পুশইন সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য

সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

কোনো দেশে অন্য দেশের নাগরিক বেআইনিভাবে প্রবেশ বা অননুমোদিতভাবে অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বৈকি। এটা ভারতের মতো বাংলাদেশের বেলায়ও সত্য। বাংলাদেশও কারও অনুপ্রবেশ কিংবা অননুমোদিত অবস্থান মেনে নেওয়ার কথা নয়। কিছু ভারতীয় নাগরিক এখানে অননুমোদিতভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে বলে দাবি উঠেছিল। বহু না হলেও কিছুসংখ্যকের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটলে অবাক হওয়া যাবে না। বাংলাদেশের কিছু কর্মজীবীও বৈধভাবে গিয়ে বিভিন্ন দেশে এক পর্যায়ে অবৈধ বলে বিবেচিত হয়। তাদের বিরুদ্ধে সেসব দেশের আইনে পদক্ষেপ নিতেও দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো কোনো দেশের প্রশাসন অবশ্য বেপরোয়া আচরণ করে থাকে।

বেপরোয়া আচরণের একটি হলো সীমান্তপথে মানুষকে ঠেলে পাঠানো বা ‘পুশইন’। অনুপ্রবেশকারী কিংবা অবৈধ অবস্থানকারী বলে প্রমাণ হলে কাউকে সীমান্তপথে হস্তান্তরকে কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই নেওয়া হয়। অপরাধ করে প্রতিবেশি দেশে আশ্রয় গ্রহণকারীকে চুক্তির আওতায় হস্তান্তরের রীতিও রয়েছে। কিন্তু নিজেরা খেয়ালখুশিমতো সিদ্ধান্ত নিয়ে একদল মানুষকে কোথাও জড়ো করে প্রতিবেশি দেশে ঠেলে দেওয়া কোনো গ্রহণযোগ্য পন্থা হতে পারে না। এটা কেবল সংশ্লিষ্টদের প্রতি অমানবিক আচরণ নয়; সীমান্তবর্তী দেশের প্রতি অসদাচরণও। এমনতরো আচরণ অব্যাহত রেখে নিজেকে সৎ প্রতিবেশি বলে দাবি করা অর্থহীন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত এই ধরনের আচরণ করছে বললে ভুল হবে না।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে ভারতীয় রক্ষীদের গুলিতে হতাহতের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। সীমান্তে অপরাধ নেই, এমনটি কেউ বলেনি। কিন্তু এর জবাব হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্যে গুলিবর্ষণ হতে পারে না। একইভাবে কিছু ‘বাংলাদেশি’ ভারতে অননুমোদিতভাবে অবস্থান করলে তাদের পুশইনই করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তথ্য-প্রমাণহীনভাবে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহতের অধিকার বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীদের রয়েছে। এটা তাদের দায়িত্বও। পুশইন বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে সেটা বেশি করে পালনের প্রত্যাশা। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়রাও পুশ ইন ঠেকাতে আসছে এগিয়ে। এ অবস্থায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতির গভীরতা উপলব্ধি করতে হবে। শ্রদ্ধাশীল হতে হবে কূটনৈতিক রীতি, আইন; এমনকি মানবাধিকারের প্রতি।

অভ্যন্তরীণ কোনো কারণে একদল মানুষকে তারা বিদেশি নাগরিক বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন, সেটা ভিন্ন বিষয়। এ নিয়ে সরকারিভাবে কিছু বলার নেই আমাদের। রীতিবহির্ভূতভাবে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সুযোগও নেই। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রবণতাটি বাড়তে দেখা যাচ্ছে বটে। তবে পুশইনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারই নিয়ে থাকে। সেখানেও বিজেপি ক্ষমতায়। সুতরাং এর দায় বিজেপি সরকারকেই নিতে হবে। জিজ্ঞাসিত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অবশ্য বলা হয়, এ বিষয়ে দু’দেশে যোগাযোগ রয়েছে এবং এ প্রক্রিয়াতেই হচ্ছে অভিযোগের নিষ্পত্তি। বাংলাদেশও প্রয়োজনে এই পথে এগোনোর কথাই বলে আসছে। আর সময় এসেছে গ্রহণযোগ্য এ প্রক্রিয়াটি জোরদারের। পুশইনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড প্রত্যাহারের। নইলে সুদীর্ঘ সীমান্তের দুই দেশে স্বাভাবিক সম্পর্কটুকুও বজায় না থাকার দায় নিতে হবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে। এটা কারও কাম্য হতে পারে ন।

সম্পর্কিত