মতামত
সুমন সুবহান

সম্প্রতি রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ একটি নতুন ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গঠন করেছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইয়েমেন, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়া।
এই উদ্যোগের সরাসরি ট্রিগার ছিল জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ঘোষণা—তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ-অবরোধ আরোপ করবে বলে জানায়, এরপর সৌদি-সংশ্লিষ্ট একাধিক জাহাজে হামলার দাবি করে। এর আগেই হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। দুই দিক থেকে— পূর্বে হরমুজ এবং পশ্চিমে বাব-এল-মান্দেব, জ্বালানি সরবরাহ পথ চাপের মুখে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলার ছুঁয়ে ফেলে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০-১২ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তেল-জ্বালানি প্রতিদিন এই বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়—ফলে এই রুটের অস্থিরতা শুধু সৌদি আরবের নয়, গোটা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যই উদ্বেগের বিষয়।
নেপথ্যে কারা, কীভাবে জোট গঠিত হলো
বাব-এল-মান্দেব জোট গঠনের উদ্যোগটির নেতৃত্বে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ৫১টি দেশকে, যার মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি ও সামরিক প্রধানরা যোগ দেন, সঙ্গে ছিল একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলও (ইইউ-এর নিজস্ব ‘অ্যাসপিডিস’ নৌ-নিরাপত্তা মিশন লোহিত সাগরে আগে থেকেই সক্রিয়)। যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে অংশ নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেয়নি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা তারা পরবর্তীতে সমর্থন দেবে, যেহেতু অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই ওয়াশিংটনের বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা আছে।
চূড়ান্ত ঘোষণায় সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা, নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্র এবং স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জয়েন্ট কমান্ড, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার, জয়েন্ট মেরিটাইম অপারেশনস সেন্টার ও জেনারেল সেক্রেটারিয়েট—সবকিছুই সৌদি আরবে স্থাপিত হবে।
রুলস অফ এঙ্গেজমেন্ট ও জোট কীভাবে কাজ করবে
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, জোটটি ‘সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষামূলক’ এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা জোটকে লক্ষ্য করে নয়—এই কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভবত ইরানকে সরাসরি ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত না করে জোটকে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে। এ ছাড়াও জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত সামুদ্রিক রীতিনীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে বিস্তারিত রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট—অর্থাৎ কোন পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর নৌবাহিনী গুলি চালাতে পারবে, কার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হবে, কোন দেশ কতটা সৈন্য বা জাহাজ পাঠাবে—এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সৌদি কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন, জোটের চার্টার ও কার্যকরী কাঠামো এখনো চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় আছে।
তবে এই অস্পষ্টতা গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ, কেননা এই অস্পষ্টতার ফলে জোটের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অতীতেও একই অঞ্চলে একাধিক আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা কাঠামো (যেমন ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম সিকিউরিটি কনস্ট্রাক্ট বা ইইউ-এর অ্যাসপিডিস মিশন) সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও হুতি হামলা পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। ফলে নতুন এই জোট কতটা বাস্তব নিরাপত্তা দিতে পারবে, নাকি মূলত একটি রাজনৈতিক-কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই থেকে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে।
কেন ইউএই ও ওমান এই জোটে যোগ দিল না
লক্ষণীয় বিষয় হলো, একই অঞ্চলের এবং একই নিরাপত্তা-স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এই জোটে সই করেনি। এই দুটি দেশের চিন্তাভাবনার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি কাজ করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ওমানের ক্ষেত্রে এটি একটি দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থানের ধারাবাহিকতা। কাতার অবরোধ (২০১৭-২০২১), ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট, কিংবা ২০১৬ সালে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সময়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ওমান নিরপেক্ষ থেকেছে এবং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। মাস্কাট নিজেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের ‘শেষ নিরপেক্ষ কূটনৈতিক করিডর’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়—যুক্তরাষ্ট্র-ইরান গোপন আলোচনার সময়ও ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে ওমানি ভূখণ্ডে ইরানি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও সুলতান হাইথাম বিন তারিক জোটে যোগ দেননি। কারণ তেহরানের সঙ্গে একমাত্র টিকে থাকা সংলাপের পথ হিসেবে এই ভূমিকা তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কাতার ও কুয়েতও একই ধরনের ‘স্ট্র্যাটেজিক হেজিং’ নীতি অনুসরণ করে থাকে—সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখা। প্রকাশ্যে ইরানবিরোধী কোনো সামরিক জোটে নাম লেখালে ভবিষ্যতে ইরানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে তাদের ধারণা।
বাংলাদেশের ভূমিকা কী হওয়া উচিত
জোটের রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায়, বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত সামরিক দায়বদ্ধতা কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিলে, বাস্তবসম্মত ভূমিকা সম্ভবত হবে মূলত কূটনৈতিক ও প্রতীকী সমর্থন। সীমিত পরিসরে নৌ-সহযোগিতা (যেমন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বা টহল জাহাজে অংশগ্রহণ) এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অভিজ্ঞতার আদলে সীমিত লজিস্টিক সহায়তা।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতির সম্ভাবনা
বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সীমিত এবং মূলত কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ—উভয় দেশের মধ্যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক নির্ভরতা নেই। ফলে ‘বাব-এল-মান্দেব’ জোটে যোগ দেওয়ার কারণে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কের অবনতি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। জোটটি নিজেকে ‘কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়’ বলে দাবি করলেও, বাস্তবে এটি হুতি ও পরোক্ষভাবে ইরান-সংশ্লিষ্ট হুমকি মোকাবিলার জন্যই গঠিত বলে ধারণা করা হয়। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বাড়লে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক নমনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গার্মেন্টস রপ্তানি ও জাহাজ নিরাপত্তায় প্রভাব
লোহিত সাগরের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের বাণিজ্যে ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। হুতি হামলার ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হচ্ছে—প্রতিটি জাহাজকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার বাড়তি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগছে। এর ফলে প্রতি কনটেইনারে (২০ ফুট টিইইউ) ৭০০ থেকে দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তি মাশুল আরোপ হচ্ছে। যেহেতু বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৭০ শতাংশের বেশি যায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে, তাই এই বাড়তি খরচের চাপ মূলত পোশাক রপ্তানিকারকদের ওপরই পড়ছে। বিজিএমইএ নেতারা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ক্রেতারা সময়মতো পণ্য পেতে ব্যয়বহুল বিমান পরিবহনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হতে পারেন, যা রপ্তানিকারকদের মুনাফা মার্জিন আরও সংকুচিত করবে।
নতুন এই জোট তাত্ত্বিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য বাস্তব সমাধান খুব দ্রুত আসার সম্ভাবনা কম। জোটের কার্যকর নৌ-টহল ব্যবস্থা গড়ে উঠতে সময় লাগবে, এবং তত দিন পর্যন্ত কেপ রুট ব্যবহার বা বাড়তি বিমা প্রিমিয়াম বহন করাই বাস্তবতা থেকে যাবে।
‘বাব-এল-মান্দেব’ জোটে যোগ না দিলে সৌদি বিনিয়োগে কী প্রভাব পড়তে পারত
সম্প্রতি বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক একটি ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের পাঠানো একটি চিঠি হস্তান্তর করেন, যাতে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং যুবরাজ নিজেও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি এই জোটের বাইরে থাকত, তাহলে সদ্য-চাঙা সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হতে পারত।
বাস্তব ঝুঁকিগুলোর মধ্যে থাকতে পারত—সৌদি শ্রমবাজারে নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ভিসা-প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি (বর্তমানে যা এমনিতেই একটি উদ্বেগের বিষয়), অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে পরিকল্পিত সৌদি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রকল্পে ধীরগতি, এবং সামগ্রিকভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রাজনৈতিক উষ্ণতা কমে যাওয়া। যদিও এসবের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত শর্ত নয়, কূটনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের বৃহৎ আঞ্চলিক উদ্যোগে অনুপস্থিত থাকা প্রায়ই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথে পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।
বাব-এল-মান্দেব জোটের ভবিষ্যৎ
এই জোটের ভবিষ্যৎ এখনো বেশ কয়েকটি অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, চার্টার ও কার্যকরী কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয়। তৃতীয়ত, উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি—ইউএই ও ওমান—জোটের বাইরে থাকায় এর আঞ্চলিক ঐক্যবদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়—সংঘাত প্রশমিত হলে জোটের প্রাসঙ্গিকতা কমে যেতে পারে; আর তা আরও বিস্তৃত হলে এই জোটের সদস্য দেশগুলোর জন্য প্রকৃত সামরিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে চলে আসবে।
রেমিট্যান্স-নির্ভরতা, প্রবাসী কর্মসংস্থান এবং ক্রমবর্ধমান সৌদি বিনিয়োগ-সম্পর্কের বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে, স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য এই জোটে যোগ দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসংগত একটি সিদ্ধান্ত বলা যায়—বিশেষ করে যেহেতু জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাঠামো হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, সরাসরি যুদ্ধ-সম্পৃক্ততা নয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণ ‘ঝুঁকিমুক্ত’ সিদ্ধান্ত বলা যাবে না। জোটের প্রকৃত রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট, বাংলাদেশের ভূমিকার প্রকৃত সীমা, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তার পরিণতি—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো খোলা।
অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই বাংলাদেশের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ—নিছক ‘যোগ দেওয়া ঠিক না ভুল’—এই দ্বি-বিভাজনের চেয়ে এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ একটি নতুন ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গঠন করেছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইয়েমেন, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, সুদান, জিবুতি ও সোমালিয়া।
এই উদ্যোগের সরাসরি ট্রিগার ছিল জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ঘোষণা—তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ-অবরোধ আরোপ করবে বলে জানায়, এরপর সৌদি-সংশ্লিষ্ট একাধিক জাহাজে হামলার দাবি করে। এর আগেই হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। দুই দিক থেকে— পূর্বে হরমুজ এবং পশ্চিমে বাব-এল-মান্দেব, জ্বালানি সরবরাহ পথ চাপের মুখে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলার ছুঁয়ে ফেলে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০-১২ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তেল-জ্বালানি প্রতিদিন এই বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়—ফলে এই রুটের অস্থিরতা শুধু সৌদি আরবের নয়, গোটা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যই উদ্বেগের বিষয়।
নেপথ্যে কারা, কীভাবে জোট গঠিত হলো
বাব-এল-মান্দেব জোট গঠনের উদ্যোগটির নেতৃত্বে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ৫১টি দেশকে, যার মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি ও সামরিক প্রধানরা যোগ দেন, সঙ্গে ছিল একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলও (ইইউ-এর নিজস্ব ‘অ্যাসপিডিস’ নৌ-নিরাপত্তা মিশন লোহিত সাগরে আগে থেকেই সক্রিয়)। যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকে অংশ নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেয়নি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা তারা পরবর্তীতে সমর্থন দেবে, যেহেতু অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই ওয়াশিংটনের বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা আছে।
চূড়ান্ত ঘোষণায় সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা, নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্র এবং স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জয়েন্ট কমান্ড, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার, জয়েন্ট মেরিটাইম অপারেশনস সেন্টার ও জেনারেল সেক্রেটারিয়েট—সবকিছুই সৌদি আরবে স্থাপিত হবে।
রুলস অফ এঙ্গেজমেন্ট ও জোট কীভাবে কাজ করবে
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, জোটটি ‘সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষামূলক’ এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা জোটকে লক্ষ্য করে নয়—এই কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভবত ইরানকে সরাসরি ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত না করে জোটকে বৈধতা দেওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে। এ ছাড়াও জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত সামুদ্রিক রীতিনীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে বিস্তারিত রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট—অর্থাৎ কোন পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর নৌবাহিনী গুলি চালাতে পারবে, কার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হবে, কোন দেশ কতটা সৈন্য বা জাহাজ পাঠাবে—এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সৌদি কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন, জোটের চার্টার ও কার্যকরী কাঠামো এখনো চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় আছে।
তবে এই অস্পষ্টতা গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ, কেননা এই অস্পষ্টতার ফলে জোটের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অতীতেও একই অঞ্চলে একাধিক আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা কাঠামো (যেমন ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম সিকিউরিটি কনস্ট্রাক্ট বা ইইউ-এর অ্যাসপিডিস মিশন) সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও হুতি হামলা পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। ফলে নতুন এই জোট কতটা বাস্তব নিরাপত্তা দিতে পারবে, নাকি মূলত একটি রাজনৈতিক-কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই থেকে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে।
কেন ইউএই ও ওমান এই জোটে যোগ দিল না
লক্ষণীয় বিষয় হলো, একই অঞ্চলের এবং একই নিরাপত্তা-স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এই জোটে সই করেনি। এই দুটি দেশের চিন্তাভাবনার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি কাজ করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ওমানের ক্ষেত্রে এটি একটি দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থানের ধারাবাহিকতা। কাতার অবরোধ (২০১৭-২০২১), ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট, কিংবা ২০১৬ সালে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সময়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ওমান নিরপেক্ষ থেকেছে এবং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। মাস্কাট নিজেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের ‘শেষ নিরপেক্ষ কূটনৈতিক করিডর’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়—যুক্তরাষ্ট্র-ইরান গোপন আলোচনার সময়ও ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে ওমানি ভূখণ্ডে ইরানি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও সুলতান হাইথাম বিন তারিক জোটে যোগ দেননি। কারণ তেহরানের সঙ্গে একমাত্র টিকে থাকা সংলাপের পথ হিসেবে এই ভূমিকা তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কাতার ও কুয়েতও একই ধরনের ‘স্ট্র্যাটেজিক হেজিং’ নীতি অনুসরণ করে থাকে—সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখা। প্রকাশ্যে ইরানবিরোধী কোনো সামরিক জোটে নাম লেখালে ভবিষ্যতে ইরানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে তাদের ধারণা।
বাংলাদেশের ভূমিকা কী হওয়া উচিত
জোটের রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায়, বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত সামরিক দায়বদ্ধতা কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিলে, বাস্তবসম্মত ভূমিকা সম্ভবত হবে মূলত কূটনৈতিক ও প্রতীকী সমর্থন। সীমিত পরিসরে নৌ-সহযোগিতা (যেমন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বা টহল জাহাজে অংশগ্রহণ) এবং প্রয়োজনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অভিজ্ঞতার আদলে সীমিত লজিস্টিক সহায়তা।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতির সম্ভাবনা
বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সীমিত এবং মূলত কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ—উভয় দেশের মধ্যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক নির্ভরতা নেই। ফলে ‘বাব-এল-মান্দেব’ জোটে যোগ দেওয়ার কারণে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কের অবনতি হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। জোটটি নিজেকে ‘কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়’ বলে দাবি করলেও, বাস্তবে এটি হুতি ও পরোক্ষভাবে ইরান-সংশ্লিষ্ট হুমকি মোকাবিলার জন্যই গঠিত বলে ধারণা করা হয়। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বাড়লে বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক নমনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গার্মেন্টস রপ্তানি ও জাহাজ নিরাপত্তায় প্রভাব
লোহিত সাগরের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের বাণিজ্যে ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। হুতি হামলার ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হচ্ছে—প্রতিটি জাহাজকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার বাড়তি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগছে। এর ফলে প্রতি কনটেইনারে (২০ ফুট টিইইউ) ৭০০ থেকে দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তি মাশুল আরোপ হচ্ছে। যেহেতু বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৭০ শতাংশের বেশি যায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে, তাই এই বাড়তি খরচের চাপ মূলত পোশাক রপ্তানিকারকদের ওপরই পড়ছে। বিজিএমইএ নেতারা ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ক্রেতারা সময়মতো পণ্য পেতে ব্যয়বহুল বিমান পরিবহনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হতে পারেন, যা রপ্তানিকারকদের মুনাফা মার্জিন আরও সংকুচিত করবে।
নতুন এই জোট তাত্ত্বিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য বাস্তব সমাধান খুব দ্রুত আসার সম্ভাবনা কম। জোটের কার্যকর নৌ-টহল ব্যবস্থা গড়ে উঠতে সময় লাগবে, এবং তত দিন পর্যন্ত কেপ রুট ব্যবহার বা বাড়তি বিমা প্রিমিয়াম বহন করাই বাস্তবতা থেকে যাবে।
‘বাব-এল-মান্দেব’ জোটে যোগ না দিলে সৌদি বিনিয়োগে কী প্রভাব পড়তে পারত
সম্প্রতি বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক একটি ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের পাঠানো একটি চিঠি হস্তান্তর করেন, যাতে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং যুবরাজ নিজেও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যদি এই জোটের বাইরে থাকত, তাহলে সদ্য-চাঙা সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হতে পারত।
বাস্তব ঝুঁকিগুলোর মধ্যে থাকতে পারত—সৌদি শ্রমবাজারে নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ভিসা-প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি (বর্তমানে যা এমনিতেই একটি উদ্বেগের বিষয়), অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে পরিকল্পিত সৌদি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রকল্পে ধীরগতি, এবং সামগ্রিকভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রাজনৈতিক উষ্ণতা কমে যাওয়া। যদিও এসবের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত শর্ত নয়, কূটনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের বৃহৎ আঞ্চলিক উদ্যোগে অনুপস্থিত থাকা প্রায়ই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথে পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।
বাব-এল-মান্দেব জোটের ভবিষ্যৎ
এই জোটের ভবিষ্যৎ এখনো বেশ কয়েকটি অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, চার্টার ও কার্যকরী কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয়। তৃতীয়ত, উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি—ইউএই ও ওমান—জোটের বাইরে থাকায় এর আঞ্চলিক ঐক্যবদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়—সংঘাত প্রশমিত হলে জোটের প্রাসঙ্গিকতা কমে যেতে পারে; আর তা আরও বিস্তৃত হলে এই জোটের সদস্য দেশগুলোর জন্য প্রকৃত সামরিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে চলে আসবে।
রেমিট্যান্স-নির্ভরতা, প্রবাসী কর্মসংস্থান এবং ক্রমবর্ধমান সৌদি বিনিয়োগ-সম্পর্কের বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে, স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য এই জোটে যোগ দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসংগত একটি সিদ্ধান্ত বলা যায়—বিশেষ করে যেহেতু জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাঠামো হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, সরাসরি যুদ্ধ-সম্পৃক্ততা নয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণ ‘ঝুঁকিমুক্ত’ সিদ্ধান্ত বলা যাবে না। জোটের প্রকৃত রুলস অব এঙ্গেজমেন্ট, বাংলাদেশের ভূমিকার প্রকৃত সীমা, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তার পরিণতি—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো খোলা।
অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই বাংলাদেশের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ—নিছক ‘যোগ দেওয়া ঠিক না ভুল’—এই দ্বি-বিভাজনের চেয়ে এই প্রশ্নটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
.png)

সিঙ্গাপুরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর মডেল হিসেবে ধরা হয়। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইউয়ের সময়ে এই ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, যা ২০২৬ সালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে এসে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপ পেয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
মোবাইল ফোনের কয়েকটি ক্লিকে হাজার টাকার ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থাকে আমরা যত সহজ মনে করি, এর পেছনের গল্পটা তত সহজ নয়। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ন্যানো লোনের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও এখন অনেক মানুষ ছোট অঙ্কের ঋণ পাচ্ছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
ইন্টারনেট আধিপত্যের এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য, কুৎসা, ঘৃণা বাক্য, চরিত্রহনন, গুজব, ভুয়া খবর, ডিপ ফেক, চিপ ফেক কনটেন্ট প্রকাশ করে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট, চাকুরি এবং রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস নতুন কিছু নয়। এমনকি ব্যক্তিগত তথ্য (অডিও, ভিডিও, ছবি) প্রকাশ করে একজন নাগরিককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ারও উদ
২০ ঘণ্টা আগে
বাজারে যাওয়া মানুষ মাত্রই জানেন, দাম কেবল সংখ্যা নয়; সংসারের খরচের হিসাব। নিত্যপণ্যের দাম যখন সপ্তাহে সপ্তাহে বদলায়, তখন সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন সীমিত আয়ের মানুষ। বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি চার-পাঁচ বছর ধরে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে আছে।
২১ ঘণ্টা আগে