স্ট্রিম সম্পাদকীয়

সাড়ে ছয় বছরে রাজধানীর সড়কগুলোতে ১ হাজার ৩৮৪ জনের প্রাণহানি এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হওয়ার খবরকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এই সংখ্যাগুলো রাষ্ট্রের কাছে যেন নিছক ‘পরিসংখ্যান’ হয়ে আছে। অথচ প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো পরিবারের কান্না, জীবনের অকাল সমাপ্তির করুণ কাহিনী।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রায় প্রতি মাসেই এসব ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরে। তারপরও কর্তৃপক্ষের হেলদোল নেই। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো নিহতদের পরিচয়। নিহতের প্রায় ৪৩ শতাংশই পথচারী এবং ৩৯ শতাংশ মোটরসাইকেল আরোহী—অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ নিহতই ছিলেন সড়কের সবচেয়ে দুর্বল ব্যবহারকারী। বাস বা অন্যান্য যানবাহনে যাঁরা চলেন, তাঁরা কিছুটা সুরক্ষিত। কিন্তু যিনি হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছেন অথবা মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যাচ্ছেন, তিনি বলা যায় পুরোপুরি অরক্ষিত। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে সড়ক ব্যবস্থাপনায় আমাদের ব্যর্থতা। ঢাকার অধিকাংশ সড়কে নিরাপদ পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নেই; ফুটপাত দখলমুক্ত নয়, ওভারব্রিজ আছে কিন্তু তার অবস্থান ও নকশা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে মানুষ অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন এবং পড়ছেন দুর্ঘটনায়।
দুর্ঘটনার সময় বিভাজন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উন্মোচন করে। নিহতের প্রায় সাড়ে সাঁইত্রিশ শতাংশ মারা গেছেন রাতে। রাত দশটার পর ঢাকার সড়কে মালবাহী যানবাহন বেপরোয়াভাবে ছোটে। তখন ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিও কম এবং রাস্তা ফাঁকা। কিন্তু রাত মানেই তো রাস্তাগুলো মানুষশূন্য নয়। রাতেও বহু মানুষ রাস্তা পার হন আর সেই সুযোগেই ঘটে বিপর্যয়। রাতে যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি চালু না হলে তাই ওই ধরনের দুর্ঘটনা থামবে না।
একটি বিষয় এখানে বিস্ময়কর। ঢাকার সড়কে বাসের গড় গতি ঘণ্টায় মাত্র ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার, পিক আওয়ারে যা নেমে আসে ৫ থেকে ৭ কিলোমিটারে। এটি হাঁটার গতির সামান্য বেশি। বুয়েটের গবেষণা বলছে, ২০০৭ সালে যেখানে গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, সেটি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। এত ধীরগতির শহরে এত মৃত্যু কীভাবে সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ যানজটে আটকে চালকরা অসহিষ্ণু হয়ে পড়েন এবং একটুখানি ফাঁকা পেলেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সিগন্যাল ছাড়ার পর কিংবা রাতের ফাঁকা সড়কে তাঁরা যেন ক্ষোভ ও অস্থিরতা ঝেড়ে ফেলতে চান হঠাৎ করে গতি বাড়িয়ে। আর তাতেই ঝরে পড়ে প্রাণ।
দুর্ঘটনার হট স্পট হিসেবে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল ও বিমানবন্দরের কথা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বারবার বলে আসছে। এই এলাকাগুলো কেন বারবার দুর্ঘটনার কেন্দ্র হয়ে উঠছে, তা বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হলে বহু মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব। বছরের পর বছর এই হট স্পটগুলোর নাম আলোচনায় আসে, কিন্তু দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
মহাসড়কে পথচারী নিহতের সংখ্যাও কম নয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, গত সাড়ে ছয় বছরে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১ হাজার ৪৮২ জন শিক্ষার্থী, যারা ছিল মূলত পথচারী।
সমাধানের পথ অজানা নয়। রুট র্যাশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, বিআরটিএ-ডিটিসিএ-ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর সমন্বয়, চালকের লাইসেন্স প্রদানে কঠোরতা এবং পথচারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ—এসব সুপারিশ বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন অনেক আগেই। কিন্তু এগুলোর বাস্তবায়নের চিত্রটি হতাশাজনক। সড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঠেকানোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা দুটোই জরুরি। এ কাজে আরও দেরি হলে পরিসংখ্যানের নিষ্ঠুর সংখ্যাগুলো বাড়তেই থাকবে।

সাড়ে ছয় বছরে রাজধানীর সড়কগুলোতে ১ হাজার ৩৮৪ জনের প্রাণহানি এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হওয়ার খবরকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে এই সংখ্যাগুলো রাষ্ট্রের কাছে যেন নিছক ‘পরিসংখ্যান’ হয়ে আছে। অথচ প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো পরিবারের কান্না, জীবনের অকাল সমাপ্তির করুণ কাহিনী।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রায় প্রতি মাসেই এসব ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরে। তারপরও কর্তৃপক্ষের হেলদোল নেই। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো নিহতদের পরিচয়। নিহতের প্রায় ৪৩ শতাংশই পথচারী এবং ৩৯ শতাংশ মোটরসাইকেল আরোহী—অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ নিহতই ছিলেন সড়কের সবচেয়ে দুর্বল ব্যবহারকারী। বাস বা অন্যান্য যানবাহনে যাঁরা চলেন, তাঁরা কিছুটা সুরক্ষিত। কিন্তু যিনি হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছেন অথবা মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যাচ্ছেন, তিনি বলা যায় পুরোপুরি অরক্ষিত। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে সড়ক ব্যবস্থাপনায় আমাদের ব্যর্থতা। ঢাকার অধিকাংশ সড়কে নিরাপদ পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নেই; ফুটপাত দখলমুক্ত নয়, ওভারব্রিজ আছে কিন্তু তার অবস্থান ও নকশা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে মানুষ অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন এবং পড়ছেন দুর্ঘটনায়।
দুর্ঘটনার সময় বিভাজন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উন্মোচন করে। নিহতের প্রায় সাড়ে সাঁইত্রিশ শতাংশ মারা গেছেন রাতে। রাত দশটার পর ঢাকার সড়কে মালবাহী যানবাহন বেপরোয়াভাবে ছোটে। তখন ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিও কম এবং রাস্তা ফাঁকা। কিন্তু রাত মানেই তো রাস্তাগুলো মানুষশূন্য নয়। রাতেও বহু মানুষ রাস্তা পার হন আর সেই সুযোগেই ঘটে বিপর্যয়। রাতে যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি চালু না হলে তাই ওই ধরনের দুর্ঘটনা থামবে না।
একটি বিষয় এখানে বিস্ময়কর। ঢাকার সড়কে বাসের গড় গতি ঘণ্টায় মাত্র ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার, পিক আওয়ারে যা নেমে আসে ৫ থেকে ৭ কিলোমিটারে। এটি হাঁটার গতির সামান্য বেশি। বুয়েটের গবেষণা বলছে, ২০০৭ সালে যেখানে গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, সেটি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। এত ধীরগতির শহরে এত মৃত্যু কীভাবে সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ যানজটে আটকে চালকরা অসহিষ্ণু হয়ে পড়েন এবং একটুখানি ফাঁকা পেলেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সিগন্যাল ছাড়ার পর কিংবা রাতের ফাঁকা সড়কে তাঁরা যেন ক্ষোভ ও অস্থিরতা ঝেড়ে ফেলতে চান হঠাৎ করে গতি বাড়িয়ে। আর তাতেই ঝরে পড়ে প্রাণ।
দুর্ঘটনার হট স্পট হিসেবে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল ও বিমানবন্দরের কথা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বারবার বলে আসছে। এই এলাকাগুলো কেন বারবার দুর্ঘটনার কেন্দ্র হয়ে উঠছে, তা বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হলে বহু মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব। বছরের পর বছর এই হট স্পটগুলোর নাম আলোচনায় আসে, কিন্তু দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
মহাসড়কে পথচারী নিহতের সংখ্যাও কম নয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, গত সাড়ে ছয় বছরে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১ হাজার ৪৮২ জন শিক্ষার্থী, যারা ছিল মূলত পথচারী।
সমাধানের পথ অজানা নয়। রুট র্যাশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, বিআরটিএ-ডিটিসিএ-ট্রাফিক পুলিশের কার্যকর সমন্বয়, চালকের লাইসেন্স প্রদানে কঠোরতা এবং পথচারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ—এসব সুপারিশ বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন অনেক আগেই। কিন্তু এগুলোর বাস্তবায়নের চিত্রটি হতাশাজনক। সড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঠেকানোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা দুটোই জরুরি। এ কাজে আরও দেরি হলে পরিসংখ্যানের নিষ্ঠুর সংখ্যাগুলো বাড়তেই থাকবে।
.png)

দারিদ্র্যের চাপে দীর্ঘ হচ্ছে টিসিবির লাইন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের এই সংবাদ শিরোনামের ঠিক ৫ মাস পরে গত ২৮ জুলাই আরেকটি শিরোনাম: রাজধানীতে টিসিবির লাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে দেয়াল ধসে দুজনের মৃত্যু। আরেকটি পত্রিকা বলছে: সংসারে সাশ্রয়ের চেষ্টা, শেষ হলো দেয়ালধসে মৃত্যুতে।
৩৬ মিনিট আগে
হালদা, কর্ণফুলী, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বংশী ও শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদীতে সাম্প্রতিক গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এসব তথ্য শুধু পরিবেশ দূষণের নয়; বরং খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতির জন্য এক গভীর সতর্কসংকেত।
৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনায় বহু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নাগরিক সেবার নানা ঘাটতি আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। সঙ্গে এটাও সত্য, ঢাকার মতো একটি দ্রুতবর্ধনশীল উন্নয়নশীল দেশের মহানগরী কেবল পশ্চিমা নগর মানদণ্ডে মূল্যায়ন করলে তার...
৫ ঘণ্টা আগে
চলমান গ্যাস সংকটে এলপিজির দাম বাড়ার খবর হতাশা আরও বাড়াবে। সাধারণত রান্নায় এই গ্যাস ব্যবহৃত। বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। গ্রামেও লাকড়ির বদলে এর ব্যবহার বৃদ্ধি লক্ষণীয়। মাঝে এলপিজির দাম অনেক বাড়ার পর দুই দফায় কমেছিল। যানবাহনেও এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। তাদের
২১ ঘণ্টা আগে