স্ট্রিম সম্পাদকীয়
আকস্মিক প্রলয়ঙ্করী বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নেপালের অনেক জনপদ, বহু স্থাপনা। সংলগ্ন চীন সীমান্তেও ধস নেমেছে। এ সম্পাদকীয় লেখার সময় পর্যন্ত নিহত দেড় শতাধিক মানুষ। নিখোঁজ প্রায় তেরো শতাধিক, যাদের মধ্যে সাত শতাধিক বিদেশি পর্যটক। বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ ও সড়ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন। প্রতিবেশি দেশ নেপালের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতিতে আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।
এই দুর্যোগ মনে করিয়ে দেয়, হিমালয়-বেষ্টিত অঞ্চলটি কতটা বিপজ্জনক ভূপ্রকৃতির ওপর দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। তিনটি বৃহৎ নদীপ্রবাহ এই দেশের ওপর দিয়ে গেছে। উজানের ঢল, ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানি মিলিয়ে প্রতিবছর দেশের বড় অংশ প্লাবিত হয়। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায় দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তলিয়ে গিয়েছিল। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের আইলা উপকূলীয় জেলাগুলোয় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যাতে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়েও প্রাণহানি বিপুল। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ৩২০ কোটি ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ। বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে।
ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—তিন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। ঊনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুতে আসাম ও সিলেট অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যা ভূতাত্ত্বিকদের কাছে এখনো সতর্কবার্তা। এ অবস্থায়ও ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ভবন ও স্থাপনা নির্মাণে বিধিমালা মানা হয় কমই। ঘনবসতিও ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকার মতো শহরে ক্ষয়ক্ষতি কল্পনাতীত হতে পারে। নেপালে আকস্মিক বন্যার সঙ্গে ভূকম্পনের যোগসূত্র থাকার ধারণা করা হচ্ছে। দুর্যোগগুলো পরস্পর সম্পর্কিত—এই বাস্তবতা উপেক্ষার তো সুযোগ নেই।
জলবায়ু পরিবর্তন এই ঝুঁকিগুলো আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার ও নদীভাঙন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ এ কারণেও শহরমুখী। হিমালয়ের হিমবাহ গলনে উজানের দেশগুলোয় যে হঠাৎ বন্যা দেখা দিচ্ছে, তারও ধকল সইতে হয় নিম্নাঞ্চলীয় বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত নদীর ভাটির দেশ। উজানে যা ঘটে, তার প্রভাব দেরিতে হলেও এখানে এসে পড়ে। নেপালে সংঘটিত দুর্ঘটনা তাই কেবল প্রতিবেশীর দুর্ভাগ্য নয়; আমাদের জন্যও সতর্কবার্তা।
করণীয় স্পষ্ট। প্রথমত, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সংস্কার জরুরি। দ্বিতীয়ত, নদী অববাহিকাভিত্তিক পূর্বাভাস বিনিময় ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, বিশেষত ভারত ও নেপালের সঙ্গে। তথ্য বিনিময়ে বিলম্ব মানেই জীবনহানির ঝুঁকি। তৃতীয়ত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে; যাতে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প—তিন ধরনের দুর্যোগেই একীভূত প্রতিক্রিয়া সম্ভব হয়। চতুর্থত, স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে, বিশেষত শহরাঞ্চলে, যেখানে ভূমিকম্প সচেতনতা নগণ্য। পঞ্চমত, উদ্ধার ও ত্রাণ সরঞ্জামের মজুত বাড়াতে হবে, যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশ্নটি অনস্বীকার্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একই নদী, অভিন্ন পাহাড়ি বলয় ও একই জলবায়ু ঝুঁকির অংশীদার। নেপাল, ভুটান, ভারত, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বাস্তব সময়ের তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণ ঝরবে। সার্ক বা বিমসটেকের মতো মঞ্চে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা প্রয়োজন। যৌথ মহড়া, উপগ্রহ তথ্য বিনিময় ও উদ্ধারকারী দলের প্রশিক্ষণ ভাগাভাগি করলে সবারই লাভ। বিচ্ছিন্নভাবে প্রস্তুতি নিলে সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়।

আকস্মিক প্রলয়ঙ্করী বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নেপালের অনেক জনপদ, বহু স্থাপনা। সংলগ্ন চীন সীমান্তেও ধস নেমেছে। এ সম্পাদকীয় লেখার সময় পর্যন্ত নিহত দেড় শতাধিক মানুষ। নিখোঁজ প্রায় তেরো শতাধিক, যাদের মধ্যে সাত শতাধিক বিদেশি পর্যটক। বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ ও সড়ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন। প্রতিবেশি দেশ নেপালের এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতিতে আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।
এই দুর্যোগ মনে করিয়ে দেয়, হিমালয়-বেষ্টিত অঞ্চলটি কতটা বিপজ্জনক ভূপ্রকৃতির ওপর দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। তিনটি বৃহৎ নদীপ্রবাহ এই দেশের ওপর দিয়ে গেছে। উজানের ঢল, ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানি মিলিয়ে প্রতিবছর দেশের বড় অংশ প্লাবিত হয়। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায় দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তলিয়ে গিয়েছিল। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের আইলা উপকূলীয় জেলাগুলোয় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যাতে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়েও প্রাণহানি বিপুল। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ৩২০ কোটি ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ। বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে।
ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—তিন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। ঊনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুতে আসাম ও সিলেট অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যা ভূতাত্ত্বিকদের কাছে এখনো সতর্কবার্তা। এ অবস্থায়ও ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে ভবন ও স্থাপনা নির্মাণে বিধিমালা মানা হয় কমই। ঘনবসতিও ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকার মতো শহরে ক্ষয়ক্ষতি কল্পনাতীত হতে পারে। নেপালে আকস্মিক বন্যার সঙ্গে ভূকম্পনের যোগসূত্র থাকার ধারণা করা হচ্ছে। দুর্যোগগুলো পরস্পর সম্পর্কিত—এই বাস্তবতা উপেক্ষার তো সুযোগ নেই।
জলবায়ু পরিবর্তন এই ঝুঁকিগুলো আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার ও নদীভাঙন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ এ কারণেও শহরমুখী। হিমালয়ের হিমবাহ গলনে উজানের দেশগুলোয় যে হঠাৎ বন্যা দেখা দিচ্ছে, তারও ধকল সইতে হয় নিম্নাঞ্চলীয় বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত নদীর ভাটির দেশ। উজানে যা ঘটে, তার প্রভাব দেরিতে হলেও এখানে এসে পড়ে। নেপালে সংঘটিত দুর্ঘটনা তাই কেবল প্রতিবেশীর দুর্ভাগ্য নয়; আমাদের জন্যও সতর্কবার্তা।
করণীয় স্পষ্ট। প্রথমত, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সংস্কার জরুরি। দ্বিতীয়ত, নদী অববাহিকাভিত্তিক পূর্বাভাস বিনিময় ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, বিশেষত ভারত ও নেপালের সঙ্গে। তথ্য বিনিময়ে বিলম্ব মানেই জীবনহানির ঝুঁকি। তৃতীয়ত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে; যাতে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প—তিন ধরনের দুর্যোগেই একীভূত প্রতিক্রিয়া সম্ভব হয়। চতুর্থত, স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে, বিশেষত শহরাঞ্চলে, যেখানে ভূমিকম্প সচেতনতা নগণ্য। পঞ্চমত, উদ্ধার ও ত্রাণ সরঞ্জামের মজুত বাড়াতে হবে, যাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশ্নটি অনস্বীকার্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একই নদী, অভিন্ন পাহাড়ি বলয় ও একই জলবায়ু ঝুঁকির অংশীদার। নেপাল, ভুটান, ভারত, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বাস্তব সময়ের তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণ ঝরবে। সার্ক বা বিমসটেকের মতো মঞ্চে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা প্রয়োজন। যৌথ মহড়া, উপগ্রহ তথ্য বিনিময় ও উদ্ধারকারী দলের প্রশিক্ষণ ভাগাভাগি করলে সবারই লাভ। বিচ্ছিন্নভাবে প্রস্তুতি নিলে সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়।
.png)

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার ফুলবাড়ীসহ অন্যান্য স্থানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের দিকে যাচ্ছে।
২৬ আগস্ট ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকট নয় বছরে পা দিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে বাংলাদেশে আসা তরুণের আজ সন্তান জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশের ক্যাম্পে। তাদের ভবিষ্যৎ কোথায়—এই প্রশ্ন এখন শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, বাংলাদেশেরও।
২৫ আগস্ট ২০২৬
রংপুর নগরীতে একটি পরিবারের সবাইকে একে একে হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে শিউরে উঠেছে মানুষ। লোমহর্ষক ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই তরুণকে দ্রুতই গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ যে বিবরণ দিয়েছে, তা নিয়ে পরিবারটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠরা সংশয় প্রকাশ করায় দাবি উঠেছে আরও নিবিড়ভাবে তদন্তের।
২৪ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতির খবর মিললেও তা টেকসই হচ্ছে না মূলত দুই কারণে। ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল কাজ শুরু করলেও পুরোদমে সরবরাহ করতে পারছে না। অপর টার্মিনালটিই ভরসা। আর চালু গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ কমার খবরই বেশি। গ্যাসের যে চাহিদা দেখানো হয়, তার তুলনায়ও সরবরাহ ছিল অনেক কম। এর মধ্যে মাত্র দু
২৩ আগস্ট ২০২৬