ইরানযুদ্ধ নিয়ে দ্বন্দ্ব: জার্মানি থেকে ৫ হাজার সৈন্য প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন বাড়াতে ইউরোপীয় মিত্রদের অনীহার কারণে তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জার্মান চেন্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। সংগৃহীত ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় অন্যতম মিত্র জার্মানির সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে সেখান থেকে ৫ হাজার সৈন্য প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

রয়টার্স জানিয়েছে, পেন্টাগন গত শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাত্র কয়েকদিন আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনার সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমানিত’ করছে।

প্রতিবেদনে একজন নাম উল্লেখ না করা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট এই নেতিবাচক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক প্রতিক্রিয়াই দেখাচ্ছেন।’

এই সৈন্য প্রত্যাহার আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিবিএস নিউজও ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহায়তা না করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গত বুধবার তিনি বলেন, যেসব দেশ যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না, সেখান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প আবারও জার্মান চ্যান্সেলরকে আক্রমণাত্মক ভাষায় লেখেন, মের্ৎসের উচিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জন্য বেশি সময় ব্যয় করা এবং যারা ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করছে এবং জার্মানিসহ পুরো বিশ্বকে নিরাপদ করার চেষ্টা করছে, তাদের কাজে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধে নিজেদের বাহিনী পাঠাতে শুরু থেকেই দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। ফ্রিডরিখ মের্ৎসের মতো ইউরোপীয় নেতারা শুরুতে মার্কিন হামলার সমালোচনা করতে ‘ইতস্ততবোধ’ করছিলেন। তবে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব পড়ায় তাঁদের অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই যুদ্ধকে ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের মতো পূর্ববর্তী সামরিক চোরাবালির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এটি একটি বেশ জটিল পরিস্থিতি এবং এর জন্য আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের আমাদের অর্থনৈতিক উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত