ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ

যেকোনো বড় বিপ্লব বা ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর যেমন বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়, তেমনি পরক্ষণেই কিছু গভীর সংকট ও সংশয় জনমনে দানা বাঁধতে শুরু করে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের অন্তরে এখন একটিই প্রশ্ন নিরন্তর ঘুরপাক খাচ্ছে—সরকার কি প্রকৃতপক্ষেই জনগণের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে পারছে? নাকি ক্ষমতার চিরাচরিত আলস্য আর রাজনৈতিক মেরুকরণের চেনা আবর্তে আমরা আবারও সেই পুরনো বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ছি?
এই মুহূর্তে আমাদের সামনে যে সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, তার মূলে রয়েছে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ‘মব জাস্টিস’ সংস্কৃতি।
দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত লুটপাট, ব্যাপক অর্থ পাচার এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশের অর্থনীতি আজ খাদের কিনারে এসে ঠেকেছে। এই নড়বড়ে অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। এর সঙ্গে বিষফোঁড়া হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা, যা জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য খুব একটা অনুকূলে নয়; বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি করছে, তার প্রত্যক্ষ আঁচ এসে লাগছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, যা যেকোনো সরকারের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। নির্বাচনের আগে বা ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি যখন বাস্তবতার কঠিন দেয়ালে আঘাত পায়, তখন জনমনে পুঞ্জীভূত অসন্তোষের জন্ম নেয়, আর এই অসন্তোষই হলো স্বার্থান্বেষী ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সবচেয়ে উর্বর ভূমি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হলো ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভ’ বা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির অহংকার। অতীতে আমরা দেখেছি, যখনই কোনো দল বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তখনই তাদের মধ্যে বিরোধী শক্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করার এবং তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির এক আত্মঘাতী প্রবণতা দেখা দেয়।
যখন একটি সরকার নিজেকে অজেয় মনে করে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করে, তখনই দেশে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়।
এই দূরত্বের সুযোগ নিয়েই পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ে সেই সব গোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই দেখতে চায় না। তারা ওত পেতে থাকে কখন সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছাবে, যাতে সেই সহিংস পরিস্থিতিতে সরকারি দলের ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে। সরকার যদি সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে বিরোধী দলের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন বা অশোভন আচরণের পথে হাঁটে, তবে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি দ্রুত সরকারের দিক থেকে সরে যাবে এবং এই গণঅসন্তোষই সরকারের অকাল পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম কয়েক মাসকে ‘হানিমুন পিরিয়ড’ হিসেবে উপভোগ করার সুযোগ পায় ঠিকই, কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন যে ৫ আগস্টের পর এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক চেতনার এক আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এখন আর কোনো ভুল বা অন্যায়কে জনগণ মুখ বুজে মেনে নেবে না।
সরকার যদি জনদুর্ভোগ লাঘবের চেয়ে সংসদীয় বিতণ্ডা বা একে অপরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়িতে বেশি ব্যস্ত থাকে, তবে মুক্তিকামী মানুষ ধরে নেবে তাদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বৃথা ছিল। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীটি মোটেও হাত গুটিয়ে বসে নেই; তারা সুকৌশলে এমন এক বয়ান তৈরি করতে চায় যেখানে মানুষ মনে করবে—আগের আমলই ভালো ছিল।
এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হলে সরকারকে চিনতে হবে তার প্রকৃত শত্রু কারা; মনে রাখতে হবে সংসদীয় বিরোধী দল শত্রু নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের ভূষণ; প্রকৃত শত্রু হলো তারা যারা ছদ্মবেশে সরকারের ভেতরে ঢুকে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যে যে জাতীয় ঐক্যের সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে, তা আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখায়। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না, কারণ এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকে দেশের স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, একে অপরকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করলে কার্যত বাংলাদেশই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রেখে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করার এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। দুই প্রধান নেতার এই কণ্ঠস্বর যখন একবিন্দুতে মিলিত হয়, তখন সাধারণ মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বপ্ন দেখে।
তবে সংকটের জায়গাটি অন্যখানে—শীর্ষ দুই নেতার এই উদার ও ঐক্যের সুর যদি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিফলিত না হয়, তবে এই মহতী ভাষণগুলো কেবল সংসদের নথিতেই বন্দি হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলছেন ‘চেয়ারে বসলে আগুনের তাপ অনুভূত হয়’, অর্থাৎ দায়িত্বের ভার যে কত কঠিন তা তিনি উপলব্ধি করছেন, সেখানে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যদি এখনো দলীয়করণ, চাঁদাবাজি বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত থাকেন, তবে সেই উত্তাপ শেষ পর্যন্ত সরকারকেই পুড়িয়ে দেবে। সুতরাং নেতাদের বক্তব্যের মর্যাদা রক্ষা করা এখন তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব।
জাতীয় ঐক্যই আমাদের টিকে থাকার এবং এগিয়ে যাওয়ার মূল-মন্ত্র। দেশের বুদ্ধিজীবী এবং নীতিনির্ধারকদের উচিত সরকারকে সরাসরি এবং সাহসের সঙ্গে সঠিক পরামর্শ দেওয়া। একটি সফল গণতান্ত্রিক যাত্রা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে অবশ্যই ‘সবাইকে নিয়ে চলার’ অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিরোধী দলকে রাজপথে এবং সংসদে তাদের প্রাপ্য অধিকার ও স্পেস দিতে হবে, যাতে তারা গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে পারে। মব জাস্টিসকে অত্যন্ত কঠোর হাতে দমন করে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কষ্ট লাঘবে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় অন্ধকারে ঘাপটি মেরে থাকে এবং তারা কেবল সরকারের ভুল পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকে। সরকার যদি অহংকার আর জেদের বশবর্তী হয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়াকে উপেক্ষা করে, তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এড়ানো এবং অকাল পতন ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমাদের আর ভুল করার কোনো বিলাসিতা বা সুযোগ অবশিষ্ট নেই। এই পর্যায়ে আবারও ভুল করলে জাতি এমন এক গভীর ও অন্ধকার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে, যা থেকে ফিরে আসা হবে অত্যন্ত কঠিন।

যেকোনো বড় বিপ্লব বা ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর যেমন বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়, তেমনি পরক্ষণেই কিছু গভীর সংকট ও সংশয় জনমনে দানা বাঁধতে শুরু করে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের অন্তরে এখন একটিই প্রশ্ন নিরন্তর ঘুরপাক খাচ্ছে—সরকার কি প্রকৃতপক্ষেই জনগণের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে পারছে? নাকি ক্ষমতার চিরাচরিত আলস্য আর রাজনৈতিক মেরুকরণের চেনা আবর্তে আমরা আবারও সেই পুরনো বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়ছি?
এই মুহূর্তে আমাদের সামনে যে সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, তার মূলে রয়েছে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ‘মব জাস্টিস’ সংস্কৃতি।
দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত লুটপাট, ব্যাপক অর্থ পাচার এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশের অর্থনীতি আজ খাদের কিনারে এসে ঠেকেছে। এই নড়বড়ে অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক। এর সঙ্গে বিষফোঁড়া হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা, যা জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য খুব একটা অনুকূলে নয়; বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি করছে, তার প্রত্যক্ষ আঁচ এসে লাগছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, যা যেকোনো সরকারের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। নির্বাচনের আগে বা ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি যখন বাস্তবতার কঠিন দেয়ালে আঘাত পায়, তখন জনমনে পুঞ্জীভূত অসন্তোষের জন্ম নেয়, আর এই অসন্তোষই হলো স্বার্থান্বেষী ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য সবচেয়ে উর্বর ভূমি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হলো ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভ’ বা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির অহংকার। অতীতে আমরা দেখেছি, যখনই কোনো দল বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে, তখনই তাদের মধ্যে বিরোধী শক্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করার এবং তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির এক আত্মঘাতী প্রবণতা দেখা দেয়।
যখন একটি সরকার নিজেকে অজেয় মনে করে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করে, তখনই দেশে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়।
এই দূরত্বের সুযোগ নিয়েই পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ে সেই সব গোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই দেখতে চায় না। তারা ওত পেতে থাকে কখন সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছাবে, যাতে সেই সহিংস পরিস্থিতিতে সরকারি দলের ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে। সরকার যদি সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে বিরোধী দলের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন বা অশোভন আচরণের পথে হাঁটে, তবে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি দ্রুত সরকারের দিক থেকে সরে যাবে এবং এই গণঅসন্তোষই সরকারের অকাল পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম কয়েক মাসকে ‘হানিমুন পিরিয়ড’ হিসেবে উপভোগ করার সুযোগ পায় ঠিকই, কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন যে ৫ আগস্টের পর এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক চেতনার এক আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এখন আর কোনো ভুল বা অন্যায়কে জনগণ মুখ বুজে মেনে নেবে না।
সরকার যদি জনদুর্ভোগ লাঘবের চেয়ে সংসদীয় বিতণ্ডা বা একে অপরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়িতে বেশি ব্যস্ত থাকে, তবে মুক্তিকামী মানুষ ধরে নেবে তাদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম বৃথা ছিল। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীটি মোটেও হাত গুটিয়ে বসে নেই; তারা সুকৌশলে এমন এক বয়ান তৈরি করতে চায় যেখানে মানুষ মনে করবে—আগের আমলই ভালো ছিল।
এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হলে সরকারকে চিনতে হবে তার প্রকৃত শত্রু কারা; মনে রাখতে হবে সংসদীয় বিরোধী দল শত্রু নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের ভূষণ; প্রকৃত শত্রু হলো তারা যারা ছদ্মবেশে সরকারের ভেতরে ঢুকে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যে যে জাতীয় ঐক্যের সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে, তা আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখায়। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না, কারণ এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকে দেশের স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, একে অপরকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করলে কার্যত বাংলাদেশই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রেখে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করার এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। দুই প্রধান নেতার এই কণ্ঠস্বর যখন একবিন্দুতে মিলিত হয়, তখন সাধারণ মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বপ্ন দেখে।
তবে সংকটের জায়গাটি অন্যখানে—শীর্ষ দুই নেতার এই উদার ও ঐক্যের সুর যদি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিফলিত না হয়, তবে এই মহতী ভাষণগুলো কেবল সংসদের নথিতেই বন্দি হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলছেন ‘চেয়ারে বসলে আগুনের তাপ অনুভূত হয়’, অর্থাৎ দায়িত্বের ভার যে কত কঠিন তা তিনি উপলব্ধি করছেন, সেখানে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যদি এখনো দলীয়করণ, চাঁদাবাজি বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত থাকেন, তবে সেই উত্তাপ শেষ পর্যন্ত সরকারকেই পুড়িয়ে দেবে। সুতরাং নেতাদের বক্তব্যের মর্যাদা রক্ষা করা এখন তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব।
জাতীয় ঐক্যই আমাদের টিকে থাকার এবং এগিয়ে যাওয়ার মূল-মন্ত্র। দেশের বুদ্ধিজীবী এবং নীতিনির্ধারকদের উচিত সরকারকে সরাসরি এবং সাহসের সঙ্গে সঠিক পরামর্শ দেওয়া। একটি সফল গণতান্ত্রিক যাত্রা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে অবশ্যই ‘সবাইকে নিয়ে চলার’ অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিরোধী দলকে রাজপথে এবং সংসদে তাদের প্রাপ্য অধিকার ও স্পেস দিতে হবে, যাতে তারা গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে পারে। মব জাস্টিসকে অত্যন্ত কঠোর হাতে দমন করে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কষ্ট লাঘবে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় অন্ধকারে ঘাপটি মেরে থাকে এবং তারা কেবল সরকারের ভুল পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকে। সরকার যদি অহংকার আর জেদের বশবর্তী হয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়াকে উপেক্ষা করে, তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এড়ানো এবং অকাল পতন ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমাদের আর ভুল করার কোনো বিলাসিতা বা সুযোগ অবশিষ্ট নেই। এই পর্যায়ে আবারও ভুল করলে জাতি এমন এক গভীর ও অন্ধকার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে, যা থেকে ফিরে আসা হবে অত্যন্ত কঠিন।
.png)

একজন নেতার মৃত্যু একটি দলের জন্য শোকের ঘটনা। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও। নেতা চলে যাওয়ার পর দলটি কী করে, সেটিই প্রমাণ করে সেই নেতার উত্তরাধিকার কতটা গভীর ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপিও এমন এক পরীক্ষার সামনে। জন্মদিনে দলটি তাঁকে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধা জানাবে।
১০ ঘণ্টা আগে
দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অথচ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজার বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এই ব্যবধান বিবিএসের তথ্যের মান, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কৃষির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত কয়েক দশকে আমাদের কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। উন্নত জাতের ফসল, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারণ।
১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।
১২ আগস্ট ২০২৬