ড. খালিদুর রহমান

ক্ষমতার পরিবর্তন সব সময়ই একটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নতুন সরকারের আগমন মানুষের মধ্যে নতুন আশা জাগায়, নতুন প্রত্যাশার জন্ম দেয়। কিন্তু ইতিহাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক রূপান্তর নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই সম্ভব হয়, যখন নতুন নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে পারে, আইনের শাসনকে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে, জনগণের প্রত্যাশাকে বাস্তবসম্মত নীতিতে রূপ দিতে পারে।
বাংলাদেশ আজ ঠিক এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে, যেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রশ্ন।
জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা জনগণের প্রত্যাশাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি উচ্চারিত হয়েছে, জনগণ এখন তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়।
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেছে। এসব ঘোষণা মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, আশা তখনই স্থায়ী হয় যখন তার প্রতিফলন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান হয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ নাগরিক জীবন ও কার্যকর সরকারি সেবাই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও একই শিক্ষা দেয়। স্বাধীনতার পর একাধিকবার ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর মানুষ বিশ্বাস করেছিল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও অংশগ্রহণমূলক হবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি বাড়বে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জুলাই আন্দোলন সেই ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক।
এই আন্দোলন নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় করেছে, একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত এখানেই যে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক পরিসর থেকে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক পরিসরে নিয়ে এসেছে।
বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও নির্বাচনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও একই বাস্তবতার অংশ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বিশ্বের বহু দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, একটি পদে কে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা। ব্যক্তি পরিবর্তিত হতে পারেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা দক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছে, সেই প্রশ্নই অধিক তাৎপর্যপূর্ণ।
গণতন্ত্রের আরেকটি মৌলিক ভিত্তি হলো সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। একটি পরিণত গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলো নীতি, কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার ভিত্তিতে জনগণের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করে। বিরোধী দলের কার্যকর উপস্থিতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হওয়া উচিত নয়। প্রকৃতপক্ষে সুস্থ প্রতিযোগিতাই সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক হতে উৎসাহিত করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এই সত্যকে সুস্পষ্টভাবে সমর্থন করে। যুক্তরাজ্যে নিয়মিত সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকে। দক্ষিণ কোরিয়া কয়েক দশক আগে সামরিক শাসনের অধীনে থাকলেও ধারাবাহিক সাংবিধানিক সংস্কার, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থা ও সক্রিয় নাগরিক সমাজের বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম সফল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ঘানা ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে আফ্রিকার অন্যতম স্থিতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বিপরীত উদাহরণও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে আরব বসন্তের সময় সরকার পরিবর্তিত হলেও দুর্বল প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সাংবিধানিক অস্থিরতার কারণে প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক রূপান্তর স্থায়ী হয়নি। এসব অভিজ্ঞতা একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে নেতৃত্ব পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হলেও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গঠনই দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির প্রধান শর্ত।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। যে দলই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকুক, তাদের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে তার ওপর। একই সঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সমাজ ও নাগরিক সংগঠনকে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়াও একটি পরিণত গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শিক্ষা ছিল যে সচেতন নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে। সমালোচনাকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা হলে নীতিনির্ধারণ আরও বাস্তবসম্মত হয়, জনআস্থাও বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি ও তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশসহ বহু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, দ্রুত নগরায়ণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন ও কর্মসংস্থানের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামনে কাজের পরিধি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বিস্তৃত। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এখন একই লক্ষ্যের পরস্পরসম্পূরক অংশ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ বিভিন্ন সময়ের নেতারা দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অবদান, সীমাবদ্ধতা ও শাসনকাল নিয়ে ইতিহাসবিদ, গবেষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, যা একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে একটি মৌলিক সত্য হলো, কোনো রাষ্ট্রের স্থায়ী সাফল্য ব্যক্তিনির্ভর নয়; সেটি প্রতিষ্ঠাননির্ভর। শক্তিশালী সংবিধান, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, দক্ষ প্রশাসন, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনাই দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
আজ বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কে ক্ষমতায় আছেন, সেটি নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা শক্তিশালী হচ্ছে, সেই প্রশ্ন। জনগণ দেখতে চায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, প্রশাসনের স্বচ্ছতা কতটা বাড়ছে, সরকারি সেবার মান কতটা উন্নত হচ্ছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্ম রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি, মেধাভিত্তিক সুযোগ, ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও জবাবদিহিমূলক শাসনের বাস্তব প্রতিফলন প্রত্যাশা করে। এই প্রত্যাশা পূরণ করা গেলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
ইতিহাসের শিক্ষা তাই অত্যন্ত স্পষ্ট। ক্ষমতার পরিবর্তন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, কিন্তু সেই অধ্যায়ের সাফল্য নির্ভর করে রাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে তার ওপর। ব্যক্তি আসবেন, ব্যক্তি চলে যাবেন, রাজনৈতিক দলও পরিবর্তিত হবে। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর সংসদ, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, মুক্ত গণমাধ্যম ও সক্রিয় নাগরিক সমাজ টিকে থাকলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রাও টেকসই হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রকৃত সাফল্য তাই ক্ষমতার পালাবদলে নয়, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্ষম, নিরপেক্ষ ও জনমুখী করে তোলার মধ্যেই নিহিত। সেটিই হবে জুলাই আন্দোলনের চেতনার সবচেয়ে অর্থবহ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।
লেখক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক

ক্ষমতার পরিবর্তন সব সময়ই একটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নতুন সরকারের আগমন মানুষের মধ্যে নতুন আশা জাগায়, নতুন প্রত্যাশার জন্ম দেয়। কিন্তু ইতিহাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক রূপান্তর নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত পরিবর্তন তখনই সম্ভব হয়, যখন নতুন নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে পারে, আইনের শাসনকে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে, জনগণের প্রত্যাশাকে বাস্তবসম্মত নীতিতে রূপ দিতে পারে।
বাংলাদেশ আজ ঠিক এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে, যেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রশ্ন।
জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা জনগণের প্রত্যাশাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি উচ্চারিত হয়েছে, জনগণ এখন তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়।
বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেছে। এসব ঘোষণা মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, আশা তখনই স্থায়ী হয় যখন তার প্রতিফলন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান হয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ নাগরিক জীবন ও কার্যকর সরকারি সেবাই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও একই শিক্ষা দেয়। স্বাধীনতার পর একাধিকবার ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর মানুষ বিশ্বাস করেছিল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও অংশগ্রহণমূলক হবে, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি বাড়বে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জুলাই আন্দোলন সেই ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক।
এই আন্দোলন নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় করেছে, একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত এখানেই যে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে ব্যক্তি বা দলকেন্দ্রিক পরিসর থেকে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক পরিসরে নিয়ে এসেছে।
বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও নির্বাচনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও একই বাস্তবতার অংশ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবিধানিক পদে পরিবর্তন অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বিশ্বের বহু দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, একটি পদে কে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক মর্যাদা, নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা। ব্যক্তি পরিবর্তিত হতে পারেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা দক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছে, সেই প্রশ্নই অধিক তাৎপর্যপূর্ণ।
গণতন্ত্রের আরেকটি মৌলিক ভিত্তি হলো সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। একটি পরিণত গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলো নীতি, কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার ভিত্তিতে জনগণের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করে। বিরোধী দলের কার্যকর উপস্থিতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হওয়া উচিত নয়। প্রকৃতপক্ষে সুস্থ প্রতিযোগিতাই সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক হতে উৎসাহিত করে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এই সত্যকে সুস্পষ্টভাবে সমর্থন করে। যুক্তরাজ্যে নিয়মিত সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকে। দক্ষিণ কোরিয়া কয়েক দশক আগে সামরিক শাসনের অধীনে থাকলেও ধারাবাহিক সাংবিধানিক সংস্কার, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, শক্তিশালী নির্বাচন ব্যবস্থা ও সক্রিয় নাগরিক সমাজের বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম সফল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ঘানা ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে আফ্রিকার অন্যতম স্থিতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বিপরীত উদাহরণও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে আরব বসন্তের সময় সরকার পরিবর্তিত হলেও দুর্বল প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সাংবিধানিক অস্থিরতার কারণে প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক রূপান্তর স্থায়ী হয়নি। এসব অভিজ্ঞতা একটি বিষয় স্পষ্ট করে যে নেতৃত্ব পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হলেও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গঠনই দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির প্রধান শর্ত।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। যে দলই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকুক, তাদের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে তার ওপর। একই সঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী সমাজ ও নাগরিক সংগঠনকে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়াও একটি পরিণত গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শিক্ষা ছিল যে সচেতন নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে। সমালোচনাকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা হলে নীতিনির্ধারণ আরও বাস্তবসম্মত হয়, জনআস্থাও বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ গত পাঁচ দশকে দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি ও তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশসহ বহু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, দ্রুত নগরায়ণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন ও কর্মসংস্থানের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামনে কাজের পরিধি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বিস্তৃত। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এখন একই লক্ষ্যের পরস্পরসম্পূরক অংশ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ বিভিন্ন সময়ের নেতারা দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অবদান, সীমাবদ্ধতা ও শাসনকাল নিয়ে ইতিহাসবিদ, গবেষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, যা একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে একটি মৌলিক সত্য হলো, কোনো রাষ্ট্রের স্থায়ী সাফল্য ব্যক্তিনির্ভর নয়; সেটি প্রতিষ্ঠাননির্ভর। শক্তিশালী সংবিধান, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, দক্ষ প্রশাসন, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনাই দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
আজ বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কে ক্ষমতায় আছেন, সেটি নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা শক্তিশালী হচ্ছে, সেই প্রশ্ন। জনগণ দেখতে চায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, প্রশাসনের স্বচ্ছতা কতটা বাড়ছে, সরকারি সেবার মান কতটা উন্নত হচ্ছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্ম রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি, মেধাভিত্তিক সুযোগ, ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও জবাবদিহিমূলক শাসনের বাস্তব প্রতিফলন প্রত্যাশা করে। এই প্রত্যাশা পূরণ করা গেলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
ইতিহাসের শিক্ষা তাই অত্যন্ত স্পষ্ট। ক্ষমতার পরিবর্তন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, কিন্তু সেই অধ্যায়ের সাফল্য নির্ভর করে রাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে তার ওপর। ব্যক্তি আসবেন, ব্যক্তি চলে যাবেন, রাজনৈতিক দলও পরিবর্তিত হবে। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর সংসদ, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, মুক্ত গণমাধ্যম ও সক্রিয় নাগরিক সমাজ টিকে থাকলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রাও টেকসই হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রকৃত সাফল্য তাই ক্ষমতার পালাবদলে নয়, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্ষম, নিরপেক্ষ ও জনমুখী করে তোলার মধ্যেই নিহিত। সেটিই হবে জুলাই আন্দোলনের চেতনার সবচেয়ে অর্থবহ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।
লেখক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক
.png)

কোনো মিথ্যা, ভ্রান্ত ধারণা কিংবা সুবিধাজনক বয়ান যদি সত্যের মুখোমুখি হয়ে টিকে থাকতে না পারে, তাহলে তাকে বাঁচিয়ে রাখার কোনো রাষ্ট্রনৈতিক মূল্য নেই। বরং যে জাতি সত্যকে যতদিন এড়িয়ে যাবে, বাস্তবতার মূল্য তাকে তত বেশি দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য আজ তাই সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন—আমরা কি নিজেদের সম্পর্কে সত্য
১৯ মিনিট আগে
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং জিপিএ-৫ এর মারাত্মক পতন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। এই ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ ‘ডিজিটাল সোসাইটি’ ও ‘অ্যানালগ পরীক্ষাব্যবস্থা’র মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত।
২ ঘণ্টা আগেসৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুন লেগে ঘুমের মধ্যে পুড়ে মারা গেছেন ১৬ জন বাংলাদেশি। তাঁদের ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাইয়ে; তিনজন নাটোরের নলডাঙ্গায়। এই মুহূর্তে সেসব গ্রামে শোকের যে ছায়া নেমেছে, তার ভার বহনের শক্তি কোনো পরিবারের নেই।
১৯ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেলের আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন ব্যবস্থার প্রশ্নকে কেবল ব্যবসার স্বাধীনতা, বাজারে প্রতিযোগিতা কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতার আলোকে বিচার করলে চলবে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব, জনগণের জ্বালানি অধিকার এবং সর্বোপরি জ্বালানি সুবিচার।
১ দিন আগে