leadT1ad

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরমহলে নাৎসিবাদের ছায়া

একসময় যা ছিল উগ্রবাদী প্রচারপুস্তকের স্লোগান, আজ তা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ভাষ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নাৎসি মতাদর্শ লালন ও প্রচারের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। হিটলারের প্রশংসাকারী ও হলোকাস্ট অস্বীকারকারীদের সরকারি পদে নিয়োগ এবং বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ব্যবহার প্রমাণ করে, আমেরিকার ক্ষমতার কেন্দ্রে নব্য-নাৎসিবাদের শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

মেহদী হাসান
মেহদী হাসান

প্রতীকী ছবি

‘কোন পথে, পশ্চিমের মানুষ?’ না, এ কোনো সাধারণ প্রশ্ন নয়। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত জাতিবিদ্বেষ প্রচারপুস্তকের শিরোনাম। এই বইয়ের লেখক উইলিয়াম গেলি সিম্পসন একসময় ছিলেন বামপন্থী খ্রিস্টান যাজক। পরে তিনি আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নব্য-নাৎসি মতাদর্শী হয়ে ওঠেন। তাঁর এ বই আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যে বিশ্বাসী একটি প্রজন্মকে কট্টরপন্থী করে তুলেছিল। ওই বই ভর্তি ছিল ভয়াবহ ইহুদিবিদ্বেষে। ছিল সব ধরনের অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। ছিল অ্যাডলফ হিটলারের প্রতি খোলাখুলি প্রশংসা। সিম্পসন নিজেই দাবি করেছিলেন, তাঁর লক্ষ্য তথাকথিত ‘সংগঠিত ইহুদি সমাজ’কে বিশ্বশক্তি হিসেবে দেখানো। তাঁর মতে, ইহুদিরা বিশ্বের প্রতিটি শ্বেতাঙ্গ দেশে গেড়ে বসেছে। এরা সব দেশের সীমানা অতিক্রম করে অবাধে বিচরণ করছে। এরা সবাইকে ধ্বংস করার জন্য নির্মম যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

বিগত কয়েক বছরে ‘কোন পথে, পশ্চিমের মানুষ?’ বা ‘হুইচ ওয়ে, ওয়েস্টার্ন ম্যান?’ লাইনটি ইন্টারনেটের মিম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

গত আগস্ট মাসে ট্রাম্পের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পোস্টার শেয়ার করে। পোস্টারে দেখা যায় আঙ্কেল স্যামের মতো একটি চরিত্র হাতে ‘আইন ও শৃঙ্খলা’ লেখা প্ল্যাকার্ড ধরে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে আরও লেখা রয়েছে ‘আগ্রাসন’ এবং ‘সাংস্কৃতিক পতন’। সেই ছবির নিচে ক্যাপশন ছিল: ‘কোন পথে, আমেরিকার মানুষ?’

চলতি মাসের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি কার্টুন পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যায় স্লেজ গাড়িতে গ্রিনল্যান্ডের হাস্কি কুকুর। তাদের গাড়িতে ডেনমার্কের পতাকা। কুকুরগুলো একটি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে হোয়াইট হাউসের ছবি। অন্যদিকে চীনের মহাপ্রাচীর আর রাশিয়ার রেড স্কয়ার। আর সেই ছবির ক্যাপশন ছিল: ‘কোন পথে, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ?’

উইলিয়াম গেলি সিম্পসনের বই ‘হুইচ ওয়ে ওয়েস্টার্ন ম্যান?’। ছবি: সংগৃহীত
উইলিয়াম গেলি সিম্পসনের বই ‘হুইচ ওয়ে ওয়েস্টার্ন ম্যান?’। ছবি: সংগৃহীত

এই ঘটনাগুলো আমেরিকার অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত। শুধু আমেরিকা কেন, পুরো বিশ্বের জন্যই এটি বড় খবর। হিটলারের মৃত্যুর আশি বছর পার হয়েছে। নাৎসি জার্মানির পতনের পর আট দশক কেটে গেছে। ঠিক এমন সময়ে এসে মার্কিন সরকার অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে বাসা বেঁধেছে গভীর নাৎসি সমস্যা।

আপনার মনে হতে পারে আমি হয়তো বাড়িয়ে বলছি। কিন্তু হাতের কাছে জমে থাকা প্রমাণের পাহাড় তো অন্য কথা বলছে। সিএনএন, এনবিসি নিউজ এবং পিবিএস নিউজের মতো গণমাধ্যমগুলো সাম্প্রতিক তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সরকারি সব অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে নাৎসি প্রতীক ও মিম। অভিবাসীদের সম্পর্কে ব্যবহার করা হচ্ছে অমানবিক সব শব্দ। তারা ফ্যাসিবাদী নান্দনিকতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।

শ্রম দপ্তর সম্প্রতি ‘এক স্বদেশ, এক জাতি, এক ঐতিহ্য’ ক্যাপশন দিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। যা মনে করিয়ে দেয় নাৎসিদের ‘আইন ফোক, আইন রাইখ, আইন ফিউরার’ অর্থাৎ—‘এক জাতি, এক রাষ্ট্র, এক নেতা’ স্লোগানের কথা। শ্রম দপ্তরের আরেক টুইটে ঘোষণা করা হয় ‘আমেরিকা কেবল আমেরিকানদের জন্য’। এই বাক্যও নাৎসিদের ‘জার্মানি কেবল জার্মানদের জন্য’ স্লোগানের সঙ্গে মিলে যায়।

নাৎসি মতাদর্শের এই ব্যবহার কেবল ইন্টারনেটের মিমে আটকে নেই। বিষয়টি এখন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ঢুকে গেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ডিএইচএস সচিব ক্রিস্টি নোয়েমের বক্তৃতা চলাকালে পোডিয়ামে লেখা ছিল: ‘আমাদের একজনের বদলে তোমাদের সবাই।’ এই কথা সাধারণ মনে হলেও হলোকাস্ট বিশেষজ্ঞ পেজ হেরলিঙ্গারের মতে, মোটেও সাধারণ নয়। তিনি মনে করেন এই শব্দগুচ্ছের সঙ্গে নাৎসিদের শত্রু দমনের কৌশলের মিল রয়েছে। এই বাক্য নাৎসিদের ‘সামষ্টিক শাস্তি’ বা কালেক্টিভ পানিশমেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ক্রিস্টি নোয়েমের পোডিয়ামে লেখা, "ওয়ান অফ আওয়ার্স, অল অফ ইওরস"। ছবি: সংগৃহীত
ক্রিস্টি নোয়েমের পোডিয়ামে লেখা, "ওয়ান অফ আওয়ার্স, অল অফ ইওরস"। ছবি: সংগৃহীত

গত বছর হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছিল ১৯৩২ সালে নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের দেওয়া ‘ঝড় আসছে’ ভাষণ থেকে চুরি করা। এমনকি সত্যতা যাচাইকারী ওয়েবসাইট স্নোপসও বিষয়টি এড়াতে পারেনি। তারাও মিলার এবং গোয়েবলসের ফ্যাসিবাদী বক্তৃতার মধ্যে স্পষ্ট মিল খুঁজে পেয়েছে।

সমস্যার গভীরতা কেবল কথায় নয়, নিয়োগের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসের আইসিই প্রসিকিউটর জেমস রডেনের গোপন সোশ্যাল মিডিয়া প্রকাশ্যে আসে, ওই অ্যাকাউন্টে তিনি হিটলারের প্রশংসা করতেন। তিনি বলতেন ‘আমেরিকা একটি শ্বেতাঙ্গ জাতি’। খেয়াল করুন তিনি কোনো কিশোর কিংবা সাধারণ ইন্টারনেট ট্রল নন। তিনি একজন ফেডারেল প্রসিকিউটর। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই মাসে দেখা যাচ্ছে তিনি আবার কাজে ফিরেছেন।

এরপর আসা যাক সাবেক হোয়াইট হাউসের লিয়াজোঁ অফিসার ও বর্তমান জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল কাউন্সেল পল ইনগ্রাসিয়ার কথায়। অভিযোগ রয়েছে তিনি একবার গ্রুপ চ্যাটে বলেছিলেন: ‘আমার মধ্যে মাঝে মাঝে নাৎসি প্রবৃত্তি কাজ করে, আমি এটা স্বীকার করি।’ ২০২৪ সালের জুন মাসে পলকে ডেট্রয়েটের একটি জনসমাবেশে দেখা যায়। সেই সমাবেশের মূল বক্তা ছিলেন হলোকাস্ট অস্বীকার করা নিক ফুয়েন্তেস।

ট্রাম্পের বিচার বিভাগের আইনজীবী এড মার্টিনকেও একাধিক অনুষ্ঠানে দাঙ্গাবাজ টিমোথি হেইল-কুসানেলির সঙ্গে দেখা গেছে। মার্টিন অনেকবার কুসানেলিকে ‘চমৎকার লোক’, ‘অসাধারণ নেতা’ ও ‘বড় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ ফেডারেল প্রসিকিউটররা এই হেইল-কুসানেলিকে ‘নাৎসি সহানুভূতিশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

‘হেইল হিটলার’ ভঙ্গিতে ইলন মাস্কের স্যালুট। ছবি: সংগৃহীত
‘হেইল হিটলার’ ভঙ্গিতে ইলন মাস্কের স্যালুট। ছবি: সংগৃহীত

এই তালিকায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্কের নামও বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি এক জনসমাবেশে তাঁর হাত নাড়ানোর ভঙ্গি অনেকটা নাৎসিদের ‘সিগ হেইল’ বা ‘হেইল হিটলার’ স্যালুটের মতোই দেখিয়েছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যদিও একে নিছক অভিবাদন বা বাচনভঙ্গি বলা হচ্ছে, কিন্তু তাঁর মালিকানাধীন ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে নব্য-নাৎসি প্রচারণার অবাধ সুযোগ এবং তাঁর নিজের বিতর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি এই সংশয়কে আরও উসকে দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো এই সবকিছু কি স্বাভাবিক? ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ও তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো এসব বার্তা কি নাৎসি এবং নাৎসিবাদকে স্বাভাবিক করে তুলছে না? আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তারা কীভাবে এই সব কিছু মেনে নেব?

যথারীতি পচনের শুরুটা হয় একদম ওপর থেকে। খোদ ট্রাম্পের কাছ থেকেই। তাঁর নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট একবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প হতে পারেন ‘আমেরিকার হিটলার’। ট্রাম্পের প্রথম স্ত্রী ইভানা ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প তাঁর বিছানার পাশের ক্যাবিনেটে হিটলারের ভাষণের বই রাখতেন। ট্রাম্প অবশ্য বলেছিলেন বইটি তাঁর এক বন্ধু উপহার দিয়েছে। হিটলারের আত্মজীবনী ‘মাইন কাম্ফ’ বা ‘আমার সংগ্রাম’-এর পাতার পর পাতা থেকে ট্রাম্প সরাসরি ভাষা ধার করেছেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘পোকামাকড়’ বলে অভিহিত করেছেন। অভিবাসীরা জাতির ‘রক্ত দূষিত’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি দাভোস ইকোনমিক ফোরাম ২০২৬-এ বক্তৃতা শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি একজন ডিক্টেটর (স্বৈরশাসক), বিশ্বের আসলে একজন স্বৈরশাসক দরকার।

২০২২ সালে মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে অতিথি ছিলেন ইয়ে এবং নিক ফুয়েন্তেস। ইয়ে একজন হিটলারের গুণগ্রাহী। আর ফুয়েন্তেস তো হলোকাস্টই অস্বীকার করেন। ট্রাম্প যদিও পরে ফুয়েন্তেসের সঙ্গে দূরত্ব দেখিয়েছেন কিন্তু নিন্দা জানাননি বা তাঁকে বর্জনও করেননি। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের নিজের সাবেক চিফ অব স্টাফ দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প নিজেই হিটলারের প্রশংসা করতেন। তিনি বলতেন হিটলার নাকি ‘কিছু ভালো কাজও’ করেছিলেন।

হোয়াইট হাউজের পোস্টের স্ক্রিনশট
হোয়াইট হাউজের পোস্টের স্ক্রিনশট

তবে সিএনএন-এর বিরুদ্ধে করা এক মামলায় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক ঘটনায় তিনি ‘হিটলারের মতো’ আচরণ করবেন—এমন ইঙ্গিত দেওয়াটা মিথ্যা ও উসকানিমূলক। তাঁর সঙ্গে হিটলারের কোনো সংযোগ খোঁজাটা অন্যায়। যদিও সেই মামলা খারিজ হয়ে গিয়েছিল।

একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এর মানে এই নয় যে বামপন্থীরা বা উদারপন্থীরা যাদের পছন্দ করে না তাদের সবাইকে নাৎসি বলছে। বিষয়টি হলো আমাদের চোখের সামনের আসল নাৎসিদের চিনতে পারা।

ট্রাম্প ও তাঁর বন্ধুরা যদি চান কেউ তাদের নাৎসি না বলুক, তবে নাৎসিদের নিয়োগ দেওয়া বন্ধ করুন। নাৎসিদের উদ্ধৃতি দেওয়া থামান। নাৎসি ছবি পোস্ট করা বন্ধ করুন।

কিন্তু এই পরিস্থিতি শিগগিরই থামবে বলে আশা করবেন না। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে নব্য-নাৎসিদের ‘খুব ভালো মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর অনুসারীরা বছরের পর বছর ধরে সেই বক্তব্য অস্বীকার করার ব্যর্থ চেষ্টা করে গেছেন।

এখন আর সেই অস্বীকার করার বালাই নেই। কোনো লজ্জা নেই। কোনো অনুশোচনা নেই। ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন প্রশাসন দলের ভেতরে থাকা নাৎসি-তোষণকারীদের সাহস জোগাচ্ছে। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা নাৎসি বার্তাগুলোকে উঁচুতে তুলে ধরছে এবং জোরালোভাবে প্রচার করছে।

আমার মুখের কথায় বিশ্বাস করার দরকার নেই। গত বছর নব্য-নাৎসি সংগঠন আরিয়ান ফ্রিডম নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ডাল্টন হেনরি স্টাউট বলেছিলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে যেসব বিষয় সামনে আনছি, ট্রাম্প সেই বিষয়গুলোর আবার জাগিয়ে তুলে জনপ্রিয় করেছেন। আমাদের জন্য ‘ট্রাম্প’ একটি সেরা ঘটনা।’

স্টাউট আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের পক্ষই নির্বাচনে জিতেছে।’

লেখক: লেখক ও সাংবাদিক

দ্য গার্ডিয়ান থেকে অনুবাদ করেছেন তুফায়েল আহমদ।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত