জোরদার হোক ডেঙ্গু মোকাবিলা কার্যক্রম

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ১৩
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

হাম পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে এসেছে, বলা যাবে না। বড়রাও এতে আক্রান্ত হচ্ছে বলে মাঝে খবর হয়েছিল স্ট্রিমে। হামে আক্রান্ত বড়দেরও কম ভোগান্তি হচ্ছে না। এতে শিশুমৃত্যু নিয়ন্ত্রণে না থাকায় নতুন সরকারও কম বিব্রত নয়। দেশের মানুষেরও হচ্ছে দুর্ভাগ্যজনক অভিজ্ঞতা। হামে আক্রান্তদের জন্য পরিবারগুলোর অর্থ ব্যয়ও কম নয়। এ অবস্থায় আবার ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। জুলাইয়ে সংক্রমণ লাফিয়ে বেড়েছে; সঙ্গে মৃত্যু। চলতি আগস্টে পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃষ্টিবাদল বাড়ার সঙ্গে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। আড়াই দশক ধরে ডেঙ্গু ঘুরে ঘুরে এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়টি সবাইকে বিশেষ উৎকণ্ঠায় ফেলেছে। এর বড় কারণ সমস্যাটি শহরাঞ্চল থেকে দেশময় ছড়িয়ে পড়া। একটা সময় পর্যন্ত এটিকে শহরাঞ্চলের অবস্থাপন্ন পরিবারগুলোর ব্যাধি মনে করা হতো। সে কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হয়তো দৃষ্টিও দেওয়া হয়েছে কম। এতে আক্রান্তদের চিকিৎসায় অভ্যস্ত হতেও চিকিৎসকদের সময় লেগেছে। তারা দক্ষ হয়ে উঠতে উঠতে রোগটি ছড়িয়েছে সারা দেশে। গ্রহণযোগ্য টিকার অনুপস্থিতি এবং এর চারটি ধরন সক্রিয় থাকায় ডেঙ্গু মোকাবিলা কোনো দেশের পক্ষেই সহজ নয়। বাংলাদেশের পক্ষে স্বভাবতই আরও কঠিন। বর্ষাকাল এলেই সারা দেশের মানুষ উৎকণ্ঠায় পড়ে ডেঙ্গু নিয়ে। বর্ষাকাল দীর্ঘ বলে উৎকণ্ঠাও দীর্ঘদিন জারি থাকে। এ বছর নাকি অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে।

ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সমস্যাটি বাড়ার প্রধানতম কারণ। দেশময় ডেঙ্গু ছড়ানোয় এ বিষয়ে জনসচেতনতার গুরুত্বও অনেক বেড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় অস্থিরতা চলতে থাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, এটা ধরেই নেওয়া যায়। এ অবস্থায় বিশেষত এডিস মশার উৎপত্তিস্থল পরিষ্কার রাখতে জনসচেতনতা বাড়লে না হয় কথা ছিল। জুলাইয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেক বেড়ে যাওয়ায় মনে হচ্ছে, সামনে পরিস্থিতি হয়তো আরও খারাপ হবে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞ মত নিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারকে তার পদক্ষেপ করে তুলতে হবে জোরালো। এটা সম্ভবত হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের আরেকটি পরীক্ষা।

দেশময় ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুর ধরন, বিশেষত লক্ষণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে; যাতে রোগীর পাশাপাশি বিভ্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসকরাও। রোগ ব্যবস্থাপনায় এটা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত। সব বয়সী মানুষ প্রায় সমান হারে এতে আক্রান্ত হওয়ায় বেড়েছে চিকিৎসার চাপও। হালে নিয়মিত লক্ষণ হাজির থাকা সত্ত্বেও রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু নেগেটিভ আসার প্রবণতা বেশি করে পরিলক্ষিত। রোগ নির্ণয়ে সীমাবদ্ধতাও বেড়েছে কি না, কে জানে। এ অবস্থায় লক্ষণ দেখে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এটা অনেকটা করোনাভাইরাস মোকাবিলার মতো। হামেও লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসায় জোর দেওয়া হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসা, খাবার ও পরিচর্যা দেওয়া গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি খুবই কম হলেও কোনো কোনো বছর অনেককেই করুণভাবে মারা যেতে দেখা যায় বলে ডেঙ্গু নিয়ে উৎকণ্ঠা কমছে না।

আমরা আশা করব, স্থানীয় সরকার ও জনস্বাস্থ্য বিভাগ এডিস মশার উৎপাত কমানো এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় তাদের কার্যক্রম জোরদার করবে। ঘরে ঘরেও বাড়তে হবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হওয়া বিষয়ক সতর্কতা। এ জন্য কী কী করতে হবে, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। ঘরে বসে কীভাবে সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা নিয়ে ডেঙ্গু সামলানো যায়, সেগুলোও স্পষ্ট করতে হবে। এতে চাপ কমবে চিকিৎসক ও হাসপাতালের ওপর। হাসপাতালে আসা রোগীদের ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ এতে বাড়বে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত