বেলুচিস্তানের শিক্ষিত নারীরা কেন চরমপন্থার দিকে ঝুঁকছেন

লেখা:
লেখা:
কিয়া বালুচ

স্ট্রিম গ্রাফিক

পাকিস্তানের বন্দরনগরী গওয়াদারে সদ্য নিয়োগ পাওয়া একদল প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক এক আলোচনায় বেলুচিস্তানের কর্পস কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহাত নাদিম আহমেদ খান জানতে চান, কোন কোন কারণ শিক্ষিত তরুণীদের মধ্যে সশস্ত্র আন্দোলনের প্রতি ঝোঁক তৈরি করছে।

একই আলোচনায় তিনি সংক্ষেপে কয়েকজন বালুচ অধিকারকর্মীর কথাও উল্লেখ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন নারী অধিকারকর্মী ড. মাহরাং বালুচ ও সাম্মি দীন বালুচ। আলোচনায় উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, নাদিম খান বলেন, সাম্মি দীনের আন্দোলন তুলনামূলকভাবে সংযত এবং তিনি পাকিস্তানের সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই বালুচ নিখোঁজ ব্যক্তিদের ইস্যু সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তবে একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এমন স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও, টানা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সাম্মি দীন বালুচের নাম এখনো দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবিরোধী নজরদারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ‘ফোর্থ শিডিউল’ নামে পরিচিত ।

ডা. মাহরাং বালুচকে নিয়ে আরও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন রাহাত নাদিম খান। তিনি তাঁকে বেশি ‘উগ্রপন্থী’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে কারাগারে থাকা অবস্থায় হয়তো তাঁর মধ্যে কিছু পরিবর্তন এসেছে।

তবে সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে ডা. মাহরাং বালুচ লিখেছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন বালুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি) সবসময় পাকিস্তানের সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরেই থেকেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একই নিবন্ধে ডা. মাহরাং বালুচ লিখেছেন, তিনি সবসময় বেলুচিস্তানে সংঘটিত সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে এমন যেকোনো গোষ্ঠীর বিরোধিতা করেছেন।

যাইহোক, পরে কর্পস কমান্ডার একটি বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি আমার (লেখক) নাম উল্লেখ করে আমাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

পরে সেই আলোচনায় উপস্থিত কয়েকজন আমাকে একই প্রশ্ন করেন, যা রাহাত নাদিম আহমেদ খানও তুলেছিলেন— কী কারণে তরুণ, শিক্ষিত বালুচ নারীরা সশস্ত্র পথে ঝুঁকছে?

আমার সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: এই প্রবণতার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে দমনমূলক রাষ্ট্রীয় নীতি, যা বেলুচিস্তানে সামরিক বাহিনী তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে। বিষয়টি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাধারণ বালুচ জনগণ ও নীতিনির্ধারকদের বিশেষ করে পাঞ্জাব ও ইসলামাবাদকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামোর মধ্যে গভীর বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া, ভিন্নমতাবলম্বী কণ্ঠস্বর যেমন রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ডা. মাহরাং বালুচ ও সাম্মি দীন, পাশাপাশি অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বহু বছর ধরে বেলুচিস্তানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামরিক বাহিনী নিজেদের পছন্দের রাজনীতিবিদদের সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়ভাবে যাদের প্রায়ই ‘ভুয়া নেতা’, ‘যুদ্ধ-সুবিধাভোগী’ বা ‘সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এসব নেতা বারবার পাঞ্জাবের ক্ষমতাকেন্দ্র এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে প্রদেশটির বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য তুলে ধরেছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সামরিক বাহিনীর অধিকাংশ কর্মকর্তা পাঞ্জাব অঞ্চল থেকে আসায় বেলুচিস্তানের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং ১৯৪৮ সাল থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে যে এর জটিল সম্পর্ক রয়েছে, সে সম্পর্কে তাদের সীমিত ধারণা। অতীতে বেলুচিস্তানে চার দফা বিদ্রোহ হয়েছে; বর্তমানে চলমান আন্দোলনটি পঞ্চম এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী, যা মূলত পূর্ববর্তী অস্থিরতার ধারাবাহিকতা। তবে প্রদেশটির তথাকথিত কৃত্রিম নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে এই বিদ্রোহকে সম্পূর্ণভাবে বিদেশি প্রভাবের ফল হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নেতৃত্ব বারবার সমালোচনামুখর বালুচ কণ্ঠগুলোকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থক, পাকিস্তানবিরোধী উপাদান কিংবা বৈরী সংস্থার মদদপুষ্ট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা, দমন-পীড়ন বা কারাবন্দি করে তাদের কণ্ঠরোধ করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ডা. মাহরাং বালুচ তথাকথিত দুর্বল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযোগে কারাগারে আটক রয়েছেন বলে অনেকের ধারণা।

এদিকে, ২০১৮ সালের বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের পর বেলুচিস্তান ও পাঞ্জাবের মধ্যে যোগাযোগের দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। ওই নির্বাচনের পর সামরিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে হঠাৎ করেই বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি) গঠন করা হয় এবং দলটিকে ক্ষমতায় আনা হয়।

জনসমর্থনের ঘাটতিতে ভোগা এসব রাজনীতিবিদ সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন। বরং তারা দেশপ্রেমের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনে বেশি মনোযোগী ছিলেন। এই সময়েই বিদ্রোহ আরও সহিংস রূপ নিতে শুরু করে এবং ক্ষুব্ধ বালুচ তরুণদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে। ফলে আরও বেশি তরুণ সশস্ত্র পথে ঝুঁকে পড়ে।

এই ধরনের, আরও উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যায় ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময়। নির্বাচনটি ব্যাপকভাবে কারচুপির অভিযোগে সমালোচিত হয়। বর্তমান বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সারফরাজ আহমেদ বুগতি তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অংশ ছিলেন, যাদের দায়িত্ব ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করেন, যা পাকিস্তানের সংবিধানের ২২৪ (১খ) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলে মনে করা হয়। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। তবুও তিনি নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছেন বালুচ অধিকারকর্মী, বিওয়াইসি, বালুচ জাতীয়তাবাদী দল এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে। তাদেরকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘জঙ্গি সহানুভূতিশীল’ কিংবা ‘বিদেশি শক্তির এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার সমালোচককে গ্রেপ্তার, গুম করা হয়েছে কিংবা ‘ফোর্থ শিডিউল’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, (ন্যারেটিভ গঠন) করে পাঞ্জাব ও ইসলামাবাদ থেকে সাংবাদিক ও ইনফ্লুয়েন্সারদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যাতে বালুচ কর্মীদের রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। যদিও তিনি বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী, তার বার্তা মূলত পাঞ্জাবের শ্রোতাদের লক্ষ্য করেই দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

২০১৮ সাল থেকে, বিশেষ করে বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর, বেলুচিস্তানে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বালুচ জনগণের কাছে প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা স্থানীয় জনগণের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার জন্য পাঞ্জাবের ওপর নির্ভরশীল ধারণা ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, তারা প্রায়ই স্থানীয় অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার রক্ষকদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে, পাঞ্জাব ও ইসলামাবাদের ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়ানো হয়। বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আচরণেও এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

ফলস্বরূপ, সচেতন তরুণ-তরুণী, বিশেষ করে তরুণীরা ক্রমশ চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে, বৃহৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নেতা ডা. মাহরাং বালুচের গ্রেপ্তারের পর। অহিংস প্রতিরোধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে, যা অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হচ্ছে।

ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে সাধারণ বালুচ জনগণ এবং ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাবের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ব্যবধানের সুযোগ নিয়ে প্রাদেশিক কিছু এলিট গোষ্ঠী সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ, অনেক নীতিনির্ধারকেরই বেলুচিস্তানের সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ সীমিত।

যদিও পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলগুলোর মধ্যেও এ ধরনের বিভাজন দেখা যায়, বেলুচিস্তানের ক্ষেত্রে এটি আরও গভীর। এর একটি বড় কারণ হলো জাতীয় পরিষদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) প্রদেশটির সীমিত প্রতিনিধিত্ব। করাচি বা লাহোরের মতো বড় শহরের তুলনায় বেলুচিস্তানের আসন সংখ্যা কম, ফলে জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাবও তুলনামূলকভাবে কম। এই বাস্তবতায় মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো যেমন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) প্রদেশটির প্রতি তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখায়।

বেলুচিস্তানের কাঠামোগত বিচ্ছিন্নতা সমস্যাটিকে আরও গভীর করেছে। প্রদেশটিতে বৃহৎ শিল্পের অভাব, অন্যান্য প্রদেশের শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাটতি এবং কার্যকর পর্যটন খাতের অনুপস্থিতি রয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের নীতিনির্ধারক এবং শহুরে মধ্যবিত্তের কাছে বালুচ জনগণের ক্ষোভ, সামাজিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন সম্পর্কে ধারণা সীমিত রয়ে গেছে।

এই তথ্য-শূন্যতা সহজকৃত কিছু বর্ণনার বিস্তার ঘটিয়েছে, যেখানে অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে প্রধানত বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করা হয় এমন একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা বালুচ সমাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকা অনেকের কাছেই সহজে গ্রহণযোগ্য। অথচ খুব কমই স্বীকার করা হয় যে, বালুচদের ক্ষোভের সূত্রপাত ১৯৪৮ সাল থেকেই, এবং বর্তমান বিদ্রোহ আসলে অতীতের ধারাবাহিকতারই একটি।

এছাড়া, বালুচ অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে সারফরাজ বুগতি এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকারসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উসকানিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। রাষ্ট্রীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা যেভাবে এসব কর্মীদের ‘শত্রুভাবাপন্ন’ বা ‘পাকিস্তানবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তা বালুচ তরুণদের আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের একাংশকে সশস্ত্র পথে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান বেলুচিস্তানের অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেবল অবহেলা, বঞ্চনা ও দমননীতির ফল নয়; বরং বালুচ কণ্ঠস্বরকে ক্রমাগতভাবে টার্গেট ও অগ্রাহ্য করার ধারাবাহিক ফলাফলও এতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সালে গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সে পাকিস্তান প্রথম স্থানে উঠে আসে, যেখানে সন্ত্রাসজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৬ শতাংশ বেড়ে ১১৩৯ জনে দাঁড়ায়। এর মধ্যে বেলুচিস্তান ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর একটি।

২০২৪ সালে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঘটনা ১১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যেখানে বালুচ লিবারেশন আর্মি অন্যতম প্রধান হামলাকারী গোষ্ঠী হিসেবে উঠে আসে। এই সহিংসতা বৃদ্ধির প্রবণতা বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থানের সময়ের সঙ্গে একই সময়ে ঘটেছে।

বালুচ ও রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয় যখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসলামাবাদে অবস্থান ধর্মঘট করেন। তখন কাকার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সরকার সেই আন্দোলনের জবাবে একটি নেতিবাচক মিডিয়া প্রচার চালায় এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গওয়াদারে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ২০২৫ সালের মার্চে ড. মাহরাং বালুচের গ্রেপ্তার এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক উত্তেজনাকর বক্তব্য এসব ঘটনাই বালুচ তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলে। এই ক্রমবর্ধমান ক্ষোভই শিক্ষিত তরুণ নারীদের একটি অংশকে সহিংস কার্যকলাপের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল খান যদি সত্যিই প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান খুঁজতে চান, তাহলে তাঁকে মানুষের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করার প্রকৃত সূচনা বিন্দু হলো বেলুচিস্তান বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নীতির একটি মৌলিক ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্মূল্যায়ন।

সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজনৈতিক বৈধতা ও আস্থার ভাঙন। এই আস্থা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো, বিশিষ্ট কারাবন্দি বালুচ অধিকারকর্মীদের মুক্তি দেওয়া তাদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে না দেখা এবং বর্তমান প্রাদেশিক কাঠামোর পরিবর্তে সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কেবল নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কোনো উদ্যোগই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, কিংবা নারীদের (এবং পুরুষদের) চরমপন্থী গোষ্ঠীতে যোগদান ঠেকাতে সক্ষম হবে না।

  • কিয়া বালুচ: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক; বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ, রাজনীতি ও জঙ্গিবাদবিষয়ক লেখক

(ডিপ্লোম্যাট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত