স্ট্রিম সম্পাদকীয়

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। কিন্তু আরও উদ্বেগের বিষয়, এই প্রাদুর্ভাব আমাদের বহুদিনের উপেক্ষিত এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে যখন ৮৯ শতাংশ পরিবার ঋণ নেয়, ৬১ শতাংশ পরিবার সঞ্চয় ভেঙে ফেলে তখন বোঝা যায়, রোগের চেয়ে বড় অসুখ আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভঙ্গুরতা ও সামাজিক সুরক্ষার দুর্বলতা।
সরকারি হাসপাতালে হামের চিকিৎসা বিনা মূল্যে—এ কথা আংশিক সত্য। চিকিৎসা শুধু হাসপাতালের বেড বা ওষুধে সীমাবদ্ধ নয়। রংপুরের একটি পরিবারকে যখন রোগী নিয়ে ঢাকায় আসতে হয়, তখন যোগ হয় যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সবচেয়ে বড় কথা, উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ক্ষতি। একজন দিনমজুর বা রিকশাচালকের কাছে হাসপাতালে কাটানো প্রতিটি দিন মানে একটি দিনের আয় হারানো। ফলে রোগ সারলেও পরিবার ডুবে যায় ঋণের ফাঁদে।
এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়। এ হলো দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুলের ফল। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনীতি ক্রমেই হাসপাতালনির্ভর হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মিত হলেও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা হাসপাতালকে এমন পর্যায়ে নেওয়া হয়নি, যেখানে সাধারণ সংক্রামক রোগের কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। ফলে গ্রামের মানুষ শহরে ছুটতে বাধ্য হয়। এর ফলে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়ে। আর দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ও বহু গুণ বেড়ে যায়।
হামের এই সংকট আরেকটি অস্বস্তিকর সত্য সামনে এনেছে। করোনার পর মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাবারে আপস করতে বাধ্য হয়েছে। অপুষ্টিতে ভুগছেন মা, অপুষ্টিতে বড় হচ্ছে শিশু। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে বহুদিন ধরে টিকাযোগ্য একটি রোগও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। অর্থাৎ শুধু টিকার ঘাটতি নয়, পুষ্টির ঘাটতিও এখন জনস্বাস্থ্যের বড় সংকট।
আরেকটি প্রশ্নও জরুরি। একটি অসুস্থ শিশুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে কেন একটি পরিবার সর্বস্বান্ত হবে? এর উত্তর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতায়। উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা দরিদ্র পরিবারের জন্য জরুরি নগদ সহায়তা, যাতায়াত ভর্তুকি, পুষ্টি সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও রুয়ান্ডার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সীমিত সম্পদ নিয়েও মানুষকে চিকিৎসার কারণে দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব। বাংলাদেশের জন্যও শিক্ষা স্পষ্ট—চিকিৎসা শুধু হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক সুরক্ষারও অংশ।
হামের প্রাদুর্ভাব এক দিন নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু এই সংকট থেকে রাষ্ট্র শিক্ষা না নিলে পরবর্তী মহামারিতে আবারও প্রান্তিক মানুষ শহরে ছুটবে, ঋণ নেবে, সঞ্চয় ভাঙবে, সম্পদ বিক্রি করবে।
একটি সভ্য রাষ্ট্রের সাফল্য শুধু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ দিয়ে বিচার করা যায় না। বিচার করতে হয় যে গ্রামের একটি অসুস্থ শিশুকে তার বাড়ির কাছেই সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া গেছে কি না, একটি পরিবারকে চিকিৎসার জন্য সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে কি না। হামের বর্তমান সংকট সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশের জন্য সুখকর কোনো বার্তা দিতে পারছে না।

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। কিন্তু আরও উদ্বেগের বিষয়, এই প্রাদুর্ভাব আমাদের বহুদিনের উপেক্ষিত এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে যখন ৮৯ শতাংশ পরিবার ঋণ নেয়, ৬১ শতাংশ পরিবার সঞ্চয় ভেঙে ফেলে তখন বোঝা যায়, রোগের চেয়ে বড় অসুখ আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভঙ্গুরতা ও সামাজিক সুরক্ষার দুর্বলতা।
সরকারি হাসপাতালে হামের চিকিৎসা বিনা মূল্যে—এ কথা আংশিক সত্য। চিকিৎসা শুধু হাসপাতালের বেড বা ওষুধে সীমাবদ্ধ নয়। রংপুরের একটি পরিবারকে যখন রোগী নিয়ে ঢাকায় আসতে হয়, তখন যোগ হয় যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সবচেয়ে বড় কথা, উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ক্ষতি। একজন দিনমজুর বা রিকশাচালকের কাছে হাসপাতালে কাটানো প্রতিটি দিন মানে একটি দিনের আয় হারানো। ফলে রোগ সারলেও পরিবার ডুবে যায় ঋণের ফাঁদে।
এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়। এ হলো দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুলের ফল। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনীতি ক্রমেই হাসপাতালনির্ভর হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মিত হলেও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা হাসপাতালকে এমন পর্যায়ে নেওয়া হয়নি, যেখানে সাধারণ সংক্রামক রোগের কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। ফলে গ্রামের মানুষ শহরে ছুটতে বাধ্য হয়। এর ফলে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ বাড়ে। আর দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ও বহু গুণ বেড়ে যায়।
হামের এই সংকট আরেকটি অস্বস্তিকর সত্য সামনে এনেছে। করোনার পর মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাবারে আপস করতে বাধ্য হয়েছে। অপুষ্টিতে ভুগছেন মা, অপুষ্টিতে বড় হচ্ছে শিশু। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে বহুদিন ধরে টিকাযোগ্য একটি রোগও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। অর্থাৎ শুধু টিকার ঘাটতি নয়, পুষ্টির ঘাটতিও এখন জনস্বাস্থ্যের বড় সংকট।
আরেকটি প্রশ্নও জরুরি। একটি অসুস্থ শিশুর চিকিৎসা করাতে গিয়ে কেন একটি পরিবার সর্বস্বান্ত হবে? এর উত্তর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতায়। উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দেশ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা দরিদ্র পরিবারের জন্য জরুরি নগদ সহায়তা, যাতায়াত ভর্তুকি, পুষ্টি সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও রুয়ান্ডার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সীমিত সম্পদ নিয়েও মানুষকে চিকিৎসার কারণে দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব। বাংলাদেশের জন্যও শিক্ষা স্পষ্ট—চিকিৎসা শুধু হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক সুরক্ষারও অংশ।
হামের প্রাদুর্ভাব এক দিন নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু এই সংকট থেকে রাষ্ট্র শিক্ষা না নিলে পরবর্তী মহামারিতে আবারও প্রান্তিক মানুষ শহরে ছুটবে, ঋণ নেবে, সঞ্চয় ভাঙবে, সম্পদ বিক্রি করবে।
একটি সভ্য রাষ্ট্রের সাফল্য শুধু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ দিয়ে বিচার করা যায় না। বিচার করতে হয় যে গ্রামের একটি অসুস্থ শিশুকে তার বাড়ির কাছেই সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া গেছে কি না, একটি পরিবারকে চিকিৎসার জন্য সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে কি না। হামের বর্তমান সংকট সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশের জন্য সুখকর কোনো বার্তা দিতে পারছে না।
.png)

১২ আগস্ট ২০১৯, সোমবার। এদেশের মানুষ তথা ইছাপুর-কুসুমপুরবাসীর জন্য শোকাবহ দিন। এদিন আমরা হারিয়েছি এক মহান ব্যক্তিত্বকে। প্রখ্যাত লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও সাবেক মন্ত্রী আমাদের প্রিয় শেলী দাদা এই দিনে আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
২ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
ব্রিকস তার পরবর্তী অগ্রযাত্রা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। তবে এবার আরও বেশি অর্থায়ন জোগাড়ে নয়; বিশ্ব কীভাবে সম্পদ, স্থিতিস্থাপকতা ও অগ্রগতিকে মূল্যায়ন করবে, তার মধ্য দিয়ে ব্রিকস সামনে এগিয়ে যেতে চায়।
৬ ঘণ্টা আগে
মানবসভ্যতা সম্ভবত এখন বাস্তবতার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের তৃতীয় যুগে প্রবেশ করেছে। একসময় মানুষ কেবল বাস্তবকে প্রত্যক্ষ করত, যাপন করত। পরে শিখল সেই বাস্তবকে ক্যামেরায় ধারণ করতে। আর এখন জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ভৌত অস্তিত্বহীন ব্যাপারকে বাস্তবের মতো নতুন মানুষ, দৃশ্য ও ঘট
৭ ঘণ্টা আগে