স্ট্রিম সম্পাদকীয়

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট হলো প্রতিহিংসার রাজনীতি। ক্ষমতার পালাবদলে প্রতিপক্ষকে দমন, নিগ্রহ এবং প্রতিশোধ গ্রহণের চক্র আমাদের রাজনীতিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ফলে এর থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তাও যেন ভুলে গেছি।
এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য—‘আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে’—রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রতিশোধের পথ পরিহার করার কথা বলেছেন। একে নিছক ব্যক্তিগত উক্তি হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ডাক হিসেবে কি দেখা সম্ভব?
আমাদের রাজনীতিতে ‘প্রতিহিংসা’ ব্যক্তিগত বা দলীয় ব্যাপার নয়। এটি পরিণত হয়েছে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে প্রতিপক্ষকে সমূলে বিনাশ করার প্রবণতা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিরপেক্ষ থাকতে দেয় না। ১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার গুরুত্বকে স্মরণ করেছেন।
তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা আহ্বানেই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, আদর্শিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের অভাব থাকলে অনেক সুন্দর উদ্যোগও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী সারা জীবন অহিংসার বাণী প্রচার করেও চরমপন্থার শিকার হয়েছিলেন। সেই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, হিংসার বিষবৃক্ষ একবার রোপিত হলে তা উপড়ে ফেলা কতটা কঠিন। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক মনোভাবকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে ব্যক্তিগত আবেগ নয়, আইনের শাসনই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।
এই রূপান্তরের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন রাষ্ট্রযন্ত্রের সব স্তরে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে তুলে না আনলে প্রধানমন্ত্রী যতই প্রতিশোধহীনতার কথা বলুন না কেন, মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন ঘটবে না। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যমের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ স্থাপনের যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তার জন্য প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ যেখানে সাংবাদিকরা ভয়ভীতিহীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়াকে যদি ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ মনে করা হয়, তবে প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলানো অসম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের মূল্যায়নের জন্য যে সহযোগিতা চেয়েছেন, তাকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি যদি গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান এবং মতপার্থক্যের জায়গাকে রাজনৈতিক শত্রুতার ঊর্ধ্বে রাখেন, তবে প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হতে পারে।
প্রতিহিংসার রাজনীতি বদলানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। এটি রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সচেতন নাগরিক সমাজেরও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘শত্রু’ না ভেবে ‘ভিন্নমত পোষণকারী’ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান যেন কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অংশ না হয়ে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত হয়। প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রকে আপামর মানুষের স্বস্তিদায়ক জীবন নিশ্চিত করবার পথে এগিয়ে নেওয়ার যাত্রায় প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও পারস্পরিক সহনশীলতা হোক আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট হলো প্রতিহিংসার রাজনীতি। ক্ষমতার পালাবদলে প্রতিপক্ষকে দমন, নিগ্রহ এবং প্রতিশোধ গ্রহণের চক্র আমাদের রাজনীতিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ফলে এর থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তাও যেন ভুলে গেছি।
এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য—‘আমাদের প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে’—রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রতিশোধের পথ পরিহার করার কথা বলেছেন। একে নিছক ব্যক্তিগত উক্তি হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ডাক হিসেবে কি দেখা সম্ভব?
আমাদের রাজনীতিতে ‘প্রতিহিংসা’ ব্যক্তিগত বা দলীয় ব্যাপার নয়। এটি পরিণত হয়েছে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে প্রতিপক্ষকে সমূলে বিনাশ করার প্রবণতা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিরপেক্ষ থাকতে দেয় না। ১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার গুরুত্বকে স্মরণ করেছেন।
তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা আহ্বানেই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, আদর্শিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের অভাব থাকলে অনেক সুন্দর উদ্যোগও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী সারা জীবন অহিংসার বাণী প্রচার করেও চরমপন্থার শিকার হয়েছিলেন। সেই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, হিংসার বিষবৃক্ষ একবার রোপিত হলে তা উপড়ে ফেলা কতটা কঠিন। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক মনোভাবকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে ব্যক্তিগত আবেগ নয়, আইনের শাসনই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।
এই রূপান্তরের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন রাষ্ট্রযন্ত্রের সব স্তরে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে তুলে না আনলে প্রধানমন্ত্রী যতই প্রতিশোধহীনতার কথা বলুন না কেন, মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন ঘটবে না। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যমের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ স্থাপনের যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তার জন্য প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ যেখানে সাংবাদিকরা ভয়ভীতিহীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন। সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়াকে যদি ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ মনে করা হয়, তবে প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলানো অসম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর কাজের মূল্যায়নের জন্য যে সহযোগিতা চেয়েছেন, তাকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি যদি গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান এবং মতপার্থক্যের জায়গাকে রাজনৈতিক শত্রুতার ঊর্ধ্বে রাখেন, তবে প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হতে পারে।
প্রতিহিংসার রাজনীতি বদলানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। এটি রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সচেতন নাগরিক সমাজেরও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘শত্রু’ না ভেবে ‘ভিন্নমত পোষণকারী’ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান যেন কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অংশ না হয়ে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত হয়। প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রকে আপামর মানুষের স্বস্তিদায়ক জীবন নিশ্চিত করবার পথে এগিয়ে নেওয়ার যাত্রায় প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও পারস্পরিক সহনশীলতা হোক আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি।

এটা এখন অনেকেরই জানা, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ ঘিরে দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ও সফল ব্যাংকটিতে চলমান সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
৩ ঘণ্টা আগে
একসময় মানুষ বিশ্বাস করত, ঈশ্বর সব দেখেন। এখন মানুষ জানে, গুগলও দেখে। পার্থক্য হলো, ঈশ্বর অন্তত আমাদের সার্চ হিস্ট্রি দিয়ে বিজ্ঞাপন বানাতেন না। স্কট গ্যালওয়ের ‘গুগল ইজ গড’ মন্তব্যটি তাই নিছক প্রযুক্তিপ্রেমী রসিকতা নয়। এটি আমাদের সময়ের এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সত্য।
৩ ঘণ্টা আগে
আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে বাস করছি, যখন মানহানি আলোর গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। একসময় কারও সুনাম নষ্ট করতে হলে সংবাদপত্র, সম্পাদক, যাচাই-বাছাই এবং সময়ের প্রয়োজন হতো। আজ একটি টুইট, একটি বিকৃত স্ক্রিনশট, একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ক্লিপ কিংবা একটি বেপরোয়া অভিযোগই যথেষ্ট।
৬ ঘণ্টা আগে
গ্রাম এখন আর সেই শান্ত, নির্ভার জায়গা নয়; বরং নানা সামাজিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট হলো মাদক—একটি নীরব, কিন্তু দ্রুত বিস্তারমান মহামারী, যা গ্রামীণ সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষয় করছে।
৭ ঘণ্টা আগে