ড. মো. শামছুল আলম

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জগতে কোনো রাষ্ট্রনেতার প্রথম বিদেশ সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং তা দেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, কৌশলগত অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। যদি বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য মালয়েশিয়া হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন বাস্তববাদী ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একই সঙ্গে এটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতার একটি নতুন ভূরাজনৈতিক, বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য ও বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী পররাষ্টনীতির পুনর্বিন্যাস হিসেবেও মূল্যায়িত হতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে দক্ষিণ এশিয়ার সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে মুসলিম বিশ্ব, পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ এবং পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন। স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুটি শক্তিশালী বলয় থেকে বেরিয়ে নিরপেক্ষ কুটনীতির পথ গ্রহণ ও তা কার্যকর করাই জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট নীতির রূপকার হিসেবে অখ্যায়িত করা হয়। তাঁর কূটনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য; যা অনেকটা বর্তমান বহুপাক্ষি বৈশ্বিক শক্তিরভারসম্যের প্রেক্ষাপটে যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ধারনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে তার বাস্তবতাই অনেক আগেই জিয়াউর রহমানের পররাষ্টনীতিতে এই একই ধারণা প্রত্যক্ষ করা যায়।
এটা বলাই যায় যে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্টনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বাস্তবাদ বা রিয়েলিজমকে ও ভারসম্যের নীতিকে বিশেষভাবে ধারণ করেন।
পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার তিনবারের ক্ষমতা এলেও দুই বার সম্পূর্ণ মেয়াদে দেশ পরিচালনা করেন। দেশ পরিচালনার শুরু থেকেই বিশ্বরাজনীতির শক্তির ভারসম্য নষ্ট হয় বিশ্ব একমুখী শক্তির প্রভাব প্রত্যক্ষ করে, আর সেটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণাধীন পশ্চিমা শক্তির আধিপত্য ও একক প্রভাব। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর স্বামী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশ পরিচালনার ভারাসাম্যের ধারাকে ধারণ করে আরও বিস্তৃত পরিসরে তা প্রয়োগ করে অর্থনৈতিক কূটনীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, প্রবাসী কর্মসংস্থান এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেয়। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি অনুসরণ করে। ফলে বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বাস্তববাদ, ভারসাম্য এবং জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই ধারাবাহিকতার আধুনিক রূপ প্রতিফলিত হয়েছে তারেক রহমান ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত বিএনপির ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ। সেখানে উচ্চারিত হয়েছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক দর্শন—‘বাংলাদেশের সীমান্তের বাইরে বন্ধু আছে, প্রভু নেই।’ এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় একটি স্বাধীন, আত্মমর্যাদাশীল ও স্বার্থনির্ভর কূটনৈতিক অবস্থানের ঘোষণা।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন কৌশলগত প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে ভারত-চীন আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো একক শক্তির ওপর অতিনির্ভরশীলতার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করাই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারেক রহমানের ঘোষিত নীতিতেও এই বাস্তববাদী অবস্থানের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়, যেখানে সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়াকে প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া হলে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতি বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক অঞ্চল। উৎপাদন, প্রযুক্তি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র হিসেবে এই অঞ্চলের উত্থান বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা নিহিত রয়েছে। তাদের মূল্যায়নে, দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান আঞ্চলিক শক্তি—ভারত ও চীনের পরিবর্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারকে অগ্রাধিকার দেওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে কোনো নির্দিষ্ট শক্তিবলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তববাদী ও বহুমাত্রিক কূটনৈতিক অবস্থানের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন, যেখানে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে পক্ষ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, সেখানে মালয়েশিয়ার মতো একটি মধ্যম শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে অন্যদিকে, এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন যে কোনো রাষ্ট্রনেতার প্রথম বিদেশ সফর এককভাবে একটি দেশের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতির পূর্ণাঙ্গ নির্দেশক নয়। একটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত, বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তবুও, মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাকে অনেক বিশ্লেষক বাংলাদেশের আরও স্বাধীন, অর্থনৈতিকভাবে অভিমুখী এবং বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
তারেক রহমানের ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনৈতিক কূটনীতিকে জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা, আঞ্চলিক জোট এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক ব্লকের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি এবং শ্রম কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক ভূরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভারত তার বৃহত্তম প্রতিবেশী এবং চীন অন্যতম প্রধান উন্নযন ও বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত; অন্যদিকে চীন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই দুই শক্তির প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, যেখানে জাতীয় স্বার্থই হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র মানদণ্ড। এই দুটি শক্তি ছাড়াও আমেরিকা বা রাশিয়ার মত পরাশক্তির স্বার্থের সাথে সমন্বয় করে দেশের স্বার্থকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি এই বাস্তববাদী অবস্থানকেই আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে, যা ভারসম্যপূর্ণ কুটনীতিকে বিশেষভাবে সমর্থন করে।
একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ বাংলাদেশের "Look East" বা পূর্বমুখী কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো অর্থনীতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনীতি, নীল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলের নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি কৌশলগত সেতুবন্ধন হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পেতে পারে।
এছাড়া মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, উদ্বৃত্ত পুঁজি আকর্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা বিএনপির ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে, তা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও বহুমাত্রিক কূটনীতির দর্শন, বেগম খালেদা জিয়ার বাস্তববাদী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট আদর্শিক ও কৌশলগত ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে তারেক রহমানের উপস্থাপিত পররাষ্ট্রনীতির বিশেষত্ব হলো—তিনি পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক কূটনীতি, বহুমুখী অংশীদারিত্ব, দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক কৌশলগত নিরপেক্ষতাকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন।
যদি মালয়েশিয়াই তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হয়, তবে সেটি কেবল একটি সফর নয়; বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—যেখানে কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান সুদৃঢ় করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ, আত্মবিশ্বাসী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজেকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জগতে কোনো রাষ্ট্রনেতার প্রথম বিদেশ সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং তা দেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, কৌশলগত অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। যদি বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য মালয়েশিয়া হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন বাস্তববাদী ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একই সঙ্গে এটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতার একটি নতুন ভূরাজনৈতিক, বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য ও বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী পররাষ্টনীতির পুনর্বিন্যাস হিসেবেও মূল্যায়িত হতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে দক্ষিণ এশিয়ার সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে মুসলিম বিশ্ব, পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ এবং পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন। স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুটি শক্তিশালী বলয় থেকে বেরিয়ে নিরপেক্ষ কুটনীতির পথ গ্রহণ ও তা কার্যকর করাই জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট নীতির রূপকার হিসেবে অখ্যায়িত করা হয়। তাঁর কূটনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য; যা অনেকটা বর্তমান বহুপাক্ষি বৈশ্বিক শক্তিরভারসম্যের প্রেক্ষাপটে যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ধারনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে তার বাস্তবতাই অনেক আগেই জিয়াউর রহমানের পররাষ্টনীতিতে এই একই ধারণা প্রত্যক্ষ করা যায়।
এটা বলাই যায় যে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্টনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বাস্তবাদ বা রিয়েলিজমকে ও ভারসম্যের নীতিকে বিশেষভাবে ধারণ করেন।
পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার তিনবারের ক্ষমতা এলেও দুই বার সম্পূর্ণ মেয়াদে দেশ পরিচালনা করেন। দেশ পরিচালনার শুরু থেকেই বিশ্বরাজনীতির শক্তির ভারসম্য নষ্ট হয় বিশ্ব একমুখী শক্তির প্রভাব প্রত্যক্ষ করে, আর সেটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণাধীন পশ্চিমা শক্তির আধিপত্য ও একক প্রভাব। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর স্বামী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশ পরিচালনার ভারাসাম্যের ধারাকে ধারণ করে আরও বিস্তৃত পরিসরে তা প্রয়োগ করে অর্থনৈতিক কূটনীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, প্রবাসী কর্মসংস্থান এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেয়। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি অনুসরণ করে। ফলে বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বাস্তববাদ, ভারসাম্য এবং জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই ধারাবাহিকতার আধুনিক রূপ প্রতিফলিত হয়েছে তারেক রহমান ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত বিএনপির ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ। সেখানে উচ্চারিত হয়েছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক দর্শন—‘বাংলাদেশের সীমান্তের বাইরে বন্ধু আছে, প্রভু নেই।’ এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় একটি স্বাধীন, আত্মমর্যাদাশীল ও স্বার্থনির্ভর কূটনৈতিক অবস্থানের ঘোষণা।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন কৌশলগত প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে ভারত-চীন আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো একক শক্তির ওপর অতিনির্ভরশীলতার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করাই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারেক রহমানের ঘোষিত নীতিতেও এই বাস্তববাদী অবস্থানের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়, যেখানে সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়াকে প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া হলে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতি বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক অঞ্চল। উৎপাদন, প্রযুক্তি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র হিসেবে এই অঞ্চলের উত্থান বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা নিহিত রয়েছে। তাদের মূল্যায়নে, দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান আঞ্চলিক শক্তি—ভারত ও চীনের পরিবর্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারকে অগ্রাধিকার দেওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে কোনো নির্দিষ্ট শক্তিবলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তববাদী ও বহুমাত্রিক কূটনৈতিক অবস্থানের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন, যেখানে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে পক্ষ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, সেখানে মালয়েশিয়ার মতো একটি মধ্যম শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে অন্যদিকে, এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন যে কোনো রাষ্ট্রনেতার প্রথম বিদেশ সফর এককভাবে একটি দেশের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতির পূর্ণাঙ্গ নির্দেশক নয়। একটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত, বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তবুও, মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাকে অনেক বিশ্লেষক বাংলাদেশের আরও স্বাধীন, অর্থনৈতিকভাবে অভিমুখী এবং বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
তারেক রহমানের ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনৈতিক কূটনীতিকে জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা, আঞ্চলিক জোট এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক ব্লকের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি এবং শ্রম কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক ভূরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভারত তার বৃহত্তম প্রতিবেশী এবং চীন অন্যতম প্রধান উন্নযন ও বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিহাস, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত; অন্যদিকে চীন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই দুই শক্তির প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, যেখানে জাতীয় স্বার্থই হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র মানদণ্ড। এই দুটি শক্তি ছাড়াও আমেরিকা বা রাশিয়ার মত পরাশক্তির স্বার্থের সাথে সমন্বয় করে দেশের স্বার্থকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি এই বাস্তববাদী অবস্থানকেই আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে, যা ভারসম্যপূর্ণ কুটনীতিকে বিশেষভাবে সমর্থন করে।
একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ বাংলাদেশের "Look East" বা পূর্বমুখী কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো অর্থনীতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনীতি, নীল অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলের নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি কৌশলগত সেতুবন্ধন হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পেতে পারে।
এছাড়া মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, উদ্বৃত্ত পুঁজি আকর্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা বিএনপির ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে, তা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও বহুমাত্রিক কূটনীতির দর্শন, বেগম খালেদা জিয়ার বাস্তববাদী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট আদর্শিক ও কৌশলগত ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে তারেক রহমানের উপস্থাপিত পররাষ্ট্রনীতির বিশেষত্ব হলো—তিনি পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক কূটনীতি, বহুমুখী অংশীদারিত্ব, দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক কৌশলগত নিরপেক্ষতাকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন।
যদি মালয়েশিয়াই তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হয়, তবে সেটি কেবল একটি সফর নয়; বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—যেখানে কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থান সুদৃঢ় করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ, আত্মবিশ্বাসী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজেকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

৬০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তিপত্রে উপনীত হয়েছে, সেটা অগ্রাহ্য করা ইসরায়েলের পক্ষে কঠিন হবে। অনেকের সঙ্গে আমরাও আশা করব, ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে পড়া যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে তার ঘনিষ্ঠতম মিত্র দেশটিকে সংযত রাখবে।
১৯ ঘণ্টা আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা তাৎক্ষণিক ক্ষতি কিছুটা লাঘব করবে, কিন্তু কাঠামোগত ভঙ্গুরতার কোনো চিকিৎসা এই সমঝোতায় নেই। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এখন সময়ের দাবি। একটি প্রণালি বন্ধ হলে যেন পুরো অর্থনী
১৯ ঘণ্টা আগে
ইরানিদের সামনে এখনও দীর্ঘ ও কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনগণের কাছেও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পরিবর্তনমুখী রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাগুলোর একটি, সরকার যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
‘জেনিস গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি)-এর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১ দিন আগে