লেখা:

গত বছরের বেশির ভাগ সময়জুড়ে টানাপোড়েনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার অঙ্গীকার করেছিল। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের আচরণ সেই আশাবাদে নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনারকে তলব করে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দ্বিতীয়বার, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনকে তলব করল। এর আগে গত মাসে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে করা মন্তব্যকে বাংলাদেশ ‘অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেছিল।
জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর জোটের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি যাচ্ছিলেন। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাঁকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। জাহেদ উর রহমানের মতে, তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করানো হয়। পরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি ঘটনাটির প্রতিবাদ হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, দিল্লির উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের পরই তার প্রবেশের অনুমতি মেলে। তবে সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা ‘নির্যাতিত’ বা ‘হয়রানির’ শিকার হননি, তবে পুরো ঘটনাকে তিনি একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এ ঘটনায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে রহমানের নাম ভুলবশত অভিবাসন নজরদারি তালিকায় চলে গিয়েছিল, যা পরে শনাক্ত করে সংশোধন করা হয়। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টের পরিবর্তে সার্ক ভিসাযুক্ত ব্যক্তিগত পাসপোর্টে ভ্রমণ করছিলেন, যা বিভ্রান্তির একটি কারণ হতে পারে।
অনেকে রহমানের বক্তব্যকে সাম্প্রতিক সময়ের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরিচিত রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখলেও, এই ঘটনা বাংলাদেশে আগে থেকেই বিদ্যমান ভারতবিরোধী মনোভাবকে আরও উসকে দিতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্র সম্পাদকীয়তে ভারতের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এবং কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুসরণে ব্যর্থতার স্বীকৃতি দাবি করেছে।
এমন উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ একই আকাশ, একই বাতাস, একই বেদনা ভাগ করে নেয়।’ বাংলাদেশে অনেকেই এই মন্তব্যকে ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণার প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। যদিও বক্তব্যটি মূলত দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গে ছিল, তবু জামায়াতে ইসলামী এটিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে সরকারের কাছে ভারতের ব্যাখ্যা দাবি করে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী জয়ের পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশের দাবি, সীমান্তে ‘পুশইন’ অর্থাৎ জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে, যদিও ভারত এটিকে ‘পুশব্যাক’ বলে উল্লেখ করছে। ঢাকা বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেছে।
৮ থেকে ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়সহ বিভিন্ন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলেও ঢাকার উদ্বেগ কাটেনি। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ও ১৫ জুন জামায়াতে ইসলামী সীমান্ত জেলা ও ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবং ভারতের কথিত ‘পুশ ইন’ নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়।
জাহেদ উর রহমানের ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি পুরোনো অমীমাংসিত বিষয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, তার ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল দেশ-বিদেশে এই বার্তা দেওয়া যে ‘এটি শেখ হাসিনার সরকার নয়, এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।’
যদিও বিএনপির কিছু নেতা আশ্বাস দিয়েছেন, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় বড় বাধা হবে না, বাস্তবে বিষয়টি বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে উত্থাপন করে আসছে।
এরই মধ্যে ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার অংশগ্রহণ এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তারই উদাহরণ। দুই দেশের অভিন্ন খাদ্যসংস্কৃতিকে সামনে এনে ‘গোলগাপ্পা কূটনীতি’র কথাও প্রচার করা হয়েছে।
এসব পদক্ষেপে দিল্লির সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগ্রহ প্রকাশ পেলেও বাস্তব সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রমও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে ভারত এসব ব্যবস্থা নিয়েছিল।
ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে ভারতের বিলম্ব বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও বাড়িয়ে তুলছে। দিল্লি যত দেরি করবে, দুই দেশের দূরত্ব তত গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকায় ভারতের প্রভাব ক্রমেই কমছে এবং সেই শূন্যস্থান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন দ্রুত পূরণ করছে। বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে স্বাধীনতা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে দিল্লির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঢাকার আস্থা পুনর্গঠন। তা না হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত ধীরে ধীরে গৌণ অংশীদারে পরিণত হতে পারে।
আগামী সপ্তাহে তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ভারত সফর এখনো দ্বিপক্ষীয় নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পরিবর্তে চীনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার এই সফরসূচি বর্তমান সময়ে ঢাকার কূটনৈতিক ঝোঁকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
(লেখক: রুশালি সাহা, গবেষক, কলামিস্ট, নয়াদিল্লি। দ্য ডিপ্লোমেট থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম।)

গত বছরের বেশির ভাগ সময়জুড়ে টানাপোড়েনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার অঙ্গীকার করেছিল। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের আচরণ সেই আশাবাদে নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের উপ-হাইকমিশনারকে তলব করে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দ্বিতীয়বার, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনকে তলব করল। এর আগে গত মাসে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে করা মন্তব্যকে বাংলাদেশ ‘অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেছিল।
জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর জোটের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি যাচ্ছিলেন। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাঁকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। জাহেদ উর রহমানের মতে, তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করানো হয়। পরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি ঘটনাটির প্রতিবাদ হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, দিল্লির উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের পরই তার প্রবেশের অনুমতি মেলে। তবে সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা ‘নির্যাতিত’ বা ‘হয়রানির’ শিকার হননি, তবে পুরো ঘটনাকে তিনি একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এ ঘটনায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে রহমানের নাম ভুলবশত অভিবাসন নজরদারি তালিকায় চলে গিয়েছিল, যা পরে শনাক্ত করে সংশোধন করা হয়। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টের পরিবর্তে সার্ক ভিসাযুক্ত ব্যক্তিগত পাসপোর্টে ভ্রমণ করছিলেন, যা বিভ্রান্তির একটি কারণ হতে পারে।
অনেকে রহমানের বক্তব্যকে সাম্প্রতিক সময়ের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরিচিত রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখলেও, এই ঘটনা বাংলাদেশে আগে থেকেই বিদ্যমান ভারতবিরোধী মনোভাবকে আরও উসকে দিতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্র সম্পাদকীয়তে ভারতের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এবং কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুসরণে ব্যর্থতার স্বীকৃতি দাবি করেছে।
এমন উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ একই আকাশ, একই বাতাস, একই বেদনা ভাগ করে নেয়।’ বাংলাদেশে অনেকেই এই মন্তব্যকে ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণার প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। যদিও বক্তব্যটি মূলত দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গে ছিল, তবু জামায়াতে ইসলামী এটিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে সরকারের কাছে ভারতের ব্যাখ্যা দাবি করে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী জয়ের পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশের দাবি, সীমান্তে ‘পুশইন’ অর্থাৎ জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে, যদিও ভারত এটিকে ‘পুশব্যাক’ বলে উল্লেখ করছে। ঢাকা বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেছে।
৮ থেকে ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়সহ বিভিন্ন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলেও ঢাকার উদ্বেগ কাটেনি। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ও ১৫ জুন জামায়াতে ইসলামী সীমান্ত জেলা ও ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবং ভারতের কথিত ‘পুশ ইন’ নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়।
জাহেদ উর রহমানের ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি পুরোনো অমীমাংসিত বিষয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, তার ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল দেশ-বিদেশে এই বার্তা দেওয়া যে ‘এটি শেখ হাসিনার সরকার নয়, এটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।’
যদিও বিএনপির কিছু নেতা আশ্বাস দিয়েছেন, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় বড় বাধা হবে না, বাস্তবে বিষয়টি বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে উত্থাপন করে আসছে।
এরই মধ্যে ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার অংশগ্রহণ এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তারই উদাহরণ। দুই দেশের অভিন্ন খাদ্যসংস্কৃতিকে সামনে এনে ‘গোলগাপ্পা কূটনীতি’র কথাও প্রচার করা হয়েছে।
এসব পদক্ষেপে দিল্লির সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগ্রহ প্রকাশ পেলেও বাস্তব সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশে আরোপিত বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রমও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে ভারত এসব ব্যবস্থা নিয়েছিল।
ঢাকায় নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে ভারতের বিলম্ব বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও বাড়িয়ে তুলছে। দিল্লি যত দেরি করবে, দুই দেশের দূরত্ব তত গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকায় ভারতের প্রভাব ক্রমেই কমছে এবং সেই শূন্যস্থান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন দ্রুত পূরণ করছে। বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে স্বাধীনতা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে দিল্লির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঢাকার আস্থা পুনর্গঠন। তা না হলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত ধীরে ধীরে গৌণ অংশীদারে পরিণত হতে পারে।
আগামী সপ্তাহে তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ভারত সফর এখনো দ্বিপক্ষীয় নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পরিবর্তে চীনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার এই সফরসূচি বর্তমান সময়ে ঢাকার কূটনৈতিক ঝোঁকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
(লেখক: রুশালি সাহা, গবেষক, কলামিস্ট, নয়াদিল্লি। দ্য ডিপ্লোমেট থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম।)

বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ নাগরিক রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে এখনো সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার সম্পর্ক হিসেবে দেখেন। অথচ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক কেবল সুবিধাভোগী নন; তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম অংশীদ্বার।
৪ ঘণ্টা আগে
ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা আমাদের বিমূঢ় করেছিল। জানা যায়, ঘাতক ছিল মাদকাসক্ত। তার মধ্যে ছিল পাশবিক প্রবণতা।
৫ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জগতে কোনো রাষ্ট্রনেতার প্রথম বিদেশ সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং তা দেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, কৌশলগত অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
১২ ঘণ্টা আগে
৬০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তিপত্রে উপনীত হয়েছে, সেটা অগ্রাহ্য করা ইসরায়েলের পক্ষে কঠিন হবে। অনেকের সঙ্গে আমরাও আশা করব, ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে পড়া যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে তার ঘনিষ্ঠতম মিত্র দেশটিকে সংযত রাখবে।
১ দিন আগে