সম্পাদকীয়
স্ট্রিম ডেস্ক

পশু কোরবানি এবার কিছুটা কম হলেও দেশজুড়ে কম চামড়া উৎপন্ন হয়নি। তবে শেষতক কী পরিমাণ চামড়া হাতে আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেল।
সরকার গতবারের চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও কোথাও সেই দামে বেচাকেনা হচ্ছে না। কোরবানিদাতারা উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় এর হকদার জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একশ্রেণির মাদ্রাসা, এতিমখানাও ক্ষতিগ্রস্ত। আর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যথারীতি তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার। তাদের কাছ থেকে চামড়া কেনায় কম আগ্রহী দেখা গেছে আড়তদারদের।
ট্যানারি মালিকরা অবশ্য জানেন, চামড়া শেষতক তাদের কাছেই আসবে। সরকার-নির্ধারিত দাম না দেওয়ার পক্ষে যুক্তিও রয়েছে আড়তদার আর ট্যানারদের। লবণযুক্ত, মানসম্মত চামড়া পেলে তারা নাকি উপযুক্ত দাম দিতে প্রস্তুত। চামড়া প্রক্রিয়াকরণে খরচ অনেক বেড়েছে বলেও দাবি তাদের।
চামড়া খাতে অর্থ সংকটের খবরও পুরনো। এজন্য ব্যাংক, ট্যানার ও আড়তদাররা দায়ী করছে পরস্পরকে। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দেওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। অথচ এক যুগ আগেও ঈদে চামড়া সংগৃহীত হতো উচ্চমূল্যে। এজন্য পরিবেশবান্ধব চামড়া খাত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতাকেই বেশি দায়ী করা হচ্ছে। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ড অনুযায়ী সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান চামড়া প্রক্রিয়াকরণে ব্যর্থ বলে তারা ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে ভালো দামে রপ্তানি করতে পারছে না। এমনকি আগেকার চাইতে কম দামে আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানিতেই থাকতে হচ্ছে সন্তুষ্ট। এদিকে আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত গুটিকয় প্রতিষ্ঠানকে উল্টো চামড়া আমদানি করে পণ্য বানাতে হচ্ছে– পশ্চিমা ক্রেতাদের শর্ত মেনে। তাতে এর বিরাট ও ক্রমবর্ধমান বাজারে মিলছে নামমাত্র হিস্যা; যদিও কাঁচা চামড়ার অব্যাহত জোগান আছে দেশের ভেতর থেকেই।
সাভারে স্থানান্তরের পরও সেখানে উপযুক্ত চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলা যায়নি কেন, তার কারণ অবশ্য বহুল আলোচিত। এ অবস্থায় প্রতিবারই সরকার ঈদুল আজহার আগে কিছু পদক্ষেপ নিলেও তাতে সমন্বয়হীনতাই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। একযোগে বিপুল চামড়া সংগৃহীত হলে এর রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বচ্ছ বেচাকেনা নিশ্চিত করা অবশ্য কঠিন। তবে কাজটি অসম্ভব নয়। চামড়া খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত পক্ষগুলোর সঙ্গে বসে এখন পরিস্থিতিটা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব নিতে হবে নতুন সরকারকে। পশ্চিমা ক্রেতাদের পছন্দমতো চামড়া খাত গড়ে তোলার আগ পর্যন্ত প্রতি ঈদের বাজারে যেন একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য চাই এর নির্মোহ পর্যালোচনা। চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সহজ করাটাও জরুরি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের একাংশ নাকি নিজ উদ্যোগে পরিবেশসম্মত চামড়া প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। জনবহুল দেশে চামড়াজাত পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও তো ক্রমবর্ধমান। ভৈরবসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের কর্মযজ্ঞও চলছে বটে।
এ অবস্থায় পশু কোরবানি থেকে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চামড়া ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নষ্ট করে ফেললে সেটা কেবল তাদের লোকসান নয়; বরং জাতীয় ক্ষতি। আগামী ঈদের আগে এর পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। অবনতি অবশ্য এতটাই ঘটেছে যে, দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর আন্তরিক প্রয়াসটি যেন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

পশু কোরবানি এবার কিছুটা কম হলেও দেশজুড়ে কম চামড়া উৎপন্ন হয়নি। তবে শেষতক কী পরিমাণ চামড়া হাতে আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেল।
সরকার গতবারের চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও কোথাও সেই দামে বেচাকেনা হচ্ছে না। কোরবানিদাতারা উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় এর হকদার জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একশ্রেণির মাদ্রাসা, এতিমখানাও ক্ষতিগ্রস্ত। আর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যথারীতি তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার। তাদের কাছ থেকে চামড়া কেনায় কম আগ্রহী দেখা গেছে আড়তদারদের।
ট্যানারি মালিকরা অবশ্য জানেন, চামড়া শেষতক তাদের কাছেই আসবে। সরকার-নির্ধারিত দাম না দেওয়ার পক্ষে যুক্তিও রয়েছে আড়তদার আর ট্যানারদের। লবণযুক্ত, মানসম্মত চামড়া পেলে তারা নাকি উপযুক্ত দাম দিতে প্রস্তুত। চামড়া প্রক্রিয়াকরণে খরচ অনেক বেড়েছে বলেও দাবি তাদের।
চামড়া খাতে অর্থ সংকটের খবরও পুরনো। এজন্য ব্যাংক, ট্যানার ও আড়তদাররা দায়ী করছে পরস্পরকে। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দেওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। অথচ এক যুগ আগেও ঈদে চামড়া সংগৃহীত হতো উচ্চমূল্যে। এজন্য পরিবেশবান্ধব চামড়া খাত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যর্থতাকেই বেশি দায়ী করা হচ্ছে। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ড অনুযায়ী সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান চামড়া প্রক্রিয়াকরণে ব্যর্থ বলে তারা ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে ভালো দামে রপ্তানি করতে পারছে না। এমনকি আগেকার চাইতে কম দামে আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানিতেই থাকতে হচ্ছে সন্তুষ্ট। এদিকে আন্তর্জাতিক সনদপ্রাপ্ত গুটিকয় প্রতিষ্ঠানকে উল্টো চামড়া আমদানি করে পণ্য বানাতে হচ্ছে– পশ্চিমা ক্রেতাদের শর্ত মেনে। তাতে এর বিরাট ও ক্রমবর্ধমান বাজারে মিলছে নামমাত্র হিস্যা; যদিও কাঁচা চামড়ার অব্যাহত জোগান আছে দেশের ভেতর থেকেই।
সাভারে স্থানান্তরের পরও সেখানে উপযুক্ত চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলা যায়নি কেন, তার কারণ অবশ্য বহুল আলোচিত। এ অবস্থায় প্রতিবারই সরকার ঈদুল আজহার আগে কিছু পদক্ষেপ নিলেও তাতে সমন্বয়হীনতাই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। একযোগে বিপুল চামড়া সংগৃহীত হলে এর রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বচ্ছ বেচাকেনা নিশ্চিত করা অবশ্য কঠিন। তবে কাজটি অসম্ভব নয়। চামড়া খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত পক্ষগুলোর সঙ্গে বসে এখন পরিস্থিতিটা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব নিতে হবে নতুন সরকারকে। পশ্চিমা ক্রেতাদের পছন্দমতো চামড়া খাত গড়ে তোলার আগ পর্যন্ত প্রতি ঈদের বাজারে যেন একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য চাই এর নির্মোহ পর্যালোচনা। চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সহজ করাটাও জরুরি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের একাংশ নাকি নিজ উদ্যোগে পরিবেশসম্মত চামড়া প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। জনবহুল দেশে চামড়াজাত পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও তো ক্রমবর্ধমান। ভৈরবসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের কর্মযজ্ঞও চলছে বটে।
এ অবস্থায় পশু কোরবানি থেকে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চামড়া ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নষ্ট করে ফেললে সেটা কেবল তাদের লোকসান নয়; বরং জাতীয় ক্ষতি। আগামী ঈদের আগে এর পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। অবনতি অবশ্য এতটাই ঘটেছে যে, দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর আন্তরিক প্রয়াসটি যেন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, বাস্তুসংস্থান ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা দেশটির নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। দেশের প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণে নদীটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
১২ ঘণ্টা আগে
রেহান আসিফ আসাদ, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাদার। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আগে বুধবার (১০ জুন) স্ট্রিমের সঙ্গে আলাপে তিনি তুলে ধরেছেন সিম ট্যাক্স, স্টার্টআপ তহবিল, ডেটা সেন্টারসহ ডিজিটাল অবকাঠামো ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা।
১৫ ঘণ্টা আগে
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এই তথ্য জানাচ্ছে খোদ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
১৬ ঘণ্টা আগে
ঢালাওভাবে কর্মী না পাঠিয়ে, প্রথমে ৫০ বা ১০০ জন কর্মী পাঠিয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারা সেখানে নিরাপদে আছেন কি না এবং চুক্তিমতো কাজ পাচ্ছেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে আরও কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
১৮ ঘণ্টা আগে