লেখা:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক যাত্রায় সবচেয়ে বিপজ্জনক রাস্তাটায় পা ফেললেন ২৮ তারিখ। এদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এক ভয়াবহ হামলা চালায় তেহরানে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বাসভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। জেনেভায় যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়। এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ইরান যুদ্ধের’ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ধরা যেতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই আক্রমণকে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে ইরানের দিক থেকে আসন্ন কোনো হামলার লক্ষণ ছিল না বলে খোদ মার্কিন গোয়েন্দারাই নিশ্চিত করেছে। আদতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর একটি অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে এনেছে। তার মতে, ইসরায়েল হামলা করবে জেনেই যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগে হামলায় অংশ নিয়েছে। কারণ ইরানের অবশ্যম্ভাবী পাল্টা আঘাত একা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তেল আবিবের ছিল না।
খামেনির মৃত্যু, মুছে যাওয়া ‘রেড লাইন’
বিশ্লেষকদের মনে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে— এমন সংকটময় মুহূর্তে সর্বোচ্চ নেতা খামেনি কেন নিজের স্বাভাবিক বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন? নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ এই নেতা তার দৈনন্দিন অভ্যাস বদলাতে চাননি। তিনি হয়তো জেনেশুনেই শাহাদাত বরণের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তবে খামেনি তার প্রস্থানের বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি নিজের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য তিনজন যোগ্য আলেমের নামও নির্বাচন করে গিয়েছিলেন (যাদের মধ্যে তার ছেলের নাম ছিল না)। তারা এখন বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ভবনটিও গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সব ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা মুছে গেছে। এতদিন যেসব উপসাগরীয় দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে জায়গা দিয়েও ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতি মেনে চলত, তাদের সেই দিন শেষ। এখন মার্কিন ঘাঁটিকে আশ্রয় দেওয়া যেকোনো আঞ্চলিক রাষ্ট্রই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
ইরানের আসল 'অপরাধ' ও টিকে থাকার লড়াই
ইরানের তথাকথিত ‘মূল অপরাধ’ তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো নয়। তাদের প্রধান অপরাধ হলো— ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি অবিচল সমর্থন।
ইরানি নেতৃত্ব পশ্চিমাদের দ্বিমুখী আচরণ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। ট্রাম্প যতই ইরানের শাসনব্যবস্থার দ্রুত পতনের বাগাড়ম্বর করুন না কেন, বাস্তবে তা করা অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো অস্পষ্ট এবং বারবার পরিবর্তনশীল। অন্যদিকে ইরানের লক্ষ্য একেবারেই স্থির— যেকোনো মূল্যে টিকে থাকা এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া।
অন্তঃসারশূন্য বিজয় ও আখ্যানের পালাবদল
গত জুনে ইরানের ওপর যৌথ হামলার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু দুজনেই ‘চূড়ান্ত বিজয়ের’ ঘোষণা দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু দম্ভ করে বলেছিলেন, "আমরা সিংহের মতো গর্জন করে উঠে দাঁড়িয়েছি এবং আমাদের গর্জনে তেহরান কেঁপে উঠেছে।" এর জবাবে ইসরায়েলি বিশ্লেষক গিডিয়ন লেভি মন্তব্য করেছিলেন, "সিংহের গর্জন দ্রুতই ইঁদুরের কিচিরমিচিরে পরিণত হয়েছে। সেই ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ একটি প্রজাপতির জীবনের সমান দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল।"
ট্রাম্পও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার দাবি করেছিলেন। যদি তা-ই হয়, তবে কয়েক মাস পর তার দূতেরা কেন আবার আলোচনার টেবিলে ছুটে গেলেন? প্রতি আট মাস পরপর এমন ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা করাটা কেবল হাস্যকরই নয়, অবাস্তবও।
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু এক যুদ্ধ
আক্রান্ত হওয়ার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান এবার তাদের কৌশল বদলেছে। তারা আর পশ্চিমাদের ফাঁদে পা দিতে চায় না। এই সংঘাতের কোনো দ্রুত সমাধান বা যুদ্ধবিরতির সুযোগ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের "হাজারো ক্ষতের মাধ্যমে মৃত্যু" উপহার দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী ‘ওয়ার অব অ্যাট্রিশন’ বা ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি চরম সংকটে পড়বে। তেলের দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং শেয়ার বাজারে লাগামহীন পতন সাধারণ মানুষের জন্য এক অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করবে।
ইতিমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বর্তমান সংকট সামলাতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়ে ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড়পত্র দিয়েছে— যা কার্যত নিজেদের নিষেধাজ্ঞাকেই বুড়ো আঙুল দেখানোর শামিল! অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি তাদের বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তা মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে।
সময়ের কাঁটা কার পক্ষে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিপদ ডেকে আনতে পারে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়লে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরাও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। এছাড়া ইরানের হাতে থাকা হাইপারসনিক মিসাইল যেকোনো সময় যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের অদূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ধীর ও সুকৌশলী নীতি গ্রহণ করেছে ইরান। অন্যদিকে, গত ৪৭ বছর ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের জনগণ বঞ্চনা সয়ে অত্যন্ত অভ্যস্ত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি কথা খুব প্রচলিত, “পশ্চিমাদের হাতে হয়তো ঘড়ি আছে, কিন্তু ইরানের হাতে রয়েছে সময়।”
অবশ্যই এটি একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ খেলা। রাশিয়া ও চীন যদি এই কৌশলে যুক্ত হয়, তবে ইরানের জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। মাসের শেষে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফর এ বিষয়ে অনেক কিছুরই উত্তর দেবে।
তবে দিনশেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো— মধ্যপ্রাচ্য তথা পুরো বিশ্ব কি এই দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকট এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সহ্য করতে পারবে?
মার্কো কার্নেলোস একজন সাবেক ইতালীয় কূটনীতিক। মিডলইস্ট আই থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক যাত্রায় সবচেয়ে বিপজ্জনক রাস্তাটায় পা ফেললেন ২৮ তারিখ। এদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এক ভয়াবহ হামলা চালায় তেহরানে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বাসভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। জেনেভায় যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়। এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ইরান যুদ্ধের’ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ধরা যেতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই আক্রমণকে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে দাবি করলেও, বাস্তবে ইরানের দিক থেকে আসন্ন কোনো হামলার লক্ষণ ছিল না বলে খোদ মার্কিন গোয়েন্দারাই নিশ্চিত করেছে। আদতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর একটি অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে এনেছে। তার মতে, ইসরায়েল হামলা করবে জেনেই যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগে হামলায় অংশ নিয়েছে। কারণ ইরানের অবশ্যম্ভাবী পাল্টা আঘাত একা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তেল আবিবের ছিল না।
খামেনির মৃত্যু, মুছে যাওয়া ‘রেড লাইন’
বিশ্লেষকদের মনে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে— এমন সংকটময় মুহূর্তে সর্বোচ্চ নেতা খামেনি কেন নিজের স্বাভাবিক বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন? নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ এই নেতা তার দৈনন্দিন অভ্যাস বদলাতে চাননি। তিনি হয়তো জেনেশুনেই শাহাদাত বরণের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তবে খামেনি তার প্রস্থানের বিষয়টি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি নিজের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য তিনজন যোগ্য আলেমের নামও নির্বাচন করে গিয়েছিলেন (যাদের মধ্যে তার ছেলের নাম ছিল না)। তারা এখন বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ভবনটিও গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সব ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা মুছে গেছে। এতদিন যেসব উপসাগরীয় দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে জায়গা দিয়েও ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতি মেনে চলত, তাদের সেই দিন শেষ। এখন মার্কিন ঘাঁটিকে আশ্রয় দেওয়া যেকোনো আঞ্চলিক রাষ্ট্রই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
ইরানের আসল 'অপরাধ' ও টিকে থাকার লড়াই
ইরানের তথাকথিত ‘মূল অপরাধ’ তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো নয়। তাদের প্রধান অপরাধ হলো— ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি অবিচল সমর্থন।
ইরানি নেতৃত্ব পশ্চিমাদের দ্বিমুখী আচরণ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। ট্রাম্প যতই ইরানের শাসনব্যবস্থার দ্রুত পতনের বাগাড়ম্বর করুন না কেন, বাস্তবে তা করা অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো অস্পষ্ট এবং বারবার পরিবর্তনশীল। অন্যদিকে ইরানের লক্ষ্য একেবারেই স্থির— যেকোনো মূল্যে টিকে থাকা এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া।
অন্তঃসারশূন্য বিজয় ও আখ্যানের পালাবদল
গত জুনে ইরানের ওপর যৌথ হামলার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু দুজনেই ‘চূড়ান্ত বিজয়ের’ ঘোষণা দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু দম্ভ করে বলেছিলেন, "আমরা সিংহের মতো গর্জন করে উঠে দাঁড়িয়েছি এবং আমাদের গর্জনে তেহরান কেঁপে উঠেছে।" এর জবাবে ইসরায়েলি বিশ্লেষক গিডিয়ন লেভি মন্তব্য করেছিলেন, "সিংহের গর্জন দ্রুতই ইঁদুরের কিচিরমিচিরে পরিণত হয়েছে। সেই ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ একটি প্রজাপতির জীবনের সমান দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল।"
ট্রাম্পও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার দাবি করেছিলেন। যদি তা-ই হয়, তবে কয়েক মাস পর তার দূতেরা কেন আবার আলোচনার টেবিলে ছুটে গেলেন? প্রতি আট মাস পরপর এমন ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা করাটা কেবল হাস্যকরই নয়, অবাস্তবও।
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু এক যুদ্ধ
আক্রান্ত হওয়ার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান এবার তাদের কৌশল বদলেছে। তারা আর পশ্চিমাদের ফাঁদে পা দিতে চায় না। এই সংঘাতের কোনো দ্রুত সমাধান বা যুদ্ধবিরতির সুযোগ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের "হাজারো ক্ষতের মাধ্যমে মৃত্যু" উপহার দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী ‘ওয়ার অব অ্যাট্রিশন’ বা ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি চরম সংকটে পড়বে। তেলের দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এবং শেয়ার বাজারে লাগামহীন পতন সাধারণ মানুষের জন্য এক অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করবে।
ইতিমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বর্তমান সংকট সামলাতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়ে ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড়পত্র দিয়েছে— যা কার্যত নিজেদের নিষেধাজ্ঞাকেই বুড়ো আঙুল দেখানোর শামিল! অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি তাদের বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তা মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে।
সময়ের কাঁটা কার পক্ষে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিপদ ডেকে আনতে পারে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়লে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরাও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। এছাড়া ইরানের হাতে থাকা হাইপারসনিক মিসাইল যেকোনো সময় যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের অদূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ধীর ও সুকৌশলী নীতি গ্রহণ করেছে ইরান। অন্যদিকে, গত ৪৭ বছর ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের জনগণ বঞ্চনা সয়ে অত্যন্ত অভ্যস্ত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি কথা খুব প্রচলিত, “পশ্চিমাদের হাতে হয়তো ঘড়ি আছে, কিন্তু ইরানের হাতে রয়েছে সময়।”
অবশ্যই এটি একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ খেলা। রাশিয়া ও চীন যদি এই কৌশলে যুক্ত হয়, তবে ইরানের জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। মাসের শেষে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফর এ বিষয়ে অনেক কিছুরই উত্তর দেবে।
তবে দিনশেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো— মধ্যপ্রাচ্য তথা পুরো বিশ্ব কি এই দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকট এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সহ্য করতে পারবে?
মার্কো কার্নেলোস একজন সাবেক ইতালীয় কূটনীতিক। মিডলইস্ট আই থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার-বিরোধী মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য, যা আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে বিতর্ক ও সমালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তের গুণগত মান বাড়ায়।
১৪ ঘণ্টা আগে
ইরানে হয়তো সরকার পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু এই যুদ্ধ থামাতে হলে আসলে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বেপরোয়া সরকারগুলোর পতন হওয়া জরুরি। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের মানুষ যুদ্ধ-উন্মাদনায় ভুগছে। তারা নেতানিয়াহুকে অন্ধভাবে সমর্থন দিচ্ছে।
১ দিন আগে
সংসদ সদস্যদের স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে হবে যে তাদের মূল দায়িত্ব দুটি—আইন প্রণয়ন এবং সরকারের কাজের তদারকি করা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংসদ সদস্যদের কাজ নয়।। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন, নিজের ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ না দিয়ে তাদের সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বেশি সময় দিতে হবে। নয়তো সংসদ তার কার্যকারিতা হারাবে।
১ দিন আগে
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে যদি ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রত্যেক দরিদ্র নাগরিকের জন্য সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তর করা যায় এবং বাজেট ও সম্পদের ব্যবহার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারবে।
১ দিন আগে