তারেক রহমানের চীন-সফরের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব

লেখা:
লেখা:
পি কে বালাচন্দ্রন

চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ইউএনবি

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচদিনের চীন-সফর শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, ভারতের জন্যও কৌশলগতভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

এ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও সহজতর করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের পরিসর বাড়ানো। দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থায় থাকায় বাংলাদেশের জরুরি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন আছে।

২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তার আশায় বেইজিং গিয়েছিলেন। কিন্তু চীন এই যুক্তিতে রাজি হয়নি যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এর জন্য উপযুক্ত নয়। এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতি একই অবস্থায় আছে; বরং আরও দুর্বল হয়েছে।

বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। কারণ কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুতর সমস্যা, যেখানে লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধ বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অন্য দেশে কাজ করতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশ অবকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। চীন ইতিমধ্যেই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার। ঢাকা অবকাঠামো খাতে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা চাইছে। এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে বেইজিংয়ের ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, কারণ তাদের এমন উদ্বৃত্ত সক্ষমতা রয়েছে, যা লাভজনকভাবে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা যেতে পারে। চীন চায় বাংলাদেশ তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে অবকাঠামো, অর্থায়ন, কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও গভীরভাবে একীভূত হোক। বেইজিং আরও চায় বাংলাদেশ তার গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের অংশ হোক।

সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সৌরশক্তিতে চীনের সক্ষমতা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি এবং তারা এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। বাংলাদেশিরা লক্ষ করেছে, নেপাল এখন দক্ষিণ এশিয়ায় চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের বৃহত্তম বাজার। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেপালকে অনুসরণ করতে চাইতে পারে। তারেক রহমানের সরকার সম্প্রতি একটি চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক ও শিল্প ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ চিহ্নিত করেছেন।

তারেক রহমান সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন। বৈঠকগুলোর পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি কৌশলগত সংলাপকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি ‘২+২’ সংলাপ-ব্যবস্থা চালু করতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প ও জনমুখী উন্নয়ন উদ্যোগসহ অন্যান্য সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের অর্থায়নে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।

তিস্তা নদীর অববাহিকা উন্নয়ন

ড. খলিলুর রহমানের মতে, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে, যেখানে চীন সহয়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং উভয় পক্ষ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে সম্মত হয়েছে।

তিস্তা নদী পূর্ব হিমালয় থেকে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি লাখ লাখ মানুষের জন্য সেচ ও জীবিকার একটি প্রধান উৎস। এ নদী-অববাহিকাটি ভারতের ‘শিলিগুড়ি করিডর’-এর নিকটবর্তী, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডকে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী ২২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড।

কিন্তু সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততাকে ভারতে কিছুটা উদ্বেগের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান আরও বলেন যে, বাংলাদেশ ও চীন মংলা বন্দর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। মংলা বন্দরের মাধ্যমে চীন বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যেটিকে ভারত ঐতিহ্যগতভাবে একটি ‘ভারতীয় জলাধার’ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

চীনের গ্লোবাল টাইমসের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনা নেতারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন (বিএমসি) সংযোগ-প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছেন। কিন্তু এখানে একটি বাধা রয়েছে। প্রকল্প-এলাকার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব মিয়ানমারের বিদ্রোহ-কবলিত বিশাল এলাকা অন্তর্ভুক্ত। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে প্রতিহত করে রেখেছে।

বিএমসি প্রকল্পটি ভারতের কালাদান প্রকল্পের অনুরূপ, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মিয়ানমার ও মিজোরামকে সংযোগকারী একটি মাল্টিমোডাল পরিবহণ করিডর। কিন্তু উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের বিদ্রোহের কারণে কালাদান প্রকল্পটি আটকে আছে। ভারত ও চীনের কূটনৈতিক প্রভাব ইয়াঙ্গুনের জান্তা-সমর্থিত সরকারকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে কি না, তা এখনো দেখার বিষয়।

ভারত ইতিমধ্যেই একটি বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান অক্ষ দেখতে পাচ্ছে, যা নিয়ে তাদের আশঙ্কা—এটি বাংলাদেশের উত্তরে শিলিগুড়ি করিডরের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এ করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

তিস্তা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যেখানে বাংলাদেশ অংশে যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ভারতে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ফেলবে। গঙ্গা নদীর ভাগাভাগি নিয়ে ভারতের সঙ্গে ধারাবাহিক বিরোধের কারণে বাংলাদেশিরা তিস্তা নদী অববাহিকা প্রকল্পে ভারতকে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক ছিল এবং বিকল্প হিসেবে চীনের সাহায্য চেয়েছিল।

কিন্তু এটি ভারতে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনা সরকারকে প্রকল্পটি স্থগিত করতে হয়েছিল। কিন্তু তারেক রহমানের সফরের পর চীন এখন তিস্তা প্রকল্পে পুরোদমে যুক্ত হয়েছে।

চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভারতের জন্য আরেকটি সমস্যাজনক ক্ষেত্র। বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে চীনা সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতা এবং চীন এ অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। কিন্তু ভারতের সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে তেমন আগ্রহ জাগাতে পারেনি। তারা কোনো না কোনো কারণে চীনা সরঞ্জামই বেশি পছন্দ করে।

তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন কৌশলগত অংশীদার হয়েছে। চীন বলেছে, তারা বাংলাদেশকে তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করবে। কিন্তু বেইজিংয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা-সম্পর্ক নয়াদিল্লিতে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ভারত ইতিমধ্যেই একটি বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান অক্ষ দেখতে পাচ্ছে, যা নিয়ে তাদের আশঙ্কা—এটি বাংলাদেশের উত্তরে শিলিগুড়ি করিডরের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এ করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত এ করিডরটি ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং এটি খুবই সংকীর্ণ।

গত বছর পাকিস্তানের একটি শীর্ষ সামরিক প্রতিনিধিদল যখন বাংলাদেশের উত্তরে চিকেনস নেকের কাছে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি সফর করে, তখন ভারতীয় গণমাধ্যম উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বাংলাদেশের কয়েকজন স্ট্র্যাটেজিক বিশেষজ্ঞ ভারতকে প্রতিরোধ করার জন্য একটি পারমাণবিক চুক্তিসহ বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ এখন ২০ থেকে ২৪টি চীনা-নির্মিত জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য আলোচনা ত্বরান্বিত করছে। এ পদক্ষেপটি ভারতের পূর্বাঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের সামরিক ভারসাম্যকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।

প্রস্তাবিত এ ক্রয়ের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো পিএল-১৫ বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে বিমানটির সামঞ্জস্য, কারণ এ ক্ষেপণাস্ত্রটি বাংলাদেশের সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে।

জানা গেছে, চীন-বাংলাদেশি প্যাকেজটির মূল্য প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বিমান, প্রশিক্ষণ, রসদ-অবকাঠামো, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলোচনা ত্বরান্বিত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত উপায়

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির পরামর্শ দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের উচিত ‘আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই’ নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা, যা স্পষ্টতই ভারতের নিরাপত্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও সতর্ক করেন যে, চীন কোনো সহজ অংশীদার নয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত যদি লেনদেনভিত্তিক হয়, চীনও তাই। দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক লেখায় কবির স্মরণ করেন, চীন শেখ হাসিনার আর্থিক সহযোগিতার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল, কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সেই অর্থ পরিশোধের কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাও ততটাই হতাশাজনক।

কবির বলেন, বাংলাদেশের গ্রহণ করার ক্ষমতাও সীমিত, এর প্রক্রিয়াগুলো আমলাতান্ত্রিক এবং সমঝোতা-চুক্তিগুলোকে বাস্তবায়ন করার সক্ষমতাও সীমিত। তিনি লিখেছেন, চীন, ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিই তার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবে না, যদি এ ক্ষেত্রগুলোতে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে।

একজন ভারতীয় বিশ্লেষক বলেছেন যে, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ভারতের আতঙ্কসৃষ্টিকারী বা সংঘাতমূলকভাবে দেখা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘এটি স্বীকার করা উচিত যে, দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত প্রতিযোগিতা সরবরাহের গতি ও গুণমানের মাধ্যমে ক্রমশ উন্মোচিত হচ্ছে। এ অঞ্চলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি বাস্তব, কিন্তু দৃশ্যমান সাড়া প্রদান ও বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই শক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’

তিস্তা নদী প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত এমন একটি প্যাকেজ দিতে পারে, যা বাস্তবসম্মত, সময়-বাঁধা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীল। তিনি উল্লেখ করেন, বন্যা-নিয়ন্ত্রণ, পলি-ব্যবস্থাপনা, বাঁধ-শক্তিশালীকরণ, সেচ-সহায়তা ও তথ্য বিনিময় হলো ঠিক সেই ক্ষেত্র, যেখানে কাজের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা যেতে পারে।

ভারতীয় বিশ্লেষক বলেন, ‘পানি-সহযোগিতার একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক মূল্য রয়েছে। যেখানে আস্থা শক্তিশালী, সেখানে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সহজ হয় এবং কৌশলগত উদ্বেগের ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়। যেখানে আস্থা দুর্বল, সেখানে সাধারণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও রাজনৈতিক রূপ নেয়। তাই তিস্তা ব্যবস্থাপনায় একটি টেকসই ভারতীয় ভূমিকা কেবল স্থানীয় নদী-সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের চেয়েও বেশি কিছু করবে।’

  • লেখক: শ্রীলঙ্কায় কর্মরত ভারতীয় সাংবাদিক

(ডেইলি মিররের ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন নাঈমুল আলম মিশু)

Ad 300x250

সম্পর্কিত