মতামত
একেএম শামসুদ্দিন

ইরান যুদ্ধের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য পাকিস্তান যখন বিশ্বনেতাদের প্রশংসায় ভাসছে, ঠিক সে সময়ে চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা অনেকটা নীরবেই শেষ হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতের ঘটনা তেমন প্রচার পায়নি।
ইরান যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, এই কদিন বিশ্বব্যাপী মানুষের দৃষ্টি সে দিকেই নিবদ্ধ ছিল। তাই বলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা থেমে থাকেনি। সর্বশেষ সৌদি আরবের রিয়াদে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর গত ২ এপ্রিল চীনের মধ্যস্থতায় দেশটির শিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকিতে শুরু হয়েছিল কূটনৈতিক স্তরের শান্তি বৈঠক। মার্চের শেষদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফরের পর যৌথ বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত ‘ডুরান্ড লাইন’-এর সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছিল।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, চীনের সঙ্গে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কার্যকরভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। এর আগে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবে চার দফা সিরিজ আলোচনা হলেও উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ না পাওয়ায় ওই দুটি দেশের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনার আঁচ কমেনি। ওদিকে, গত এক বছরে উভয় দেশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) জঙ্গিরা আফগান তালেবানের একাংশের মদতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। যদিও প্রথম থেকে আফগানিস্তান বলে আসছে, টিটিপি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়; এর দায়ভার আফগানিস্তানের ওপর চাপানো যায় না। আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে টিটিপি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে বলে যে অভিযোগ পাকিস্তান তুলেছে, তাও অস্বীকার করেছে আফগানিস্তান। উল্টো তারা দাবি করেছে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আফগানিস্তানে বিমান হামলা করে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এই সংঘর্ষ এক বছর আগে শুরু হলেও এটা বেড়েছে গত ছয় মাস ধরে। তাদের এই সংঘাতকে ব্যাপক যুদ্ধ বলা না গেলেও পাকিস্তান কাবুলসহ আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালানোর পর ঘটনাটিকে ছোটো করে দেখার সুযোগ নেই।
পাকিস্তানের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে অবশ্য তালেবান মুখপাত্র ঘোষণা করেছিলেন– ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর ‘বড় আকারের অভিযান’ চালাচ্ছে। তবে দুই দেশের সামরিক শক্তি এতটাই ভারসাম্যহীন যে, তালেবান নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর পাকিস্তানে পাল্টা বিমান হামলা চালানোর তেমন শক্তি নেই। তারা কেবল পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাতেই হামলা চালাতে সক্ষম। সেই অর্থে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘটিত এই সংঘাতকে বড় কোনো যুদ্ধের সংজ্ঞায় ফেলা যাচ্ছে না।
আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত । ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। অর্থাৎ ভারতবর্ষ ত্যাগের আগে ব্রিটিশরা বরাবরের মতো অন্যান্য অঞ্চলে যেভাবে ভবিষ্যৎ সংঘাতের বীজ বপন করে গিয়েছিল; এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। গোড়া থেকেই আফগানিস্তান ও সীমান্তের দু’পাশে বসবাসকারী পশতুন জনগোষ্ঠী ওই সীমানা মেনে নেয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার শেকড় ব্রিটিশদের করে দেওয়া সীমানা নির্ধারণের অসন্তোষের মধ্যেই নিহিত।
সীমান্তের দুই দিকেই হাজার হাজার পাশতুনের পারিবারিক ও সামাজিক যোগসূত্র আছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সীমান্ত পারাপারের নজিরও আছে। তবে গত কয়েক দশক ধরে সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়, শরণার্থী আসা-যাওয়া এবং সীমান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগে দেশ দু’টির সম্পর্ক বৈরী হয়েছে। পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা প্রতিশোধের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান উত্তেজনা তৈরি হয়।
চীনের মধ্যস্থতায় যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে ডুরান্ড লাইনে দু’দেশের চলমান সংঘাত মেটাতে আফগানিস্তানকে তিনটি শর্ত দিয়েছে পাকিস্তান। সেগুলো হলো, পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো টিটিপিকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করতে হবে আফগানিস্তানকে। দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানের মাটি থেকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে টিটিপিকে। তৃতীয়ত, তালেবান যে টিটিপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে। তবে পাকিস্তানের দেওয়া শর্ত মানতে নারাজ তালেবান। তালেবানদের নারাজ হওয়ার কারণও আছে। টিটিপিকে নিয়ন্ত্রণ করা আফগান সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। টিটিপি সদস্যদের একটা ধর্মীয় আদর্শগত অনুপ্রেরণা রয়েছে। তারা শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র চায়। তালেবানরাও আফগানিস্তানে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এ কারণে আফগান তালেবানের সঙ্গে টিটিপির গোপন বোঝাপড়া আছে।
টিটিপির প্রতি আফগান তালেবানদের কিছুটা দায়বদ্ধতাও আছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তান ত্যাগ করে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন আফগান সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিটিপি আফগান তালেবানদের সমর্থন দিয়েছিল। আফগান তালেবানের পক্ষে টিটিপি সদস্যরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধও করেছিল। এ অবস্থায় তালেবানরা যদি টিটিপির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, সেটা হবে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী। ফলে তালেবান যোদ্ধাদের মধ্যেই চরম কোন্দল দেখা দিতে পারে। এসব কারণে পাকিস্তানের দেওয়া শর্ত আফগানিস্তানের পক্ষে মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
পাকিস্তান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যে সমর্থন দিয়েছে, তার বিনিময়ে ভবিষ্যতে টিটিপির প্রয়োজনে আফগান তালেবানরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে; এমন গোপন সমঝোতা হয়েছিল টিটিপি ও আফগান তালেবানের মধ্যে। এর ভিত্তিতেই আফগান তালেবানরা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী জেলাগুলো নিয়ে একটি শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় টিটিপিকে সহায়তা করছে বলে পাকিস্তানের ধারণা।
২০০৭ সালে টিটিপি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। তবে পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত উপজাতি অঞ্চলে আগে থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী মিলিত হতে থাকে। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের পর যে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে, তারই সুযোগ নিয়ে টিটিপি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হয় এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দ্বন্দ্বে অংশ নিতে শুরু করে। এর আগে অর্থের বিনিময়ে তারা পাকিস্তানের হয়ে আফগানিস্তান ও ভারতীয় কাশ্মীরে লড়াই করেছে বলে জানা যায়। কিন্তু ২০০১ সালে ৯/১১-এর ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে এই সম্পর্কে চিড় ধরে। ‘আমেরিকান সংযোগ’ এবং শরিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগে ব্যর্থতা হয়ে ওঠে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে টিটিপির মূল অভিযোগ।
২০০৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইসলামাবাদের বিখ্যাত লাল মসজিদ অবরোধের ঘটনা উপজাতীয় জঙ্গিদের ঐক্যবদ্ধ হতে বাধ্য করে। ওই ঘটনায় জঙ্গি সদস্যদের মনে এমন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় যে, শেষ পর্যন্ত তারা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠন করে। সে সময় তারা নিজেদের আফগান তালেবানের সম্প্রসারিত শাখা হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং তৎকালীন আফগান তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরকে তাদের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে মেনে নেয়। এভাবেই তারা আফগান তালেবানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক আজ্ঞাবহতার সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর অর্থ হলো, আফগান তালেবানের অনেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টিটিপির লড়াইকে নিজস্ব জিহাদের অংশ বলে গণ্য করতে থাকে। তার পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টিটিপির কর্মকাণ্ড বেগবান হতে থাকে। এমন পরিস্থিতিকে পাকিস্তানের চিরশত্রু ভারত মোক্ষম সুযোগ হিসেবে লুফে নেয়। এর পর থেকেই ভারত আফগান তালেবানের মাধ্যমে টিটিপিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নানাভাবে ব্যবহার করতে থাকে– যদিও এসব অভিযোগ ভারত কোনোদিন স্বীকার করেনি।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলা ও অস্থিরতার পেছনে ভারতের মদত আছে বলে পাকিস্তান মনে করে। তার অভিযোগ, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলায় টিটিপিকে নানাভাবে সাহায্য করা হচ্ছে। তারা আরও মনে করে, আফগানিস্তানে টিটিপি, ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএস-কে) ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এই অভিযোগ অনেক আগে থেকে। তাদের অভিযোগ, বেলুচিস্তান থেকে খাইবার-পাখতুনখোয়া কিংবা গিলগিট-বালটিস্তানে এ যাবতকালে যেসব জঙ্গি হামলা হয়েছে; তার সবগুলোর পেছনে ভারতের হাত আছে। ইতোপূর্বে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া প্রতিটি আত্মঘাতী হামলার জন্য ভারত হামলাকারীদের কোটি কোটি রুপি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য ভারত টিটিপির নেতৃত্বের পেছনে লাখ লাখ ডলার খরচ করছে বলেও অভিযোগ। গত বছরের অক্টোবরে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফরের পর পাকিস্তান আরও জোরালোভাবে অভিযোগ করতে থাকে। তারা অভিযোগ করে, ‘ভারতের হয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক ছায়াযুদ্ধে নেমেছে।’
ওদিকে ভারতীয় কিছু রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক আফগানিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় তাদের বক্তব্য এভাবে তুলে ধরেছেন যে, আফগানিস্তান মনে করে, সাম্প্রতিক পাকিস্তান-আফগান যুদ্ধের মূল কারণ টিটিপি ইস্যু নয়। মূল কারণ অন্যত্র নিহিত আছে। যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করার ফন্দিফিকির করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছরের শেষদিকে খোলাখুলি বলেছিলেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত ‘বাগরাম ঘাঁটি’ ফেরত পেতে চান। সেখান থেকে ইরানের ওপর নজর রাখা ও হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও সহজ হতো। আফগানিস্তান সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করে এবং সরাসরি জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আর কখনোই ঘাঁটি গড়তে পারবে না।
ভারতীয় বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ– যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই পাকিস্তানের সাহায্য নিয়ে আফগানিস্তানে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পাকিস্তানও অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় আফগানিস্তানের মানুষের কাছে সহজেই মনে হয়, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তারা আরও মনে করে, পাকিস্তান বাগরাম বিমান ঘাঁটি দখল করে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দিতে চাইছে। ভারতীয়দের এই পর্যবেক্ষণ বা দাবি কতটুকু বাস্তবসম্মত, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
চীনের মধ্যস্থতায় যে বৈঠক হয়ে গেল, তাতে পাকিস্তান যে তিনটি শর্ত উপস্থাপন করেছে, এর সবগুলোই টিটিপি সম্পর্কিত। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, শর্তগুলো মান্য করা আফগানিস্তানের পক্ষে কঠিন হবে। চীনে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কি তাহলে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের বৈঠকগুলোর মতো ব্যর্থ হবে? এখনই এমন উপসংহারে আসা বোধহয় ঠিক হবে না। এ যাবৎ যা জানা গেছে, তা হলো– সাত দিনব্যাপী আলোচনার পর উভয় দেশ সীমান্তে সহিংসতা না বাড়ানো এবং সংঘাত নিরসনে একটি ‘ব্যাপক সমাধান’ খোঁজার বিষয়ে একমত হয়েছে। সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে না পৌঁছালেও আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে– যা এখনই পুরোপুরি ব্যর্থ না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সফলতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে হচ্ছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয়ে স্বীকার করেছে, সন্ত্রাসবাদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে, তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না– যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শান্তি বৈঠকের ফল হিসেবে এটাও কম নয়। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, তাদের এ ‘নিশ্চয়তা’র ওপর কতটুকু ভরসা করা যায়?

ইরান যুদ্ধের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য পাকিস্তান যখন বিশ্বনেতাদের প্রশংসায় ভাসছে, ঠিক সে সময়ে চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা অনেকটা নীরবেই শেষ হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতের ঘটনা তেমন প্রচার পায়নি।
ইরান যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, এই কদিন বিশ্বব্যাপী মানুষের দৃষ্টি সে দিকেই নিবদ্ধ ছিল। তাই বলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা থেমে থাকেনি। সর্বশেষ সৌদি আরবের রিয়াদে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর গত ২ এপ্রিল চীনের মধ্যস্থতায় দেশটির শিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমকিতে শুরু হয়েছিল কূটনৈতিক স্তরের শান্তি বৈঠক। মার্চের শেষদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফরের পর যৌথ বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত ‘ডুরান্ড লাইন’-এর সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছিল।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, চীনের সঙ্গে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কার্যকরভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। এর আগে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবে চার দফা সিরিজ আলোচনা হলেও উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ না পাওয়ায় ওই দুটি দেশের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনার আঁচ কমেনি। ওদিকে, গত এক বছরে উভয় দেশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) জঙ্গিরা আফগান তালেবানের একাংশের মদতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। যদিও প্রথম থেকে আফগানিস্তান বলে আসছে, টিটিপি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়; এর দায়ভার আফগানিস্তানের ওপর চাপানো যায় না। আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে টিটিপি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে বলে যে অভিযোগ পাকিস্তান তুলেছে, তাও অস্বীকার করেছে আফগানিস্তান। উল্টো তারা দাবি করেছে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আফগানিস্তানে বিমান হামলা করে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এই সংঘর্ষ এক বছর আগে শুরু হলেও এটা বেড়েছে গত ছয় মাস ধরে। তাদের এই সংঘাতকে ব্যাপক যুদ্ধ বলা না গেলেও পাকিস্তান কাবুলসহ আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালানোর পর ঘটনাটিকে ছোটো করে দেখার সুযোগ নেই।
পাকিস্তানের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে অবশ্য তালেবান মুখপাত্র ঘোষণা করেছিলেন– ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর ‘বড় আকারের অভিযান’ চালাচ্ছে। তবে দুই দেশের সামরিক শক্তি এতটাই ভারসাম্যহীন যে, তালেবান নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর পাকিস্তানে পাল্টা বিমান হামলা চালানোর তেমন শক্তি নেই। তারা কেবল পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাতেই হামলা চালাতে সক্ষম। সেই অর্থে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘটিত এই সংঘাতকে বড় কোনো যুদ্ধের সংজ্ঞায় ফেলা যাচ্ছে না।
আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত । ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। অর্থাৎ ভারতবর্ষ ত্যাগের আগে ব্রিটিশরা বরাবরের মতো অন্যান্য অঞ্চলে যেভাবে ভবিষ্যৎ সংঘাতের বীজ বপন করে গিয়েছিল; এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। গোড়া থেকেই আফগানিস্তান ও সীমান্তের দু’পাশে বসবাসকারী পশতুন জনগোষ্ঠী ওই সীমানা মেনে নেয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার শেকড় ব্রিটিশদের করে দেওয়া সীমানা নির্ধারণের অসন্তোষের মধ্যেই নিহিত।
সীমান্তের দুই দিকেই হাজার হাজার পাশতুনের পারিবারিক ও সামাজিক যোগসূত্র আছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সীমান্ত পারাপারের নজিরও আছে। তবে গত কয়েক দশক ধরে সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়, শরণার্থী আসা-যাওয়া এবং সীমান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগে দেশ দু’টির সম্পর্ক বৈরী হয়েছে। পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা প্রতিশোধের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান উত্তেজনা তৈরি হয়।
চীনের মধ্যস্থতায় যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে ডুরান্ড লাইনে দু’দেশের চলমান সংঘাত মেটাতে আফগানিস্তানকে তিনটি শর্ত দিয়েছে পাকিস্তান। সেগুলো হলো, পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো টিটিপিকে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করতে হবে আফগানিস্তানকে। দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানের মাটি থেকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে টিটিপিকে। তৃতীয়ত, তালেবান যে টিটিপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে। তবে পাকিস্তানের দেওয়া শর্ত মানতে নারাজ তালেবান। তালেবানদের নারাজ হওয়ার কারণও আছে। টিটিপিকে নিয়ন্ত্রণ করা আফগান সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। টিটিপি সদস্যদের একটা ধর্মীয় আদর্শগত অনুপ্রেরণা রয়েছে। তারা শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র চায়। তালেবানরাও আফগানিস্তানে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এ কারণে আফগান তালেবানের সঙ্গে টিটিপির গোপন বোঝাপড়া আছে।
টিটিপির প্রতি আফগান তালেবানদের কিছুটা দায়বদ্ধতাও আছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তান ত্যাগ করে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন আফগান সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিটিপি আফগান তালেবানদের সমর্থন দিয়েছিল। আফগান তালেবানের পক্ষে টিটিপি সদস্যরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধও করেছিল। এ অবস্থায় তালেবানরা যদি টিটিপির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, সেটা হবে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী। ফলে তালেবান যোদ্ধাদের মধ্যেই চরম কোন্দল দেখা দিতে পারে। এসব কারণে পাকিস্তানের দেওয়া শর্ত আফগানিস্তানের পক্ষে মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
পাকিস্তান মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যে সমর্থন দিয়েছে, তার বিনিময়ে ভবিষ্যতে টিটিপির প্রয়োজনে আফগান তালেবানরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে; এমন গোপন সমঝোতা হয়েছিল টিটিপি ও আফগান তালেবানের মধ্যে। এর ভিত্তিতেই আফগান তালেবানরা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী জেলাগুলো নিয়ে একটি শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় টিটিপিকে সহায়তা করছে বলে পাকিস্তানের ধারণা।
২০০৭ সালে টিটিপি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। তবে পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত উপজাতি অঞ্চলে আগে থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী মিলিত হতে থাকে। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের পর যে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে, তারই সুযোগ নিয়ে টিটিপি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে সক্ষম হয় এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দ্বন্দ্বে অংশ নিতে শুরু করে। এর আগে অর্থের বিনিময়ে তারা পাকিস্তানের হয়ে আফগানিস্তান ও ভারতীয় কাশ্মীরে লড়াই করেছে বলে জানা যায়। কিন্তু ২০০১ সালে ৯/১১-এর ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে এই সম্পর্কে চিড় ধরে। ‘আমেরিকান সংযোগ’ এবং শরিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগে ব্যর্থতা হয়ে ওঠে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে টিটিপির মূল অভিযোগ।
২০০৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইসলামাবাদের বিখ্যাত লাল মসজিদ অবরোধের ঘটনা উপজাতীয় জঙ্গিদের ঐক্যবদ্ধ হতে বাধ্য করে। ওই ঘটনায় জঙ্গি সদস্যদের মনে এমন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় যে, শেষ পর্যন্ত তারা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠন করে। সে সময় তারা নিজেদের আফগান তালেবানের সম্প্রসারিত শাখা হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং তৎকালীন আফগান তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরকে তাদের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে মেনে নেয়। এভাবেই তারা আফগান তালেবানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক আজ্ঞাবহতার সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর অর্থ হলো, আফগান তালেবানের অনেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টিটিপির লড়াইকে নিজস্ব জিহাদের অংশ বলে গণ্য করতে থাকে। তার পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টিটিপির কর্মকাণ্ড বেগবান হতে থাকে। এমন পরিস্থিতিকে পাকিস্তানের চিরশত্রু ভারত মোক্ষম সুযোগ হিসেবে লুফে নেয়। এর পর থেকেই ভারত আফগান তালেবানের মাধ্যমে টিটিপিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নানাভাবে ব্যবহার করতে থাকে– যদিও এসব অভিযোগ ভারত কোনোদিন স্বীকার করেনি।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলা ও অস্থিরতার পেছনে ভারতের মদত আছে বলে পাকিস্তান মনে করে। তার অভিযোগ, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলায় টিটিপিকে নানাভাবে সাহায্য করা হচ্ছে। তারা আরও মনে করে, আফগানিস্তানে টিটিপি, ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএস-কে) ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এই অভিযোগ অনেক আগে থেকে। তাদের অভিযোগ, বেলুচিস্তান থেকে খাইবার-পাখতুনখোয়া কিংবা গিলগিট-বালটিস্তানে এ যাবতকালে যেসব জঙ্গি হামলা হয়েছে; তার সবগুলোর পেছনে ভারতের হাত আছে। ইতোপূর্বে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া প্রতিটি আত্মঘাতী হামলার জন্য ভারত হামলাকারীদের কোটি কোটি রুপি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য ভারত টিটিপির নেতৃত্বের পেছনে লাখ লাখ ডলার খরচ করছে বলেও অভিযোগ। গত বছরের অক্টোবরে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফরের পর পাকিস্তান আরও জোরালোভাবে অভিযোগ করতে থাকে। তারা অভিযোগ করে, ‘ভারতের হয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক ছায়াযুদ্ধে নেমেছে।’
ওদিকে ভারতীয় কিছু রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক আফগানিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় তাদের বক্তব্য এভাবে তুলে ধরেছেন যে, আফগানিস্তান মনে করে, সাম্প্রতিক পাকিস্তান-আফগান যুদ্ধের মূল কারণ টিটিপি ইস্যু নয়। মূল কারণ অন্যত্র নিহিত আছে। যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করার ফন্দিফিকির করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছরের শেষদিকে খোলাখুলি বলেছিলেন, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত ‘বাগরাম ঘাঁটি’ ফেরত পেতে চান। সেখান থেকে ইরানের ওপর নজর রাখা ও হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও সহজ হতো। আফগানিস্তান সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করে এবং সরাসরি জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আর কখনোই ঘাঁটি গড়তে পারবে না।
ভারতীয় বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ– যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই পাকিস্তানের সাহায্য নিয়ে আফগানিস্তানে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পাকিস্তানও অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় আফগানিস্তানের মানুষের কাছে সহজেই মনে হয়, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তারা আরও মনে করে, পাকিস্তান বাগরাম বিমান ঘাঁটি দখল করে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দিতে চাইছে। ভারতীয়দের এই পর্যবেক্ষণ বা দাবি কতটুকু বাস্তবসম্মত, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।
চীনের মধ্যস্থতায় যে বৈঠক হয়ে গেল, তাতে পাকিস্তান যে তিনটি শর্ত উপস্থাপন করেছে, এর সবগুলোই টিটিপি সম্পর্কিত। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, শর্তগুলো মান্য করা আফগানিস্তানের পক্ষে কঠিন হবে। চীনে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কি তাহলে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের বৈঠকগুলোর মতো ব্যর্থ হবে? এখনই এমন উপসংহারে আসা বোধহয় ঠিক হবে না। এ যাবৎ যা জানা গেছে, তা হলো– সাত দিনব্যাপী আলোচনার পর উভয় দেশ সীমান্তে সহিংসতা না বাড়ানো এবং সংঘাত নিরসনে একটি ‘ব্যাপক সমাধান’ খোঁজার বিষয়ে একমত হয়েছে। সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে না পৌঁছালেও আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে– যা এখনই পুরোপুরি ব্যর্থ না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সফলতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে হচ্ছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয়ে স্বীকার করেছে, সন্ত্রাসবাদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে, তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না– যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শান্তি বৈঠকের ফল হিসেবে এটাও কম নয়। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, তাদের এ ‘নিশ্চয়তা’র ওপর কতটুকু ভরসা করা যায়?

ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি সাওদা সুমি নামে জামায়াতের এক নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। জামায়াতের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা এই আটককে বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
এ পর্বে আগের দুই পর্বের বক্তব্যের একটি বিস্তারিত আলোচনার পরিসমাপ্তি টানা হয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই তিনটি পর্ব গঙ্গা ইস্যুটিকে তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রশ্ন উঠতে পারে, এখন আমাদের করণীয় কী? প্রাদুর্ভাব যেহেতু ইতিমধ্যেই মারাত্মক আকার ধারণ করে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই এখন টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে আনলে শতভাগ সমাধান হয়তো মিলবে না। টিকা দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে।
১ দিন আগে
ভারত রাষ্টের পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর কাজ শুরু হয় মূলত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে। এই কাজের জন্য বিশেষ ট্রেনিং দিয়ে প্রতিটি ভোটদান কেন্দ্রকে ঘিরে একটি করে বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) নিয়োগ করা হয়। যার অধিকাংশই প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। তাদের প্রতিটি ব্লকে সমষ
১ দিন আগে