স্ট্রিম সম্পাদকীয়
ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনায় কেউ অবাক হবেন না। তাঁর নামই বেশি আলোচিত হচ্ছিল। এর আগেই অবশ্য জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি ওই জোটভুক্ত দল এলডিপির নেতা। দু’জন প্রার্থী সামনে আসায় ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে।
দেশে যখন রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা ছিল, তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। সেটাই স্বাভাবিক; কেননা তখন তিনি হতেন সরকারের প্রধান নির্বাহী। নব্বইয়ের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের পর গণতন্ত্রে উত্তরণ হলে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসার বিধান যুক্ত হয় সংবিধানে। এ অবস্থায় সরকারের কেন্দ্রে আসেন প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতি হয়ে পড়েন অনেকটা আলংকারিক। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া তাঁর পক্ষে এককভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি কাজ করবেন, এটাই বিধান। প্রধানমন্ত্রী চাইলে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ গ্রহণপূর্বক সিদ্ধান্ত নেবেন, এটাও স্বাভাবিক বলে বিবেচিত।
আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি পদত্যাগ করার পর স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগও করেছেন স্পিকারের কাছে। বলা যায়, মেয়াদের আগেই সেটা করতে হয়েছে তাঁকে। সরকারের আস্থায় না থাকলে কারও পক্ষেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা সম্ভব নয়। এটাও ঠিক, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতি সম্ভাব্য সব প্রশ্নে সহায়তা জুগিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারকে। সেই সরকারও বিদায় নিয়েছে সফলভাবে নির্বাচন আয়োজন করে। এতে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে সরকার গঠনকারী দল তাদের পছন্দসই রাষ্ট্রপতি বেছে নেবে, সেটাই স্বাভাবিক। বিএনপির পরীক্ষিত নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ারই সূত্রপাত হলো। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক ভোটের অপেক্ষায় থাকবে সবাই। বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়া না হলে অবশ্য ভোটের প্রয়োজন হতো না। সব ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকা এবং তাদের মধ্যে ভোট হওয়াটাই কাম্য। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশে এটা প্রয়োজন।
দীর্ঘ সংস্কার আলোচনা শেষে গৃহীত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী অবশ্য ভিন্নভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল, সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এবং উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়া হবে। নির্বাচনের পর সেই কার্যক্রম গৃহীত হয়নি বলে প্রচলিত নিয়মেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সংসদে অবশ্য সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দল এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সেখানে নতুন করে কিছু মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি হওয়ার কথা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার উদ্যোগ থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। বিএনপির পূর্বঘোষিত ৩১ দফায়ও এ ধরনের প্রস্তাব ছিল। জাতীয় নির্বাচনকালে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, সেটা সুস্পষ্ট করার বিষয়ও রয়েছে। আমরা আশা করব, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উল্লিখিত দিকগুলো খতিয়ে দেখে গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করার স্বার্থে যা কিছু প্রয়োজন, সেটাও করা হবে।
ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনায় কেউ অবাক হবেন না। তাঁর নামই বেশি আলোচিত হচ্ছিল। এর আগেই অবশ্য জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি ওই জোটভুক্ত দল এলডিপির নেতা। দু’জন প্রার্থী সামনে আসায় ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে।
দেশে যখন রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা ছিল, তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। সেটাই স্বাভাবিক; কেননা তখন তিনি হতেন সরকারের প্রধান নির্বাহী। নব্বইয়ের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের পর গণতন্ত্রে উত্তরণ হলে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসার বিধান যুক্ত হয় সংবিধানে। এ অবস্থায় সরকারের কেন্দ্রে আসেন প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতি হয়ে পড়েন অনেকটা আলংকারিক। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া তাঁর পক্ষে এককভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি কাজ করবেন, এটাই বিধান। প্রধানমন্ত্রী চাইলে রাষ্ট্রপতির পরামর্শ গ্রহণপূর্বক সিদ্ধান্ত নেবেন, এটাও স্বাভাবিক বলে বিবেচিত।
আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি পদত্যাগ করার পর স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগও করেছেন স্পিকারের কাছে। বলা যায়, মেয়াদের আগেই সেটা করতে হয়েছে তাঁকে। সরকারের আস্থায় না থাকলে কারও পক্ষেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা সম্ভব নয়। এটাও ঠিক, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতি সম্ভাব্য সব প্রশ্নে সহায়তা জুগিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারকে। সেই সরকারও বিদায় নিয়েছে সফলভাবে নির্বাচন আয়োজন করে। এতে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে সরকার গঠনকারী দল তাদের পছন্দসই রাষ্ট্রপতি বেছে নেবে, সেটাই স্বাভাবিক। বিএনপির পরীক্ষিত নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ারই সূত্রপাত হলো। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক ভোটের অপেক্ষায় থাকবে সবাই। বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়া না হলে অবশ্য ভোটের প্রয়োজন হতো না। সব ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকা এবং তাদের মধ্যে ভোট হওয়াটাই কাম্য। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশে এটা প্রয়োজন।
দীর্ঘ সংস্কার আলোচনা শেষে গৃহীত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী অবশ্য ভিন্নভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল, সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এবং উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়া হবে। নির্বাচনের পর সেই কার্যক্রম গৃহীত হয়নি বলে প্রচলিত নিয়মেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সংসদে অবশ্য সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দল এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সেখানে নতুন করে কিছু মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি হওয়ার কথা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার উদ্যোগ থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। বিএনপির পূর্বঘোষিত ৩১ দফায়ও এ ধরনের প্রস্তাব ছিল। জাতীয় নির্বাচনকালে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, সেটা সুস্পষ্ট করার বিষয়ও রয়েছে। আমরা আশা করব, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উল্লিখিত দিকগুলো খতিয়ে দেখে গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করার স্বার্থে যা কিছু প্রয়োজন, সেটাও করা হবে।
.png)

ময়মনসিংহের ত্রিশালের একটি বালুমহাল। সেখানকার অস্থায়ী টিনের কার্যালয়ে বসে কাজ করছিলেন ইজারাদারের এক কর্মচারী। হঠাৎ সেখানে দলবল নিয়ে প্রবেশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন আকস্মিক প্রবেশে কিছুটা ভড়কে যান ওই কর্মচারী।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কৃষির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গত কয়েক দশকে আমাদের কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। উন্নত জাতের ফসল, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও প্রযুক্তির ব্যবহার এই সাফল্যের পেছনের মূল কারণ।
৪ ঘণ্টা আগেগ্যাস সংকট কাটতে শুরু করেও কাটছে না আর তাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত। এ বিষয়ে সেমিনারে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও যারা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের শিকার, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এর মোকাবিলা নিয়েই চিন্তিত। এ ক্ষেত্রে বিকল্পের শরণাপন্ন হতে গিয়ে রান্নাঘর থেকে শিল্পকারখানা পর্যন্ত ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
১২ আগস্ট ২০২৬
১২ আগস্ট ২০১৯, সোমবার। এদেশের মানুষ তথা ইছাপুর-কুসুমপুরবাসীর জন্য শোকাবহ দিন। এদিন আমরা হারিয়েছি এক মহান ব্যক্তিত্বকে। প্রখ্যাত লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও সাবেক মন্ত্রী আমাদের প্রিয় শেলী দাদা এই দিনে আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
১২ আগস্ট ২০২৬