ড. মো. শামছুল আলম

বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত ‘The 100 Most Influential People of 2026’ শীর্ষক তালিকায় বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ প্রভাবশালী নেতাদের পাশেই রয়েছে তাঁর নাম। ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধ লিখেছেন সিঙ্গাপুর ব্যুরো প্রধান ও সম্পাদক চার্লি ক্যাম্পবেল, যেখানে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব, নেতৃত্বের ধরন এবং আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
বলা বাহুল্য, বিশ্ব রাজনীতির ভাষা অনেক সময় সরাসরি কূটনৈতিক বিবৃতিতে নয়, বরং প্রতীকী স্বীকৃতি ও বয়ানের মধ্য দিয়েও প্রকাশিত হয়। বিশ্বরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এইসব স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের এমন একটি তালিকায় তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি শুধু যে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি তা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশ যে নতুনভাবে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে উঠে আসছে, এই স্বীকৃতি তারই একটি প্রতিফলন।
বলা যায়, অল্প সময়ের মধ্যেই তারেক রহমান নিজেকে একটি আস্থাভাজন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন অতিক্রম করে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এই উত্থানকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রত্যাশা ও জনমতের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে, তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিয়োগ তাঁর ব্যক্তিজীবনে গভীর শোকের জন্ম দেয়। তবে সেই শোককে তিনি ব্যক্তিগত সীমায় আবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক ভাষ্যে এটি এক ধরনের নৈতিক অবস্থান তৈরি করে, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা জাতীয় দায়িত্ববোধের সঙ্গে মিশে যায়।
তারেক রহমানের ঘোষিত লক্ষ্য হলো বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা এবং প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশকে একটি অভিন্ন উন্নয়নধারায় এগিয়ে নেওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যও তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যুব বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
এছাড়া, আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনও বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনর্গঠন এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও সামাজিক অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার কথা তিনি বারবার তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিশেষ করে ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
‘টাইম ম্যাগাজিনে’র এই প্রতিবেদন কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা জরুরি। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বিশ্বের মোট আট বিলিয়ন মানুষের মধ্য থেকে মাত্র ১০০ জনকে এই তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবার ‘লিডারস্’ ক্যাটেগরিতে স্থান পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন ব্যক্তি। এই স্বীকৃতিকে বোঝার জন্য ‘ইনফ্লুয়েন্স বা প্রভাব’ শব্দটির রাজনৈতিক অর্থ বিশ্লেষণ করা জরুরি।
‘টাইম ম্যাগাজিনে’র তালিকায় অন্তর্ভুক্তি সাধারণত কেবল ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত নয়, বরং যাঁরা রাজনৈতিক ধারাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম কিংবা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাঁদেরই গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি একটি বিশেষ ইঙ্গিত বহন করে, তা হলো—বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নটি এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রেও অবস্থান করছে।
আবার, এটি বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের পুনরুল্লেখও। দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একদিকে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সমুদ্রসম্পদ, অন্যদিকে আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক রুট ইত্যাদি মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন কৌশলগতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র তাতে সন্দেহ নেই।
এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে টাইমের মতো বিশ্ববিখ্যাত ম্যাগাজিন যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বৈশ্বিক প্রভাবের আলোচনায় নিয়ে আসে, তখন সেটি পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানকেও সামনে নিয়ে আসে।
একইভাবে, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অনেক সময় দেশের রাজনৈতিক বয়ানকে প্রভাবিত করে। এই উপস্থাপনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
আবার একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, নির্বাচনি গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নগুলোকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে আসতে পারে। অর্থাৎ, একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককেও নতুনভাবে সাজাতে পারে।
পাশাপাশি, মিডিয়া ও ন্যারেটিভ পলিটিক্সের দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক বিশ্বে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি বয়ানের লড়াইও। কে, কীভাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উপস্থাপিত হচ্ছে, কোন ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে তা রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি এই অর্থে একটি ন্যারেটিভ নির্মাণের অংশ, যেখানে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
শত প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও তারেক রহমান পিছিয়ে যাননি। পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে রাজনৈতিক সংগ্রামকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর আশাবাদী বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। আগের দেড় দশকের কোণঠাসা গণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। কেবল নেতৃত্বই নয়, বরং মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছেন। যেসব মানুষ নিজেদের বঞ্চিত, নিপীড়িত কিংবা প্রান্তিক মনে করতেন, তাঁদের জন্য তিনি একটি প্রতিনিধিত্বশীল কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন।
‘টাইম ম্যাগাজিনে’র এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এটি জাতির আবেগ, আশা ও প্রত্যাশার গভীর প্রতিফলন। একইসঙ্গে, এটি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, আগামীর বিশ্বরাজনীতির টেবিলে তারেক রহমানের উপস্থিতি বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
লেখক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন

বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত ‘The 100 Most Influential People of 2026’ শীর্ষক তালিকায় বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ প্রভাবশালী নেতাদের পাশেই রয়েছে তাঁর নাম। ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধ লিখেছেন সিঙ্গাপুর ব্যুরো প্রধান ও সম্পাদক চার্লি ক্যাম্পবেল, যেখানে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব, নেতৃত্বের ধরন এবং আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
বলা বাহুল্য, বিশ্ব রাজনীতির ভাষা অনেক সময় সরাসরি কূটনৈতিক বিবৃতিতে নয়, বরং প্রতীকী স্বীকৃতি ও বয়ানের মধ্য দিয়েও প্রকাশিত হয়। বিশ্বরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এইসব স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের এমন একটি তালিকায় তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি শুধু যে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি তা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশ যে নতুনভাবে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে উঠে আসছে, এই স্বীকৃতি তারই একটি প্রতিফলন।
বলা যায়, অল্প সময়ের মধ্যেই তারেক রহমান নিজেকে একটি আস্থাভাজন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন অতিক্রম করে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এই উত্থানকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রত্যাশা ও জনমতের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে, তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিয়োগ তাঁর ব্যক্তিজীবনে গভীর শোকের জন্ম দেয়। তবে সেই শোককে তিনি ব্যক্তিগত সীমায় আবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক ভাষ্যে এটি এক ধরনের নৈতিক অবস্থান তৈরি করে, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা জাতীয় দায়িত্ববোধের সঙ্গে মিশে যায়।
তারেক রহমানের ঘোষিত লক্ষ্য হলো বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা এবং প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশকে একটি অভিন্ন উন্নয়নধারায় এগিয়ে নেওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যও তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যুব বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
এছাড়া, আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনও বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনর্গঠন এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও সামাজিক অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার কথা তিনি বারবার তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিশেষ করে ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
‘টাইম ম্যাগাজিনে’র এই প্রতিবেদন কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝা জরুরি। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বিশ্বের মোট আট বিলিয়ন মানুষের মধ্য থেকে মাত্র ১০০ জনকে এই তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবার ‘লিডারস্’ ক্যাটেগরিতে স্থান পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন ব্যক্তি। এই স্বীকৃতিকে বোঝার জন্য ‘ইনফ্লুয়েন্স বা প্রভাব’ শব্দটির রাজনৈতিক অর্থ বিশ্লেষণ করা জরুরি।
‘টাইম ম্যাগাজিনে’র তালিকায় অন্তর্ভুক্তি সাধারণত কেবল ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত নয়, বরং যাঁরা রাজনৈতিক ধারাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম কিংবা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাঁদেরই গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি একটি বিশেষ ইঙ্গিত বহন করে, তা হলো—বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নটি এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রেও অবস্থান করছে।
আবার, এটি বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের পুনরুল্লেখও। দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একদিকে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সমুদ্রসম্পদ, অন্যদিকে আঞ্চলিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক রুট ইত্যাদি মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন কৌশলগতভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র তাতে সন্দেহ নেই।
এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে টাইমের মতো বিশ্ববিখ্যাত ম্যাগাজিন যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বৈশ্বিক প্রভাবের আলোচনায় নিয়ে আসে, তখন সেটি পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানকেও সামনে নিয়ে আসে।
একইভাবে, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অনেক সময় দেশের রাজনৈতিক বয়ানকে প্রভাবিত করে। এই উপস্থাপনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
আবার একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, নির্বাচনি গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নগুলোকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে আসতে পারে। অর্থাৎ, একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককেও নতুনভাবে সাজাতে পারে।
পাশাপাশি, মিডিয়া ও ন্যারেটিভ পলিটিক্সের দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক বিশ্বে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি বয়ানের লড়াইও। কে, কীভাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উপস্থাপিত হচ্ছে, কোন ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে তা রাজনৈতিক প্রভাব নির্ধারণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি এই অর্থে একটি ন্যারেটিভ নির্মাণের অংশ, যেখানে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
শত প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও তারেক রহমান পিছিয়ে যাননি। পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে রাজনৈতিক সংগ্রামকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর আশাবাদী বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। আগের দেড় দশকের কোণঠাসা গণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। কেবল নেতৃত্বই নয়, বরং মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তিতে রূপান্তর করার চেষ্টা করেছেন। যেসব মানুষ নিজেদের বঞ্চিত, নিপীড়িত কিংবা প্রান্তিক মনে করতেন, তাঁদের জন্য তিনি একটি প্রতিনিধিত্বশীল কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন।
‘টাইম ম্যাগাজিনে’র এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এটি জাতির আবেগ, আশা ও প্রত্যাশার গভীর প্রতিফলন। একইসঙ্গে, এটি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, আগামীর বিশ্বরাজনীতির টেবিলে তারেক রহমানের উপস্থিতি বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
লেখক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি কেবল জ্বালানি তেল বা ধর্মীয় আবেগের বৃত্তে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৈশ্বিক শক্তির মহড়া ও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের এক জটিল দাবার বোর্ডে পরিণত হয়েছে।
৪২ মিনিট আগে
যেহেতু গণভোটে ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জনগণ সম্মতি দিয়েছে; সেহেতু জনগণের সম্মতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতে এসআইআরের প্রথম পরীক্ষাগার বিহার। সেখানে নারী, আদিবাসী, দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর কোপ পড়েছে। এমনকি সেখান থেকেই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিদ্বেষ এসে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের ডিজিটাল মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়া মিথ্যা প্রচার করে সত্যটাকে ঢেকে রেখেছিল।
১ দিন আগে
বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি কৌশলগত জলপথ—হরমুজ ও বাব-আল-মান্দেব—এখন বারুদঠাসা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের ৪০ দিন পর দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শেষে ওয়াশিংটন কোনো চুক্তি ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে একক নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
১ দিন আগে