স্ট্রিম সম্পাদকীয়
রংপুর নগরীতে একটি পরিবারের সবাইকে একে একে হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে শিউরে উঠেছে মানুষ।
লোমহর্ষক ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই তরুণকে দ্রুতই গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ যে বিবরণ দিয়েছে, তা নিয়ে পরিবারটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠরা সংশয় প্রকাশ করায় দাবি উঠেছে আরও নিবিড়ভাবে তদন্তের।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে কিছু লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার হয়েছে। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল বলেও মনে করা হচ্ছে।
‘ইয়াবা’ সেবনে বাধা দেওয়া থেকেই একে একে চারজনকে হত্যা করা হয় বলে এখন পর্যন্ত ধারণা পুলিশের। মারাত্মক ধরনের মাদক সেবনকারীরা বেপরোয়া অবস্থায় এমনটি ঘটাতে পারে বলে অনেকে বিশ্বাস করবেন। ইতোপূর্বে এসব মাদকাসক্তের হাতে হত্যাকাণ্ড তো কম ঘটেনি।
ইয়াবার মতো কিছু মাদক মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে দেয় বলে তাদের পক্ষে অনেক কিছুই সম্ভব। রংপুরে নিহত পরিবারটির ওপর এর আগে চাঁদা দাবির কথাও কেউ কেউ জানাচ্ছেন। এলাকার লোকজনই নাকি এতে জড়িত।
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই তরুণও প্রতিবেশি। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিভাবকরাও দুই তরুণের মাদক গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের ধারণা, চারজনকে একে একে হত্যার মতো ঘটনায় হয়তো আরও কেউ জড়িত।
পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনায় উঠে আসা সব সন্দেহজনক দিক খতিয়ে দেখে মানুষকে আশ্বস্ত করা। একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবার এমন নৃশংসতার শিকার হওয়ায় সেটা নিয়ে প্রতিবেশি দেশ থেকেও এক ধরনের অতি উৎসাহী প্রচার চালানো হচ্ছে। সেই কারণেও রংপুর নগরীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পরিপূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
গণঅভ্যুত্থানে ভেঙে পড়া পুলিশ এখনো তার অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। মনোবলও ফিরে আসেনি বলে অনেকের মত। তাই বলে এ ধরনের ঘটনার তদন্তে তাদের ব্যর্থ হওয়ার কারণ নেই। লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচারের দাবি উঠে থাকে। রংপুরের ঘটনায় সেটা করা হবে বলেই আমরা ধরে নিচ্ছি। তবে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত বিচার হওয়াটাই যথেষ্ট নয়।
ইয়াবার মতো মাদকের বিস্তার আমাদের তরুণদের একাংশকে কোন জগতে নিয়ে গেছে, সেটা উপলব্ধি করে এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
গ্রাম অবধি বিচিত্র ধরনের মাদকের সহজপ্রাপ্যতা আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। সমাজে অভিভাবকদের কর্তৃত্ব বিনষ্ট হওয়া, তরুণদের লেখাপড়ায় অনাগ্রহ, বেকারত্ব, হতাশা তাদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়িয়ে তুলছে বৈকি। প্রচলিত ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে এখান থেকে উদ্ধার মিলবে বলে মনে হয় না। তবে মাদক ব্যবসার গোড়ায় হাত দেওয়া গেলে এর সহজপ্রাপ্যতা অন্তত কমানো যাবে।
মাদকাসক্তির কারণে নিজ নিজ পরিবারেও অনেকে অশান্তির কারণ হচ্ছে। ঘটছে পরিবারের মধ্যে সহিংসতা। মাদকাসক্তি থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসার হারও খুব কম। সেজন্য মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতা কমানো গেলেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হবে।
রাজনৈতিক অপরাধের পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক অপরাধ বাড়ার কারণেও খুন-খারাবি বাড়ছে। নারী, কিশোরী, শিশুর প্রতি সহিংসতাও মানুষকে বিমূঢ় করে দিচ্ছে।
রংপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ যা-ই হোক, সেটা সামনে এনে বিচার নিশ্চিত করা দরকার। এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির প্রবণতা একটি সমাজের স্বস্তি ও স্থিতির ওপর ভয়াবহ আঘাত। অপরাধ বিজ্ঞানীদেরও দায়িত্ব রয়েছে এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নতুন কী করার রয়েছে, তা তুলে ধরার।

রংপুর নগরীতে একটি পরিবারের সবাইকে একে একে হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে শিউরে উঠেছে মানুষ।
লোমহর্ষক ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুই তরুণকে দ্রুতই গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ যে বিবরণ দিয়েছে, তা নিয়ে পরিবারটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠরা সংশয় প্রকাশ করায় দাবি উঠেছে আরও নিবিড়ভাবে তদন্তের।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে কিছু লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার হয়েছে। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল বলেও মনে করা হচ্ছে।
‘ইয়াবা’ সেবনে বাধা দেওয়া থেকেই একে একে চারজনকে হত্যা করা হয় বলে এখন পর্যন্ত ধারণা পুলিশের। মারাত্মক ধরনের মাদক সেবনকারীরা বেপরোয়া অবস্থায় এমনটি ঘটাতে পারে বলে অনেকে বিশ্বাস করবেন। ইতোপূর্বে এসব মাদকাসক্তের হাতে হত্যাকাণ্ড তো কম ঘটেনি।
ইয়াবার মতো কিছু মাদক মানুষকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে দেয় বলে তাদের পক্ষে অনেক কিছুই সম্ভব। রংপুরে নিহত পরিবারটির ওপর এর আগে চাঁদা দাবির কথাও কেউ কেউ জানাচ্ছেন। এলাকার লোকজনই নাকি এতে জড়িত।
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই তরুণও প্রতিবেশি। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিভাবকরাও দুই তরুণের মাদক গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের ধারণা, চারজনকে একে একে হত্যার মতো ঘটনায় হয়তো আরও কেউ জড়িত।
পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনায় উঠে আসা সব সন্দেহজনক দিক খতিয়ে দেখে মানুষকে আশ্বস্ত করা। একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবার এমন নৃশংসতার শিকার হওয়ায় সেটা নিয়ে প্রতিবেশি দেশ থেকেও এক ধরনের অতি উৎসাহী প্রচার চালানো হচ্ছে। সেই কারণেও রংপুর নগরীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পরিপূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
গণঅভ্যুত্থানে ভেঙে পড়া পুলিশ এখনো তার অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। মনোবলও ফিরে আসেনি বলে অনেকের মত। তাই বলে এ ধরনের ঘটনার তদন্তে তাদের ব্যর্থ হওয়ার কারণ নেই। লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচারের দাবি উঠে থাকে। রংপুরের ঘটনায় সেটা করা হবে বলেই আমরা ধরে নিচ্ছি। তবে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত বিচার হওয়াটাই যথেষ্ট নয়।
ইয়াবার মতো মাদকের বিস্তার আমাদের তরুণদের একাংশকে কোন জগতে নিয়ে গেছে, সেটা উপলব্ধি করে এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
গ্রাম অবধি বিচিত্র ধরনের মাদকের সহজপ্রাপ্যতা আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। সমাজে অভিভাবকদের কর্তৃত্ব বিনষ্ট হওয়া, তরুণদের লেখাপড়ায় অনাগ্রহ, বেকারত্ব, হতাশা তাদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়িয়ে তুলছে বৈকি। প্রচলিত ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে এখান থেকে উদ্ধার মিলবে বলে মনে হয় না। তবে মাদক ব্যবসার গোড়ায় হাত দেওয়া গেলে এর সহজপ্রাপ্যতা অন্তত কমানো যাবে।
মাদকাসক্তির কারণে নিজ নিজ পরিবারেও অনেকে অশান্তির কারণ হচ্ছে। ঘটছে পরিবারের মধ্যে সহিংসতা। মাদকাসক্তি থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসার হারও খুব কম। সেজন্য মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতা কমানো গেলেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হবে।
রাজনৈতিক অপরাধের পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক অপরাধ বাড়ার কারণেও খুন-খারাবি বাড়ছে। নারী, কিশোরী, শিশুর প্রতি সহিংসতাও মানুষকে বিমূঢ় করে দিচ্ছে।
রংপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ যা-ই হোক, সেটা সামনে এনে বিচার নিশ্চিত করা দরকার। এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির প্রবণতা একটি সমাজের স্বস্তি ও স্থিতির ওপর ভয়াবহ আঘাত। অপরাধ বিজ্ঞানীদেরও দায়িত্ব রয়েছে এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নতুন কী করার রয়েছে, তা তুলে ধরার।
.png)

গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতির খবর মিললেও তা টেকসই হচ্ছে না মূলত দুই কারণে। ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল কাজ শুরু করলেও পুরোদমে সরবরাহ করতে পারছে না। অপর টার্মিনালটিই ভরসা। আর চালু গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ কমার খবরই বেশি। গ্যাসের যে চাহিদা দেখানো হয়, তার তুলনায়ও সরবরাহ ছিল অনেক কম। এর মধ্যে মাত্র দু
২৩ আগস্ট ২০২৬
নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছয়জন যুক্ত হওয়ার ঘটনাও সবার নজর কাড়বে। বলা হচ্ছিল, সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল আনা হবে। বড় রদবদল হয়েছে, তা অবশ্য বলা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে নতুন চারজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন।
২২ আগস্ট ২০২৬
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেতে যাচ্ছি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠনকারী বিএনপি থেকে মনোনয়ন লাভের পর তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়াটা অবশ্য ছিল সময়ের ব্যাপার। সেই পর্ব অতিক্রান্ত হয়েছে। অচিরেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে শপথ
২০ আগস্ট ২০২৬
সার বিতরণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মে জড়িয়ে আছে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ জোরালো। সরকার-নির্ধারিত মূল্যে জোগানোর কথা থাকলেও স্তরে স্তরে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক প্রায়ই বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর কথা বলেই সরকার নতুন সার বিতরণ নীতিমালা এনেছে।
১৯ আগস্ট ২০২৬