মূর্তজা খান লোদী

বিমান ও পর্যটন খাত নিয়ে গত কয়েক মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারের এই খাতে কাজ করার আগ্রহ দৃশ্যমান। যাত্রীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন, রুট পুনরায় চালু করা, নতুন বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং পর্যটন খাতে তরুণদের প্রশিক্ষণ—সব মিলিয়ে একাধিক ফ্রন্টে একযোগে কাজ হয়েছে।
বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুসরণীয় আচরণবিধি প্রণয়নের জন্য অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাত্রী হয়রানি রোধে বাস্তব পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলা যায়। কারণ ঢাকায় চারজন এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন, যাঁরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন যাত্রী হয়রানি বন্ধে। এর পাশাপাশি কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, এয়ারলাইন্সের চেকইন ও বোর্ডিং গেটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মী, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং টার্মিনাল ভবনের বিভিন্ন ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যাত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক সাইনেজ স্থাপন করা হয়েছে এবং ফেসবুক ও ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যাত্রীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বহির্গমন ও আগমনী যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে পাবলিক পরিবহন পর্যন্ত লাগেজসহ চলাচলের সুবিধার জন্য যাত্রীবাহী বাস চালু করা হয়েছে, যেখানে যাত্রীদের নিয়মিত বিনা ভাড়ায় সেবা দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হলো, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ লোডিং-আনলোডিংয়ের সময় হোল্ডে কাজ করা প্রতিটি কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে লাগেজের নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর পাশাপাশি দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ১৭ সদস্যের ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়ানোকে কমিটির অন্যতম দায়িত্ব করা হয়েছে, একইসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও কৌশলগত সুপারিশ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত অবকাঠামো নিশ্চিত করার দায়িত্বও কমিটির রয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মানদণ্ড অনুসরণ এবং বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংযোজনের বিষয়টিও তদারক করা হবে। বিদ্যমান নিরাপত্তানীতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করবে কমিটি, এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ সদস্য অন্তর্ভুক্ত ও উপকমিটি গঠনের সুযোগও রাখা হয়েছে। কমিটির সভাপতি বছরে অন্তত দুইবার সভা আহ্বান করবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই রুটের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রুটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়, এবং ২৭ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৭৬ ফ্লাইট নারিতার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে রুটটি পুনরায় চালু হয়।
এর পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে দেশের পুরোনো বিমানবন্দরগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্প অনুমোদনও পেয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও পুনরায় চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনসেবা নিশ্চিত করতে তরুণদের ট্যুর গাইড, রন্ধনশিল্প ও ট্রাভেল এজেন্সি বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি উদাহরণ হলো, ৬০ জন তরুণকে থাই কুজিন বিষয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এবং ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে ৫৭ জন সফলভাবে অংশ নেন—অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) কুয়াকাটা, বিরিশিরি ও রাঙ্গামাটিতে মোট ৯২ জনকে ট্যুর গাইড বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বিটিবির ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইভেনিং-২ ব্যাচের ৪০ শিক্ষার্থীর জন্য তিন থেকে পাঁচ তারকা হোটেল ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর্যটন ও হসপিটালিটি বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থী বিটিবিতে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন।
প্রত্নতাত্ত্বিক, এথনিক ও ইকো-ট্যুরিজম সাইটের জন্য স্থানীয় ট্যুর গাইড তৈরিতে রাজশাহীতে ২২ জন, বগুড়ায় ১৭ জন এবং বাগেরহাটে ৩২ জন স্থানীয় যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটেও (এনএইচটিটিআই) আরও ৩০ জন তরুণকে ট্যুর গাইড বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এই ছয় মাসে মন্ত্রণালয় সার্বিক স্তরে চোখে পড়ার মতো উন্নতি করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও বৈশ্বিক অরাজকতার প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিমানবন্দরগুলোতে। যেমন, গত কয়েকদিনে বিমানবন্দর সিকিউরিটি বেশ কয়েকবারই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে—বিমানবন্দরে একজন যাত্রীর সাথে ১০-২০ জন করে মানুষজন প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের সাথে ব্যক্তিপর্যায়েও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। পর্যটন ও বিমান খাত নিয়ে সাম্প্রতিক নানা আলোচনা-সমালোচনা থেকে একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট, এই খাতে সরকারের কাজ করার আগ্রহ আছে। তবে ছয় মাসে একটি বিশাল ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগ্রস্ত খাতের সবকিছু বদলে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। এখন দেখতে হবে, সরকারের উদ্যোগগুলোর দিকনির্দেশনা কতটা সঠিক এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হচ্ছে।
ইতালির রোম বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার দায় শুধু বাংলাদেশ সরকার কিংবা ইতালি সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। লিবিয়া হয়ে অনিয়মিত পথে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করা মানুষের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি নাগরিক, এই বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিমানবন্দর থেকে একজন যাত্রী বের হওয়ার পর তিনি আর অনিয়মিতভাবে ইতালিতে থাকার চেষ্টা করবেন না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার দায়িত্ব আসলে কার—এই প্রশ্নটি থেকেই যায়। তবে এখানে বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ঘাটতি ছিল, সেটি সরকারও আমলে নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। একইভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পেরিয়ে কীভাবে গুলি বা অস্ত্রজাতীয় কোনো বস্তু ভেতরে গেল, সেটিও তদন্তের বিষয়। এসব সরকারের সরাসরি অপারেশনাল দায়িত্ব না হলেও কোথাও না কোথাও দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কিনা, কিংবা এর পেছনে কোনো গোপন দুরভিসন্ধি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
পর্যটন খাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে দেখতে হবে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও উৎসবকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নাগাল্যান্ডে যেমন হর্নবিল উৎসব আন্তর্জাতিক পর্যটনের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে, তেমনি শ্রীমঙ্গলে হারমনি ফেস্টিভ্যালের মতো আয়োজনও বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও বিজু উৎসবকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যটনের একটি বড় আয়োজন করা সম্ভব ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে সীমান্তপথে অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ তৎপরতার ঝুঁকি, সেই সম্ভাবনাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে। নিরাপত্তা ও পর্যটন—এই দুটিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
নদীভিত্তিক পর্যটন নিয়েও সরকারের আগ্রহ লক্ষণীয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদীকে ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পরিবেশও যেন নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক, বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার। পর্যটনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হতে পারে মব এবং মোরাল পুলিশিং। পর্যটক কোথায় গেলেন, কী পোশাক পরলেন, কার সঙ্গে গেলেন—এসব নিয়ে সামাজিক হস্তক্ষেপ ও ভয়ভীতি তৈরি হলে কোনো পর্যটন গন্তব্যই দীর্ঘমেয়াদে জনপ্রিয় হতে পারে না।
এখানে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার। সরকার যদি অন্যান্য খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে, তাহলে পর্যটন অবকাঠামোতেও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের সুযোগ বাড়ানো যেতে পারে। দেশের অনেক সরকারি হোটেল-মোটেল বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনায় পড়ে আছে। সেগুলো ন্যায্য মূল্যে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিলে সেবার মান বাড়তে পারে, সরকারও রাজস্ব পেতে পারে। মূল প্রশ্নটি আসলে, হসপিটালিটি সার্ভিস কতটা আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করা সম্ভব? পর্যটন ব্যবসা মূলত সেবা, অভিজ্ঞতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টির ব্যবসা। তাই এখানে দক্ষ পেশাজীবী ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা বাড়ানো দরকার।
ডিজিটাল উপস্থিতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের ওয়েবসাইট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ট্রল হয়েছে। কিন্তু পর্যটকদের জন্য তৈরি ‘Beautiful Bangladesh’ ওয়েবসাইটটি কতজন আসলে ঘুরে দেখেছেন, তা-ও প্রশ্ন। একটি দেশের পর্যটন প্রচারে সুন্দর, তথ্যসমৃদ্ধ ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বিমান বাংলাদেশের টিকিটিং ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবাগুলো আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে। বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল মার্কেটিং বাড়ানো দরকার। বিমান ও পর্যটন খাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকও একটি ইতিবাচক দিক। এসব বৈঠকের ফলাফল কতটা বাস্তব সেবায় রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সবকিছু মিলিয়ে অন্তত এই পর্যায়ে মনে হচ্ছে, বিমান ও পর্যটন খাতে সরকারের কাজ করার সদিচ্ছা দৃশ্যমান। শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে এই উদ্যোগগুলো কতটা সফল হলো। যেমন তৃতীয় টার্মিনাল কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, সেটিও সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে একটি বিষয় এখনই বলা যায়, এই খাতে সরকারের চেষ্টা অন্তত প্রথম দিন থেকেই দৃশ্যমান। সেই চেষ্টাকে টেকসই ফলাফলে পরিণত করাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
• মূর্তজা খান লোদী: রাজনীতি বিশ্লেষক

বিমান ও পর্যটন খাত নিয়ে গত কয়েক মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারের এই খাতে কাজ করার আগ্রহ দৃশ্যমান। যাত্রীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন, রুট পুনরায় চালু করা, নতুন বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং পর্যটন খাতে তরুণদের প্রশিক্ষণ—সব মিলিয়ে একাধিক ফ্রন্টে একযোগে কাজ হয়েছে।
বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুসরণীয় আচরণবিধি প্রণয়নের জন্য অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাত্রী হয়রানি রোধে বাস্তব পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলা যায়। কারণ ঢাকায় চারজন এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন, যাঁরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন যাত্রী হয়রানি বন্ধে। এর পাশাপাশি কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, এয়ারলাইন্সের চেকইন ও বোর্ডিং গেটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মী, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং টার্মিনাল ভবনের বিভিন্ন ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যাত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক সাইনেজ স্থাপন করা হয়েছে এবং ফেসবুক ও ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যাত্রীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বহির্গমন ও আগমনী যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে পাবলিক পরিবহন পর্যন্ত লাগেজসহ চলাচলের সুবিধার জন্য যাত্রীবাহী বাস চালু করা হয়েছে, যেখানে যাত্রীদের নিয়মিত বিনা ভাড়ায় সেবা দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ হলো, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ লোডিং-আনলোডিংয়ের সময় হোল্ডে কাজ করা প্রতিটি কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে লাগেজের নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর পাশাপাশি দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ১৭ সদস্যের ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বাড়ানোকে কমিটির অন্যতম দায়িত্ব করা হয়েছে, একইসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও কৌশলগত সুপারিশ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত অবকাঠামো নিশ্চিত করার দায়িত্বও কমিটির রয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মানদণ্ড অনুসরণ এবং বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংযোজনের বিষয়টিও তদারক করা হবে। বিদ্যমান নিরাপত্তানীতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করবে কমিটি, এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ সদস্য অন্তর্ভুক্ত ও উপকমিটি গঠনের সুযোগও রাখা হয়েছে। কমিটির সভাপতি বছরে অন্তত দুইবার সভা আহ্বান করবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই রুটের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রুটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়, এবং ২৭ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৭৬ ফ্লাইট নারিতার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে রুটটি পুনরায় চালু হয়।
এর পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে দেশের পুরোনো বিমানবন্দরগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্প অনুমোদনও পেয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও পুনরায় চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনসেবা নিশ্চিত করতে তরুণদের ট্যুর গাইড, রন্ধনশিল্প ও ট্রাভেল এজেন্সি বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি উদাহরণ হলো, ৬০ জন তরুণকে থাই কুজিন বিষয়ে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এবং ১৯ থেকে ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে ৫৭ জন সফলভাবে অংশ নেন—অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) কুয়াকাটা, বিরিশিরি ও রাঙ্গামাটিতে মোট ৯২ জনকে ট্যুর গাইড বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বিটিবির ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ইভেনিং-২ ব্যাচের ৪০ শিক্ষার্থীর জন্য তিন থেকে পাঁচ তারকা হোটেল ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর্যটন ও হসপিটালিটি বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থী বিটিবিতে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন।
প্রত্নতাত্ত্বিক, এথনিক ও ইকো-ট্যুরিজম সাইটের জন্য স্থানীয় ট্যুর গাইড তৈরিতে রাজশাহীতে ২২ জন, বগুড়ায় ১৭ জন এবং বাগেরহাটে ৩২ জন স্থানীয় যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটেও (এনএইচটিটিআই) আরও ৩০ জন তরুণকে ট্যুর গাইড বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এই ছয় মাসে মন্ত্রণালয় সার্বিক স্তরে চোখে পড়ার মতো উন্নতি করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও বৈশ্বিক অরাজকতার প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিমানবন্দরগুলোতে। যেমন, গত কয়েকদিনে বিমানবন্দর সিকিউরিটি বেশ কয়েকবারই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে—বিমানবন্দরে একজন যাত্রীর সাথে ১০-২০ জন করে মানুষজন প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের সাথে ব্যক্তিপর্যায়েও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। পর্যটন ও বিমান খাত নিয়ে সাম্প্রতিক নানা আলোচনা-সমালোচনা থেকে একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট, এই খাতে সরকারের কাজ করার আগ্রহ আছে। তবে ছয় মাসে একটি বিশাল ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগ্রস্ত খাতের সবকিছু বদলে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। এখন দেখতে হবে, সরকারের উদ্যোগগুলোর দিকনির্দেশনা কতটা সঠিক এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হচ্ছে।
ইতালির রোম বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার দায় শুধু বাংলাদেশ সরকার কিংবা ইতালি সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। লিবিয়া হয়ে অনিয়মিত পথে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করা মানুষের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি নাগরিক, এই বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিমানবন্দর থেকে একজন যাত্রী বের হওয়ার পর তিনি আর অনিয়মিতভাবে ইতালিতে থাকার চেষ্টা করবেন না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার দায়িত্ব আসলে কার—এই প্রশ্নটি থেকেই যায়। তবে এখানে বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ঘাটতি ছিল, সেটি সরকারও আমলে নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। একইভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পেরিয়ে কীভাবে গুলি বা অস্ত্রজাতীয় কোনো বস্তু ভেতরে গেল, সেটিও তদন্তের বিষয়। এসব সরকারের সরাসরি অপারেশনাল দায়িত্ব না হলেও কোথাও না কোথাও দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কিনা, কিংবা এর পেছনে কোনো গোপন দুরভিসন্ধি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
পর্যটন খাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে দেখতে হবে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও উৎসবকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নাগাল্যান্ডে যেমন হর্নবিল উৎসব আন্তর্জাতিক পর্যটনের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে, তেমনি শ্রীমঙ্গলে হারমনি ফেস্টিভ্যালের মতো আয়োজনও বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও বিজু উৎসবকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যটনের একটি বড় আয়োজন করা সম্ভব ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে সীমান্তপথে অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ তৎপরতার ঝুঁকি, সেই সম্ভাবনাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে। নিরাপত্তা ও পর্যটন—এই দুটিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
নদীভিত্তিক পর্যটন নিয়েও সরকারের আগ্রহ লক্ষণীয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদীকে ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পরিবেশও যেন নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক, বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার। পর্যটনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হতে পারে মব এবং মোরাল পুলিশিং। পর্যটক কোথায় গেলেন, কী পোশাক পরলেন, কার সঙ্গে গেলেন—এসব নিয়ে সামাজিক হস্তক্ষেপ ও ভয়ভীতি তৈরি হলে কোনো পর্যটন গন্তব্যই দীর্ঘমেয়াদে জনপ্রিয় হতে পারে না।
এখানে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার। সরকার যদি অন্যান্য খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে, তাহলে পর্যটন অবকাঠামোতেও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের সুযোগ বাড়ানো যেতে পারে। দেশের অনেক সরকারি হোটেল-মোটেল বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনায় পড়ে আছে। সেগুলো ন্যায্য মূল্যে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিলে সেবার মান বাড়তে পারে, সরকারও রাজস্ব পেতে পারে। মূল প্রশ্নটি আসলে, হসপিটালিটি সার্ভিস কতটা আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করা সম্ভব? পর্যটন ব্যবসা মূলত সেবা, অভিজ্ঞতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টির ব্যবসা। তাই এখানে দক্ষ পেশাজীবী ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা বাড়ানো দরকার।
ডিজিটাল উপস্থিতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের ওয়েবসাইট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ট্রল হয়েছে। কিন্তু পর্যটকদের জন্য তৈরি ‘Beautiful Bangladesh’ ওয়েবসাইটটি কতজন আসলে ঘুরে দেখেছেন, তা-ও প্রশ্ন। একটি দেশের পর্যটন প্রচারে সুন্দর, তথ্যসমৃদ্ধ ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বিমান বাংলাদেশের টিকিটিং ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবাগুলো আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে। বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল মার্কেটিং বাড়ানো দরকার। বিমান ও পর্যটন খাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকও একটি ইতিবাচক দিক। এসব বৈঠকের ফলাফল কতটা বাস্তব সেবায় রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সবকিছু মিলিয়ে অন্তত এই পর্যায়ে মনে হচ্ছে, বিমান ও পর্যটন খাতে সরকারের কাজ করার সদিচ্ছা দৃশ্যমান। শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে এই উদ্যোগগুলো কতটা সফল হলো। যেমন তৃতীয় টার্মিনাল কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, সেটিও সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে একটি বিষয় এখনই বলা যায়, এই খাতে সরকারের চেষ্টা অন্তত প্রথম দিন থেকেই দৃশ্যমান। সেই চেষ্টাকে টেকসই ফলাফলে পরিণত করাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
• মূর্তজা খান লোদী: রাজনীতি বিশ্লেষক
.png)
-2d6530.jpeg)
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক রাইটিং ও সাইটেশনের প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনার অভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে 'প্লেজারিজম' বা চৌর্যবৃত্তি সম্পর্কে ব্যাপক অজ্ঞতা থেকে যায়। পশ্চিমা বিশ্বে উচ্চশিক্ষায় গেলে এই ঘাটতির ভয়াবহতা টের পাওয়া যায়।
২ ঘণ্টা আগে-29ae21.png)
ছররা বন্দুক। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে থাকা ‘কম প্রাণঘাতী’ অস্ত্র। অথচ সেই অস্ত্রের একেকটি ছররা কেড়ে নিয়েছে মানুষের চোখ, পড়াশোনা, কাজ, স্বাভাবিক জীবন। কাশ্মীরে ২০১৬ সালে আন্দোলনের সময় কয়েক মাসের মধ্যে শত শত মানুষ চোখে ছররার আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কারও চোখের দৃষ্টি আর ফেরেনি, কারও
৫ ঘণ্টা আগে
সরকারের সামনে যে বাংলাদেশ, তা জিয়াউর রহমানের সময়ের বাংলাদেশ নয়, খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময়ের বাংলাদেশও নয়। আজকের বাংলাদেশ জনসংখ্যা, অর্থনীতি, শিল্প, নগরায়ণ, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের দিক থেকে অনেক বড়। একই সঙ্গে সংকটও বহুমাত্রিক।
৮ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণবিক্ষোভ, বিপ্লব, সামরিক অভ্যুত্থান, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিদ্রোহের মুখে বহু শাসক ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। কেউ বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন, কেউ আবার রাজনৈতিকভাবে পুনরুত্থান ঘটিয়েছেন। কিন্তু একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে গণআন্দোলনে পতন, দেশত্যাগ, বিদেশে অবস্থান