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য অপরিবর্তিত থাকবে। যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা এই সময়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিচ্ছেন না। বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারা চলমান রাখার স্বার্থে আমাদের এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলা উচিত, ‘বইমেলা হোক মাসব্যাপী (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬), বইমেলা সফল হোক’।

ব্যক্তি ও পরিবার যেভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলায়, সরকার সেভাবে মেলাবে না, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটা বেশি করে প্রযোজ্য। আমাদের তো উন্নয়নের চাহিদা এখনও বিরাট। কিছুটা উন্নয়ন দেখতে পেলে এর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে যাওয়ার পর আমরা আবার সহজেই জানতে পার
১ ঘণ্টা আগে
নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থান ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা দেশটির নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশের প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণে নদীটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
রেহান আসিফ আসাদ, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাদার। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আগে বুধবার (১০ জুন) স্ট্রিমের সঙ্গে আলাপে তিনি তুলে ধরেছেন সিম ট্যাক্স, স্টার্টআপ তহবিল, ডেটা সেন্টারসহ ডিজিটাল অবকাঠামো ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা।
১৮ ঘণ্টা আগে
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এই তথ্য জানাচ্ছে খোদ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
১৯ ঘণ্টা আগে