স্ট্রিম সম্পাদকীয়

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সরকারের প্রথম বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ বলে বর্ণনা করলেও এর বাস্তবায়ন যে কঠিন, সেটা অনস্বীকার্য। জনজীবনে স্বস্তি আনতে তিনি বাজেটের কিছু কর প্রস্তাবে সংশোধনীর পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব পরিবর্তন এনেই বাজেট পাসের ব্যবস্থা হবে, সন্দেহ নেই।
বাজেট অধিবেশনের শেষে এমন সংশোধনীর রীতি অবশ্য নতুন নয়। এতে ‘অজনপ্রিয়’ কর প্রস্তাবে কিছু সংশোধনী এনে সরকার স্পর্শকাতরতা দেখিয়ে থাকে। জনসাধারণও থাকে এর অপেক্ষায়। চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর দাবি মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী দুই অর্থবছরের প্রক্ষেপণও তুলে ধরা হয়েছে। আয়কর বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে অবশ্য বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আমাদের যেতে হবে ভ্যাটের মতো করের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে আয়করের হিস্যা বাড়ানোর দিকে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত এবং গণঅভ্যুত্থানের পর পুণরায় সামনে আসা সামাজিক বৈষম্য হ্রাসের দাবি পূরণে এটি ভূমিকা রাখার কথা।
প্রধানমন্ত্রী একটি আধুনিক করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। সেটি করা গেলে করদাতাদের হয়রানি কমে কর আহরণ বাড়বে বলেই সংশ্লিষ্টদের অনুমান। কর-জিডিপি অনুপাতের যে দশায় আমরা আছি, তা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর আইএমএফও জোর দিয়ে যাচ্ছে। সে লক্ষ্য অর্জনে এনবিআর সংস্কারের দাবির বিষয়ে হালে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক বক্তব্য রেখেছেন। আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্যই কেবল বিষয়টি সামনে আনা হয়নি বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাইব। এনবিআরের নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগ পৃথকীকরণের প্রশ্নটি কিন্তু জাতীয় দাবিতেও পরিণত।
ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) ভীতির দিকটি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ব্যাংক হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটাকে আপাতত বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। ব্যাংক খাত থেকেও ওই প্রস্তাবের বিষয়ে এমন আপত্তি এসেছিল যে, তাহলে হিসাব খোলাই হয়তো কমে যাবে। খাতটি এমনিতেই রয়েছে তারল্য সংকটে। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের আস্থা বরং বাড়ানো দরকার। সে লক্ষ্যে খাতটির সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। এর নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমেও বাড়াতে হবে জনআস্থা। আগামী অর্থবছরে বিপুল ব্যাংকঋণ নিতে হবে সরকারকে। সে কারণেও এই খাতে নগদ অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা চাই।
খুদে দোকানি ও প্রতিষ্ঠানের বিক্রির ওপর করারোপের চেষ্টাও আপাতত অনুচিত বলে মনে করা হচ্ছে। এর চাপ ভোক্তাসাধারণের ওপরই গিয়ে পড়বে। প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায়ও কিছু ক্ষেত্রে কর কর্তন বা প্রত্যাহারের নির্দেশনা দিয়েছেন। বাজেট সাধারণভাবে ‘ব্যবসাবান্ধব’ হয়েছে বলেই অভিমত জানিয়েছিলেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা এখন আরও স্বস্তি বোধ করবেন। নতুন সরকার এমনকি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদি নীতিকৌশল নিতে সচেষ্ট রয়েছে, এটা ইতিবাচক। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কোনো বিকল্প এখন নেই। নতুন সরকার বন্ধ কলকারখানা চালুরও উদ্যোগ নিয়েছে। চালু থাকা প্রতিষ্ঠান সচল রাখাটা নিশ্চয় আরও জরুরি। কিছু সুপরিচিত বিজনেস হাউজ সংকটে পড়ার খবরে অর্থনীতি নিয়েই উদ্বেগ বেড়েছে। এতে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিপদ আরও। শুধু প্রবাসী আয় রিজার্ভ চাঙ্গা রাখা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এগুলো সম্পন্ন করা গেলে সংশ্লিষ্ট কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা। তাতে প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। তবে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সতর্কভাবে এগোনো জরুরি। আমরা দেখতে চাইব এডিপিভুক্ত অপরাপর প্রকল্পেরও মানসম্মত বাস্তবায়ন। বিনিয়োগ ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য জরুরি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টিও যেন থাকে।

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সরকারের প্রথম বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ বলে বর্ণনা করলেও এর বাস্তবায়ন যে কঠিন, সেটা অনস্বীকার্য। জনজীবনে স্বস্তি আনতে তিনি বাজেটের কিছু কর প্রস্তাবে সংশোধনীর পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব পরিবর্তন এনেই বাজেট পাসের ব্যবস্থা হবে, সন্দেহ নেই।
বাজেট অধিবেশনের শেষে এমন সংশোধনীর রীতি অবশ্য নতুন নয়। এতে ‘অজনপ্রিয়’ কর প্রস্তাবে কিছু সংশোধনী এনে সরকার স্পর্শকাতরতা দেখিয়ে থাকে। জনসাধারণও থাকে এর অপেক্ষায়। চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর দাবি মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী দুই অর্থবছরের প্রক্ষেপণও তুলে ধরা হয়েছে। আয়কর বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে অবশ্য বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আমাদের যেতে হবে ভ্যাটের মতো করের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে আয়করের হিস্যা বাড়ানোর দিকে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত এবং গণঅভ্যুত্থানের পর পুণরায় সামনে আসা সামাজিক বৈষম্য হ্রাসের দাবি পূরণে এটি ভূমিকা রাখার কথা।
প্রধানমন্ত্রী একটি আধুনিক করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। সেটি করা গেলে করদাতাদের হয়রানি কমে কর আহরণ বাড়বে বলেই সংশ্লিষ্টদের অনুমান। কর-জিডিপি অনুপাতের যে দশায় আমরা আছি, তা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর আইএমএফও জোর দিয়ে যাচ্ছে। সে লক্ষ্য অর্জনে এনবিআর সংস্কারের দাবির বিষয়ে হালে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক বক্তব্য রেখেছেন। আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্যই কেবল বিষয়টি সামনে আনা হয়নি বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাইব। এনবিআরের নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগ পৃথকীকরণের প্রশ্নটি কিন্তু জাতীয় দাবিতেও পরিণত।
ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) ভীতির দিকটি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ব্যাংক হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটাকে আপাতত বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। ব্যাংক খাত থেকেও ওই প্রস্তাবের বিষয়ে এমন আপত্তি এসেছিল যে, তাহলে হিসাব খোলাই হয়তো কমে যাবে। খাতটি এমনিতেই রয়েছে তারল্য সংকটে। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের আস্থা বরং বাড়ানো দরকার। সে লক্ষ্যে খাতটির সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। এর নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমেও বাড়াতে হবে জনআস্থা। আগামী অর্থবছরে বিপুল ব্যাংকঋণ নিতে হবে সরকারকে। সে কারণেও এই খাতে নগদ অর্থের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা চাই।
খুদে দোকানি ও প্রতিষ্ঠানের বিক্রির ওপর করারোপের চেষ্টাও আপাতত অনুচিত বলে মনে করা হচ্ছে। এর চাপ ভোক্তাসাধারণের ওপরই গিয়ে পড়বে। প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায়ও কিছু ক্ষেত্রে কর কর্তন বা প্রত্যাহারের নির্দেশনা দিয়েছেন। বাজেট সাধারণভাবে ‘ব্যবসাবান্ধব’ হয়েছে বলেই অভিমত জানিয়েছিলেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা এখন আরও স্বস্তি বোধ করবেন। নতুন সরকার এমনকি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদি নীতিকৌশল নিতে সচেষ্ট রয়েছে, এটা ইতিবাচক। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কোনো বিকল্প এখন নেই। নতুন সরকার বন্ধ কলকারখানা চালুরও উদ্যোগ নিয়েছে। চালু থাকা প্রতিষ্ঠান সচল রাখাটা নিশ্চয় আরও জরুরি। কিছু সুপরিচিত বিজনেস হাউজ সংকটে পড়ার খবরে অর্থনীতি নিয়েই উদ্বেগ বেড়েছে। এতে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিপদ আরও। শুধু প্রবাসী আয় রিজার্ভ চাঙ্গা রাখা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এগুলো সম্পন্ন করা গেলে সংশ্লিষ্ট কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা। তাতে প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। তবে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সতর্কভাবে এগোনো জরুরি। আমরা দেখতে চাইব এডিপিভুক্ত অপরাপর প্রকল্পেরও মানসম্মত বাস্তবায়ন। বিনিয়োগ ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য জরুরি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টিও যেন থাকে।
.png)

জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির রূপান্তর এখন বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে। বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটছে। কিন্তু এই রূপান্তরের আলোচনায় একটি মৌলিক প্রশ্ন প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়—এই রূপান্তর কতটা ন্যায্য, এবং এর সুফল শেষ পর্যন্ত কারা ভোগ করবে?
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক আন্দোলনে নাগরিকের নিহত হওয়া ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে। এমনটা ঘটলে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। জুলাই অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ আর মুগ্ধর নিহত হওয়ার ঘটনাও আন্দোলনের গতিপথ বদলে দিয়ে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামিয়ে এনেছিল।
২ ঘণ্টা আগে
যদি রাজনীতি সত্যিই নীতির রাজা হয়, তবে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হবে সত্য, ন্যায়, জবাবদিহি ও জনকল্যাণ। আর যদি রাজনীতি রাজার নীতিতে পরিণত হয়, তবে ক্ষমতাই হয়ে উঠবে একমাত্র সত্য।
৬ ঘণ্টা আগে
এম হুমায়ুন কবীর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। ছিলেন কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনার। সেপ্টেম্বর-২০১০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজেস ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি। বাংলাদেশের সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক কৌশল, বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কূটনী
৮ ঘণ্টা আগে